• বুধবার, ২৩ অক্টোবর ২০১৯, ৭ কার্তিক ১৪২৬
ads
ঋণ ফেরত না দিলে ছাড় নয় : অর্থমন্ত্রী

ছবি : সংগৃহীত

ব্যাংক

ঋণ ফেরত না দিলে ছাড় নয় : অর্থমন্ত্রী

বন্ধ হবে বেসিক ব্যাংকের লোকসানি শাখা

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ০২ আগস্ট ২০১৯

যারা ব্যাংকের ঋণ নিয়ে ফেরত দিচ্ছেন না, তাদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেছেন, যারা বেনামে ঋণ নিয়েছে টাকা ফেরত না দেয়ার জন্য; তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। তাদের পেছনে আমরা এজেন্সির লোক নিয়োগ দেব। দেশ-বিদেশে যেখানেই থাকুক, তাদের খুঁজে বের করা হবে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। আমরা ঋণ আদায় সহজ করে দেব কিন্তু ঋণ মাফ করতে পারব না।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর মতিঝিলে রাষ্ট্রায়ত্ত বেসিক ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেন অর্থমন্ত্রী। সেখানে দেওয়া বক্তব্যে এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী। মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর কোনো ব্যাংকের অভ্যন্তরে এটিই তার প্রথম অনুষ্ঠান।

অর্থমন্ত্রী বলেন, গত দুই বছর বেসিক ব্যাংকের যেসব শাখা লোকসান দিয়েছে এ বছরও যদি তারা লোকসান দেয়, তাহলে ওইসব শাখা বন্ধ করে দেওয়া হবে। বর্তমানে ব্যাংকটির প্রায় ৩৬টি শাখা লোকসানে আছে।

তিনি আরো বলেন, বেসিক ব্যাংকে স্পেশাল অডিট করা হবে। অনিয়ম দুর্নীতির সঙ্গে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কম হলেও শাস্তি দেওয়া হবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত অনেক দুর্নীতি হয়েছে। সে সময়ে নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে যেসব ব্যাংক কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং বেনামে ঋণ দেওয়া হয়েছে সেসব শাখাগুলো এখন আর লাভ করতে পারছে না। ওই শাখাগুলোর মধ্যে যেগুলো গত দুই বছর এবং বর্তমান বছরে লাভ দেখাতে ব্যর্থ হবে সেগুলো বন্ধ করে দেওয়া হবে। যারা দুই বছর ধরে লোকসানে আছেন তারা এই বছর সতর্ক হয়ে যান। বর্তমানে ব্যাংকটির মোট লোকসানের পরিমাণ ৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। ২০১৮ সালেও ব্যাংকটি লোকসান করেছে ৩৫৬ কোটি টাকা।

তিনি বলেন, সময় খারাপ হবে, আপনাদের সিদ্ধান্তও তত কঠিন হবে। একটি ব্যাংক দীর্ঘদিন খারাপ অবস্থায় থাকতে পারে না। এই অবস্থা থেকে উত্তরণের সিদ্ধান্ত আপনাদেরকেই নিতে হবে।

অনুষ্ঠানে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, ব্যাংক ইচ্ছা করলে খেলাপি ঋণ আদায় করতে পারে। ঋণ আদায়ে শক্ত হতে হবে। বর্তমানে দুই শতাংশ ডাউন পেমেন্টে ঋণ পুনঃতফসিলের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এটি গ্রহণ করে কেউ যদি আসে তাহলে সহায়তা করা হবে। এত দুর্নাম নিয়ে একটি প্রতিষ্ঠান চলতে পারে না। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, সরকারি চাকরিজীবীদেরও ব্যবস্থা নেওয়া যায়। যেসব কর্মকর্তা কাজ না করবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে বেসিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন এ মজিদ বলেন, বেসিক ব্যাংকে বেশ কিছু ঋণের অনিয়ম হয়েছিল। আমরা অনিয়মগুলো চিহ্নিত করে ঋণ আদায় ও পুনঃতফসিল করি। কিন্তু দেখা গেছে পুনঃতফসিল করা ঋণও আবার খেলাপি হয়ে যাচ্ছে। এখন নন পারফরম্যান্স লোন ৫৯ শতাংশে এসেছে। পূর্বে যা ছিল ৬৭ শতাংশ। এ অবস্থায় আমাদের মূলধন সহায়তা প্রয়োজন। তা পেলে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারব।

ব্যাংকের সার্বিক আর্থিক পরিস্থিতি তুলে ধরেন প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. রফিকুল আলম। এ সময় অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. আসাদুল ইসলাম ও অতিরিক্ত সচিব ফজলুল হক উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads