• সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০১৯, ৫ কার্তিক ১৪২৬
ads
সিআইবি ব্যবস্থাপনায় বিশৃঙ্খলা

ছবি : সংগৃহীত

ব্যাংক

সিআইবি ব্যবস্থাপনায় বিশৃঙ্খলা

  • সাইদ আরমান
  • প্রকাশিত ০৬ আগস্ট ২০১৯

ঋণ ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনতে ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো (সিআইবি) অনলাইনে আনা হলেও অব্যবস্থাপনা দূর হয়নি। অথচ দীর্ঘ প্রায় ৭ বছর আগে আর্থিক খাতে ঋণ ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফেরাতে অনলাইনে আনা হয় এ কার্যক্রম। কিন্তু পদ্ধতি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, এখনো গ্রাহকবান্ধব করা যায়নি সিআইবি। আবার ব্যাংকগুলোও বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা মেনে সঠিকভাবে গ্রাহকের সিআইবি হালনাগাদ করছে না।

সূত্র বলছে, কিছু ব্যাংক গ্রাহকের সিআইবি সঠিকভাবে ও সঠিক সময়ে হালানাগাদ করে না। ফলে অনেক গ্রাহক ঋণখেলাপির তালিকায় থাকছেন। আবার ভুল তথ্য দিয়ে অনেক গ্রাহককে সিআইবিতে ভালো গ্রাহক হিসেবে দেখিয়ে যাচ্ছেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রতি মাসে গ্রাহকের সিআইবি হালনাগাদ করার কথা তফসিলি ব্যাংকগুলোর। কিন্তু অনেক ব্যাংক সেটি করে না। গ্রাহকের ঋণ তথ্য হালানাগাদ করে পরের মাসের ২০ তারিখের মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিস্টেমে আপডেট দেওয়ার কথা। তবে নির্ধারিত সময় পরেও গ্রাহক ঋণের দায় আংশিক কিংবা পুরোপুরি পরিশোধ করলে তা হালনাগাদ করার সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক সেটি আবেদনের ভিত্তিতে করে থাকে। কিন্তু ব্যাংকগুলো সঠিক নিয়ম মানছে না অনেক সময়। ফলে সিআইবি কার্যক্রমে গ্রাহকের স্বার্থ পুরোপুরি রক্ষা হয়নি।

একজন ব্যবসায়ী আলাপকালে বলেন, সিআইবিতে গ্রাহকের তথ্য যেভাবে থাকা দরকার সেটি নেই। ব্যাংকগুলোও গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণা করে। একজন গ্রাহক হিসেবে আমি ঋণের যে পরিমাণই পরিশোধ করি তা হালানাগাদ করা দরকার। সেটি হয় না। তাছাড়া আমি ঋণের বিপরীতে ব্যাংকে যে জামানত দিয়েছি তাও সিআইবিতে আনা হচ্ছে না।  

অবশ্য বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেছেন, সিআইবি কার্যক্রমের ফলে আর্থিক খাতের ঋণে শৃঙ্খলা ফিরেছে অনেকটা। কিছু ক্রটিবিচ্যুতি থাকলে তা খতিয়ে দেখে সমাধান করা হবে।

সূত্র জানায়, এমন পরিস্থিতিতে সিআইবি আইনি কাঠামোতে আনতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সিআইবি ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো ত্রুটি নেই। ভুল ও গাফিলতি করে ব্যাংকগুলো। যার ফলে অনেক গ্রাহকের তথ্য সঠিকভাবে আসছে না। অনেক সময় বলা হয় ঋণখেলাপিরা পার পেয়ে যাচ্ছেন। এটি সঠিক নয়। এটি হয় ব্যাংকগুলোর গাফিলতিতে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র জানায়, বর্তমানে সিআইবি পরিচালিত হয় বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীনে একটি বিভাগ হিসেবে। একজন মহাব্যবস্থাপক এর প্রধান। এছাড়া আছেন অন্য সব কর্মকর্তা। এ বিভাগ থেকে বিভিন্ন সময় সার্কুলার ও গাইডলাইন জারির মাধ্যমে এর কার্যক্রম পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয়। সিআইবি সনদ ছাড়া যাতে কেউ ঋণ নিতে না পারেন, খেলাপি হলে সে তথ্য যাতে সিআইবিতে জানানো হয়, এসব বিধান করে সব প্রতিষ্ঠানকে এর আওতায় আনা এখন জরুরি হয়ে পড়েছে।

সর্বশেষ হিসাবমতে, দেশে বেসরকারি খাতে ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১০ লাখ কোটি। ঋণ হিসাব রয়েছে এক কোটি ৮ লাখ। বর্তমানে এক টাকা ঋণ থাকলেও সিআইবিতে আনতে হবে বলে নির্দেশনা রয়েছে। তবে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের তথ্য সিআইবিতে থাকলেও অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর কোনো তথ্য সিআইবিতে নেই। ফলে ওইসব প্রতিষ্ঠান থেকে কেউ ঋণ নিয়ে খেলাপি হলে বা বেশি মাত্রায় একাধিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিলে তা শনাক্ত করার উপায় নেই। এতে একই ব্যক্তি মিথ্যা তথ্য দিয়ে একাধিক প্রতিষ্ঠান থেকে বা ঋণ খেলাপি হলেও নতুন ঋণ নিতে পারেন।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads