• বৃহস্পতিবার, ২০ জুন ২০১৯, ৬ আষাঢ় ১৪২৫
ads
উৎপাদনশীল কর্মকাণ্ডে বাড়বে মূলধন জোগান!

ছবি : সংগৃহীত

ব্যাংক

বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ সুবিধা

উৎপাদনশীল কর্মকাণ্ডে বাড়বে মূলধন জোগান!

  • সাইদ আরমান
  • প্রকাশিত ১৮ মে ২০১৯

বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনায় বেসরকারি খাতে গতি আসবে। বিনিয়োগ ও বাণিজ্যে বাড়বে মূলধন জোগান। ঝিমিয়ে পড়া অনেক উৎপাদনশীল প্রতিষ্ঠান নতুন করে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে। তবে প্রজ্ঞাপনের কার্যকর করতে যাতে কোনো ধরনের গাফিলতি না হয়, সেদিকে নজরদারি ও তদারকি জরুরি। একই সঙ্গে ব্যবসায়িকভাবে লোকসানে না থাকলেও ঝুঁকি নিয়ে যারা ব্যবসা করছেন এবং ব্যাংকের দায় পরিশোধ করছেন তাদের জন্য আরো সহায়তা থাকতে হবে।

গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংক একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, যারা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে লোকসানের কারণে শোধ করছেন না, তাদের জন্য বড় সুবিধা চালু করল বাংলাদেশ ব্যাংক। বকেয়া ঋণের ২ শতাংশ টাকা জমা দিয়েই তারা ঋণ নিয়মিত করতে পারবেন। এতে সুদ হার হবে সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ। আর এক বছরের ঋণ পরিশোধে বিরতিসহ ১০ বছরের মধ্যে বাকি টাকা শোধ করতে পারবেন। আবার ব্যাংক থেকে নতুন করে ঋণও নিতে পারবেন।

আর যারা এক বছরের মধ্যে ঋণ শোধ করে দিতে চান, তাদের জন্য রয়েছে বড় ছাড়। তারা চাইলে তহবিল খরচের সমান সুদ দিয়েই বাকি টাকা শোধ করতে পারবেন। বর্তমানে ব্যাংকগুলোর তহবিল খরচের হার সাড়ে ৭ থেকে ৯ শতাংশ।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্যাংকের দায় নিয়ে অনেক ব্যবসায়ী ব্যবসা শুরু করেন। ঝুঁকি নিয়ে তারা ব্যবসায় আসেন। বিনিয়োগ করেন। অর্থনীতিতে অবদান রাখেন। তৈরি করেন কর্মসংস্থান। কিন্তু ব্যবসা পরিচালনায় অদক্ষতা ও নিয়ন্ত্রণহীনতার কারণে লোকসানে পড়েন। ফলে ব্যাংকের দায় পরিশোধ করতে পারেন না। ব্যবসায়ে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পরে। ফলে তাদের ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার উপক্রম হয়। এমন পরিস্থিতিতে আর পড়তে হবে না। উচ্চতর প্রবৃদ্ধি অর্জনে এসব সাহসী ব্যবসায়ীদের পাশে থাকবে ব্যাংক।

তবে অনেক ব্যবসায়ী বলছেন, ব্যাংকের দায় নিয়ে কঠিন সময়ে আছেন এমন ব্যবসায়ীদের জন্য সরকারের উদ্যোগ নিশ্চয়ই ইতিবাচক। কিন্তু যারা ব্যাংকের পুরোনো দায় পরিশোধ করতে নতুনভাবে দায় বাড়িয়েছেন, সম্পদ বিক্রি করে ব্যাংকের দায় পরিশোধ করে ব্যবসা করছেন তাদের জন্য আরো পদক্ষেপ দরকার। আরো প্রণোদনা জরুরি। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, ঋণ বিরূপভাবে খেলাপি হয়ে পড়ায় ঋণ বিতরণ ও আদায় কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। উৎপাদনশীল খাতে স্বাভাবিক ঋণপ্রবাহ বজায় রাখতে এবং খেলাপি ঋণ আদায়ে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, যেসব ঋণ মন্দ বা ক্ষতিকর, অর্থাৎ খেলাপি হয়ে পড়েছে, সে ক্ষেত্রে এ সুবিধা দেওয়া হবে।

এ দিকে বৃহস্পতিবার আরেকটি প্রজ্ঞাপনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঘোষণা করেছে, যেসব ব্যবসায়ী ঋণের সব কিস্তি সময়মতো পরিশোধ করেছেন, কখনোই কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হননি, তারা ‘ভালো গ্রাহক’। তাদের থেকে এক বছরে যে পরিমাণ সুদ আদায় করা হয়েছে, তার ১০ শতাংশ ফেরত দেওয়া হবে।

একাধিক ব্যাংক কর্মকর্তা বলেন, নতুন এ সুবিধার ফলে ব্যাংক খাতের সংকট যেমন কাটবে তেমনি অর্থনীতি প্রাণ পাবে। বিনিয়োগের যে ঝিমিয়ে পড়া পরিস্থিতি সেটিও আর থাকবে না। বর্তমানে ব্যাংকগুলোতে তারল্য-সংকট চলছে। কয়েকটি ব্যাংকের অবস্থা এত খারাপ যে, জমা টাকা ফেরত দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

নিজেদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি গত প্রায় এক বছরে কার্যকর করেনি ব্যাংকগুলো। বিনিয়োগকারীরা বারবার ব্যাংক মালিকদের সিদ্ধান্ত কার্যকর করার দাবি তুললেও লাভ হচ্ছে না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুবার এ নিয়ে নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু কিছুতেই কিছু হচ্ছে না। অথচ ঋণের সুদ হার এক অঙ্কে নামিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ব্যাংকগুলো একগুচ্ছ নীতি সহায়তা নিয়ে গেছে। 

ব্যবসায়ী উদ্যোক্তারা বলছেন, উৎপাদনশীল খাতে মূলধন জোগান বাড়াতেই হবে। সরকার দেশকে যেভাবে এগিয়ে নিতে চায় তার জন্য বেসরকারি খাতে সব ধরনের প্রণোদান জরুরি। সমালোচকরা যাই বলুন, সেদিকে তাকিয়ে বসে থাকলে হবে না। উন্নয়নের জন্য কিছুটা ছাড় দেওয়ার নমুনা সারা বিশ্বেই রয়েছে।

তারা বলছেন, এক অঙ্কে সুদ হার যদি নামিয়ে আনা যায় তবে তা দেশের অর্থনীতির জন্য হবে টার্নিং পয়েন্ট। বেসরকারি বিনিয়োগ বড় আকারে বাড়বে। সরকারি হিসাবমতে, বর্তমানে দেশে বেসরকারি বিনিয়োগের হার দাঁড়িয়েছে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি)-এর ২৩ দশমিক ৬৪ শতাংশ, যা সরকার আগামী ৫ বছরে নিয়ে যেতে চায় ৩৭ শতাংশে। এ জন্য বিনিয়োগকারীদের মূলধন জোগান দিতে হবে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে। কিন্তু উচ্চ সুদ ঋণ নিয়ে ব্যবসা করে টিকে থাকা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। তাই ব্যবসায়ীরা আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যমতে, দেশে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ দাঁড়িয়েছে ১২ দশমিক ৪২ শতাংশ, যা গত ৫ বছরে সর্বনিম্ন। গত ৬ মাস ধরে ধারাবাহিকভাবে কমছে বেসরকারি খাতের ঋণের প্রবৃদ্ধি। কেন্দ্রীয় ব্যাংক তার সর্বশেষ মুদ্রানীতিতে বলে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধে বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহ ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ দাঁড়াবে। কিন্তু তার থেকে অনেক দূরে প্রকৃত চিত্র।    

বর্তমানে দেশের ব্যাংকিং খাতে নানা সংকট চলছে। একটি গতিশীল অর্থনীতি আনতে নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো চলমান চক্রবৃদ্ধি হারে সুদের পরিবর্তে সরল সুদের প্রবর্তন। এ বিষয়ে কাজ করছে অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করে চলতি যেকোনো সময় থেকেই সরল সুদের ব্যাংক ঋণ দেওয়া শুরু হবে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads