• সোমবার, ১৪ অক্টোবর ২০১৯, ২৯ আশ্বিন ১৪২৬
ads
কমার্স ব্যাংকের ১১ কর্মকর্তা বরখাস্ত

ছবি : সংগৃহীত

ব্যাংক

কমার্স ব্যাংকের ১১ কর্মকর্তা বরখাস্ত

১৯০ কোটি টাকা পাচারে যোগসাজশ

  • সাইদ আরমান
  • প্রকাশিত ৩০ জুলাই ২০১৯

টেরাকোটা টাইলস রপ্তানির নামে টাকা পাচারের ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততায় বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ব্যাংকটির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি), বর্তমান উপব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ (ডিএমডি) শীর্ষ পর্যায়ের ১১ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে। ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের বিশেষ সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। বরখাস্তের এ আদেশের সিদ্ধান্ত কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। বরখাস্তকৃত কর্মকর্তারা গতকাল ব্যাংকটির মানবসম্পদ বিভাগে রিপোর্ট করেছেন।

সার্বিক বিষয়ে জানতে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুল খালেক খানকে কয়েক দফা ফোন করলেও পাওয়া যায়নি। তবে বরখাস্ত করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ব্যাংকের আরেকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। তিনি বলেছেন, সরকারের সংশ্লিষ্ট একজন ব্যক্তির পক্ষে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা ছিল। এর বেশি কিছু বলতে পারব না। তবে এখন তাদের বিষয়ে অধিকতর তদন্ত চলবে। এ ছাড়া এরই মধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বিষয়টি তদন্ত শুরু করেছে।

সাময়িক বরখাস্তকৃত কমার্স ব্যাংকের কর্মকর্তারা হলেন সাবেক এমডি ও বর্তমানে কমার্স ব্যাংক সিকিউরিটিজের এমডি আর কিউ এম ফোরকান, ডিএমডি ও প্রধান মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ পরিপালন কর্মকর্তা কাজী রিয়াজুল করিম, ট্রেজারি বিভাগের প্রধান মো. কামরুজ্জামান, প্রধান শাখার ব্যবস্থাপক আফজাল হোসেন, দিলকুশা শাখার ব্যবস্থাপক ফকির নাজমুল আলম ও অপারেশন ব্যবস্থাপক জাহাঙ্গীর আলম, নারায়ণগঞ্জ সোনারগাঁও শাখার ব্যবস্থাপক হাসান ফারুক, ঢাকার মৌলভীবাজার শাখার অপারেশন ব্যবস্থাপক রফিকুল ইসলাম, প্রধান কার্যালয়ের বাণিজ্য বিভাগের জ্যেষ্ঠ নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহিনুজ্জামান ও ফারহানা রাজ্জাক, একই বিভাগের কর্মকর্তা জামাল হোসেন। টাইলসের মাধ্যমে টাকা পাচারের সময় বরখাস্তকৃত কর্মকর্তারা সবাই দিলকুশা শাখা ও প্রধান কার্যালয়ে কর্মরত ছিলেন।

সূত্র জানায়, আন্তর্জাতিক বাজার মূল্যের চেয়ে বেশি দামে মাটির তৈরি টেরাকোটা টাইলস রপ্তানি করেছে এসবি এক্সিম নামের একটি প্রতিষ্ঠান। টাইলসের কারখানা ঝিনাইদহ হলেও এসবি এক্সিম কুমিল্লাভিত্তিক একটি গ্রুপ। এখন সেই রপ্তানির বিপরীতে ২০০ কোটি টাকা দেশে আসছে না। যদিও ওই রপ্তানি বিল কিনে প্রতিষ্ঠানটিকে ১৯০ কোটি টাকা দিয়েছে বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের দিলকুশা শাখা। দেশে ও বিদেশে সেই অর্থের সুবিধাভোগী গ্রাহকের নাম শাহজাহান বাবলু। এসবি গ্রুপের চেয়ারম্যান তিনি। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, শাহজাহান বাবলু বাংলাদেশের একজন বিজনেস মেগনেট। দুবাই ও সিঙ্গাপুরে তার পাঁচ ধরনের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান আছে।

কমার্স ব্যাংকের মালিকানায় আছে সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। এর সিংহভাগ শেয়ারের অংশীদার রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী, জনতা, অগ্রণী ও স্বায়ত্তশাসিত বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান। ২০১৫ সাল পর্যন্ত ব্যাংকটির ৪০ শতাংশ শেয়ার ছিল বিকল্পধারা বাংলাদেশের মহাসচিব মেজর (অব.) আবদুল মান্নানের ১৫ প্রতিষ্ঠান, এমজিএইচ গ্রুপের আট প্রতিষ্ঠান এবং আনোয়ার গ্রুপের মালিকানাধীন সিটি জেনারেল ইন্স্যুরেন্সসহ ৩৯ প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির কাছে। ২০১৬ সালের শুরুতে বেসরকারি সব শেয়ার কিনে নেয় চট্টগ্রামভিত্তিক একটি গ্রুপ।

ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসাবে অবলুপ্ত বাংলাদেশ কমার্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড (বিসিআইএল) প্রতিষ্ঠা হয় ১৯৮৬ সালের শুরুতে। সংকটে পড়লে ১৯৯২ সালের একই মাসে এর কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করা হয়। সরকার পরে বাংলাদেশ কমার্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডকে বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক লিমিটেড হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে। তফসিলি ব্যাংক হিসেবে বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক লিমিটেড ১৯৯৯ সালের ১৬ সেপ্টেম্বরে কার্যক্রম শুরু করে।

জানা গেছে, ব্যাংকটিকে বাঁচাতে বাংলাদেশ ব্যাংক একজন পর্যবেক্ষক নিয়োগ দিয়েছে এর পরিচালনা পর্ষদে। কিন্তু নানা কারণে পর্ষদও সেখানে দায়িত্ব পালন করতে পারছে না। ব্যাংকটি আদৌ ঘুরে দাঁড়াতে পারবে কি না তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads