• মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর ২০১৯, ২৭ কার্তিক ১৪২৬
ads
প্রাইম ব্যাংকের এমডির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

ছবি : সংগৃহীত

ব্যাংক

প্রাইম ব্যাংকের এমডির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

  • সাইদ আরমান
  • প্রকাশিত ২২ আগস্ট ২০১৯

 

দুর্নীতি, অন্যায়, অনিয়ম ও নিয়োগ বাণিজ্যসহ গুরুতর অভিযোগ উঠেছে বেসরকারি খাতের প্রাইম ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী রাহেল আহমেদের বিরুদ্ধে। শুধু অভিযোগেই থেমে থাকেনি বিষয়টি। গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত। আদালত বিষয়টি তদন্ত করতে নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশকে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে রাহেল আহমেদকে কয়েক দফা ফোন করলেও তিনি ধরেননি।

জানা যায়, ব্যাংকটির ভাইস-প্রেসিডেন্ট ও ইস্কাটন শাখার ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী আজহারুল ইসলাম রাহেল আহমেদের বিরুদ্ধে মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে গেছেন এসব অভিযোগের বিচার চেয়ে। একই সঙ্গে গত ১৮ আগস্ট এই কর্মকর্তা প্রাইম ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, প্রাইম ব্যাংকের নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান ও পরিচালকদেরকেও অভিযোগের অনুলিপি দিয়েছেন।

সূত্রে জানা গেছে, আদালতের দারস্থ হওয়ার পর এবং এমডির বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট মহলগুলোতে লিখিত অভিযোগ দায়েরের পর রাহেল আহমেদ তাকে নানাভাবে হুমকি দিচ্ছেন। এ ব্যাপারে তিনি রমনা থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছিলেন।

জিডির তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে জানান, আজহারুল ইসলাম স্বাধীনতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধ মামলার একজন বাদী। পূর্ব থেকেই রাহেল আহমেদের সঙ্গে তার শত্রুতা রয়েছে। গোপনে ও প্রকাশ্যে তদন্তে বিষয়টির সত্যতা পেয়েছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত তদন্ত কর্মকর্তা। আজহারুল ইসলামের অভিযোগের সত্যতা আছে বলেও আদালতকে রমনা থানা থেকে জানানো হয়। ব্যাংকের সাবেক ও বর্তমান অনেক কর্মকর্তা জিজ্ঞাসাবাদে রাহেল আহমেদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলোর সপক্ষে কথা বলেছেন। কিন্তু চাকরি নিয়ে চাপে পড়বেন চিন্তা করে কেউ প্রকাশ্যে কথা বলতে চাচ্ছেন না।

সূত্রে জানা গেছে, বিষয়টি নিয়ে আজহারুল ইসলাম বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে প্রতিকার চান। এ ঘটনায় তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেও একটি লিখিত চিঠি দেন বলে জানা যায়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে এরই মধ্যে। এরপর থেকে রাহেল আহমেদের সমর্থকরা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। বিষয়টি সম্পর্কে জানতে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রাইম ব্যাংকে চিঠি দিয়েছে। তদন্ত শুরু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক গোবিন্দ লাল গাইনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

জানতে চাইলে প্রাইম ব্যাংকের জনসংযোগ বিভাগের প্রধান মনিরুজ্জামান টিপু বলেন, আজহারুল ইসলাম একজন ‘পাগলা’ ম্যানেজার। ‘পাগলা’ ব্যক্তিকে কীভাবে রাজধানীর ইস্কাটন শাখার ম্যানেজার করা হয়-জানতে চাইলে উত্তর না দিয়ে বলেন, তিনি মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলার বাদী। ফলে সরকার তাকে সুরক্ষা দিচ্ছে। সেটিকে তিনি ব্যবহার করছেন।

জানা যায়, রাহেল আহমেদ প্রাইম ব্যাংকের এমডি ও প্রধান নির্বাহী হিসেবে নিযুক্ত হন ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে। তার আগে তিনি ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক-ডিএমডি ও চিফ বিজনেস অফিসার (সিবিও) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আন্তর্জাতিক এবং হোলসেল ব্যাংকিংয়ের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যাংকার রাহেল আহমেদ এক দশকেরও বেশি সময় দেশের বৃহৎ বহুজাতিক ব্যাংক এএনজেড গ্রিন্ডলেজ ব্যাংক এবং স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি দুবাইয়ে সাত বছর বৃহত্তম রিজিওনাল ব্যাংক এমিরেটস এনবিডি ব্যাংকিং গ্রুপ এবং ফার্স্ট গালফ ব্যাংকের ইসলামী ব্যাংকিংসহ বিভিন্ন দায়িত্বে ছিলেন।

ব্যাংকের চেয়ারম্যানকে দেওয়া চিঠিতে আজহারুল ইসলাম বলেন, রাহেল আহমেদ তার নিকটাত্মীয়দের পদোন্নতিসহ বিভিন্নভাবে বাণিজ্য করে যাচ্ছেন। আট মাসের মধ্যে এক্সিকিউটিভ ভাইস-প্রেসিডেন্ট থেকে সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস-প্রেসিডেন্ট করে ব্যাংকিং খাতে খারাপ দৃষ্টান্ত তৈরি করেছেন।

জানা গেছে, প্রাইম ব্যাংকের উদ্যোক্তাদের মধ্যে অন্যতম আজম জে চৌধুরী। তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মামলা করে সমালোচিত হয়েছেন। বর্তমানে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান তিনি। বাংলাদেশ ব্যাংকের বেধে দেওয়া শর্ত লঙ্ঘন করে আজম জে চৌধুরী তার নিকটাত্মীয় তবারক হোসেন ভূঁইয়াকে নিয়োগ দেন উপব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে। বর্তমানে তিনি অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে কাজ করছেন।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads