• শনিবার, ২৪ আগস্ট ২০১৯, ৯ ভাদ্র ১৪২৫
ads
রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে এমডি হওয়ার দৌড়ে ১৪ প্রার্থী

সংগৃহীত ছবি

ব্যাংক

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে এমডি হওয়ার দৌড়ে ১৪ প্রার্থী

  • সাইদ আরমান
  • প্রকাশিত ০৭ আগস্ট ২০১৯

রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হতে চান ১৪ কর্মকর্তা। তারা এখন বিভিন্ন ব্যাংকে উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) হিসেবে রয়েছেন। ডিএমডি থেকে এমডি হতে চান এমন ১৪ প্রার্থীকে আজ বুধবার সাক্ষাৎকারের জন্য ডাকা হয়েছে। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিবের সভাপতিত্বে গঠিত সার্চ কমিটি এসব প্রার্থীর সাক্ষাৎকার নেবেন বেলা ১১টায়।

রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংক হিসেবে রয়েছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, আনসার ভিডিপি ব্যাংক, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক ও কর্মসংস্থান ব্যাংক। আর আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে রয়েছে মাইক্রোক্রেডিট ডেভেলপমেন্ট অথরিটি, বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশন, ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন বাংলদেশ, সাধারণ বীমা করপোরেশন, জীবন বীমা করপোরেশন এবং বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ক্যাপিটাল মার্কেট।

জানা গেছে, এমডি হতে আগ্রহীদের তালিকায় রয়েছেন অগ্রণী ব্যাংকের ডিএমডি মো. ইউসুফ আলী, আনিসুর রহমান, ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন বাংলাদেশের (আইসিবি) মোসাদ্দেক-উল আলম, রূপালী ব্যাংকের মো. জাহাঙ্গীর আলম, বেলায়েত হোসেন ও মো. মোরশেদ আলম খন্দকার, সোনালী ব্যাংকের কামরুজ্জামান চৌধুরী, এ কে এম সাজেদুর রহমান ও মো. এবনুজ জাহান, জনতা ব্যাংকের মো. জিকরুল হক, তাজুল ইসলাম, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের আফজাল করিম, বিডিবিএলের আবদুল মতিন, মিজানুর রহমান।

এদিকে ব্যক্তিগত হিসাব-নিকাশ কষছেন সরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকের এমডিরা। স্নায়ু চাপে দিন যাচ্ছে সরকারি ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীদের। চলতি মাসেই তিনটি সরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকের এমডির চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। ব্যাংকগুলো হচ্ছে—সোনালী, অগ্রণী ও রূপালী। এ ছাড়া বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (বিডিবিএল) ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকে এমডি নেই। টানাপড়েনের পর বেসিক ব্যাংকে এমডি যোগ দিয়েছেন সম্প্রতি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সরকারি ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীর পদ নিয়ে নানা গুঞ্জন চলছে। ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ, মোহাম্মদ শামস-উল ইসলাম ও মো. আতাউর রহমান প্রধান যথাক্রমে সোনালী, ব্যাংকের অগ্রণী ও ও রূপালী ব্যাংকের এমডি হিসেবে রয়েছেন। ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদের নিয়োগ বাড়বে কি না তা নিয়ে শঙ্কা আছে। তার স্থলে এই ব্যাংকে নতুন এমডি আসার সম্ভাবনা রয়েছে রূপালী ব্যাংকের এমডি মো. আতাউর রহমান প্রধানের। সরকারি ব্যাংকের এমডিদের মধ্যে তিনি এরই মধ্যে ভালো দক্ষতা দেখিয়েছেন। লোকসানে থাকা রূপালী ব্যাংককে তিনি মুনাফায় ফিরিয়ে এনেছেন। গত তিন বছরে ব্যাংকটি আর্থিক সূচকে দৃশ্যমান উন্নতি করেছে, যা সর্বমহলে স্বীকৃতি পেয়েছে। তবে চুক্তির মেয়াদ বাড়িয়ে সরকার তাকে রূপালী ব্যাংকেই বহাল রাখতে পারে।

সাম্প্রতিক সময়ে অগ্রণী ব্যাংকের কিছু অনিয়ম সংবাদমাধ্যমে বেরিয়ে এসেছে। ফলে ব্যাংকটির এমডি মোহাম্মদ শামস-উল ইসলামের মেয়াদ বাড়বে কি না তা নিয়ে ব্যাংকের ভেতরে আলোচনা রয়েছে। ব্যাংকে বঙ্গবন্ধু কর্নার স্থাপন করে ব্যাপক আলোচিত তিনি। তার এই উদ্ভাবনকে সরকার কাজে লাগিয়ে সারা দেশে ছড়িয়ে দিয়েছে। এ কারণে তিনি সরকারের সুনজরে আছেন।

নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো জানিয়েছে, সরকারি ব্যাংকের এমডি হিসেবে আবার নিয়োগ পেতে অথবা নতুন নিয়োগ পেতে অনেকেই দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। নিজেদের পক্ষে সরকারের প্রভাবশালীদের সুপারিশ বাড়াতে বিভিন্ন দপ্তরে গোপনে যোগাযোগ রাখছেন।

একটি সরকারি ব্যাংকের এমডি আলাপকালে জানান, চাকরির চুক্তির মেয়াদ বাড়বে কি না সেই চিন্তা করছি না। যতদিন আছি ব্যাংকটির উন্নতি নিয়ে কাজ করছি। যোগ্যতা ও দক্ষতায় যদি নিয়োগ পাই সেটি ভালো। নতুন মেয়াদে ব্যাংকটিকে আরো এগিয়ে নিয়ে যেতে পারব। জানতে চাইলে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলাম বলেন, সার্চ কমিটি এই সাক্ষাৎকার নেবে। যোগ্য যারা কেবল তাদের ব্যাপারেই প্রস্তাব যাবে। এর বেশি কিছু বলা যাচ্ছে না।

 

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads