• বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯, ২৮ কার্তিক ১৪২৬
ads
নীতি সহায়তার নামে প্রহসন

ছবি : সংগৃহীত

ব্যাংক

নীতি সহায়তার নামে প্রহসন

বাজারে তারল্য জোগান খুব বেশি বাড়বে না

  • সাইদ আরমান
  • প্রকাশিত ১৮ অক্টোবর ২০১৯

পুঁজিবাজারে নীতি সহায়তার নামে প্রহসন করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। দেশের টালমাটাল পুঁজিবাজারের স্থিতিশীলতা ফেরাতে উদ্যোগের নামে এই প্রহসন করা হয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে। অবশ্য বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্তের খবরে বাজার আগের থেকে কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্তের ফলে পুঁজিবাজারে যে প্রভাব পড়েছে সেটি একেবারে হুজুগ থেকে। সিদ্ধান্তের ফলে বাজারে তারল্য জোগান খুব বেশি বাড়বে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপন মোতাবেক, ব্যাংকগুলো এসএলআরের নির্ধারিত সীমার অতিরিক্ত অর্থ পুঁজিবাজারের জন্য নিতে পারবে ঋণ হিসেবে। সরকারকে দেওয়া ঋণের বিপরীতে ধারণ করা ট্রেজারি বিল ও বন্ড বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দিয়ে রেপোর মাধ্যমে তহবিল নিতে পারবে। ওই তহবিল ব্যাংক নিজে বিনিয়োগের পাশাপাশি তার সহযোগী (সাবসিডিয়ারি) কোম্পানিকে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে ঋণ দিতে পারবে।

এই তারল্য যাতে পুঁজিবাজারেই বিনিয়োগ হয়, সে জন্য ব্যাংক ও সাবসিডিয়ারিকে পৃথক বেনিফিশিয়ারি ওনার্স অ্যাকাউন্ট (বিও) খুলতে হবে। ব্যাংকসমূহের অতিরিক্ত তারল্য থেকে ট্রেজারি বন্ড বা বিল রেপোর মাধ্যমে এই তারল্য সুবিধা গ্রহণ করতে হবে। ট্রেজারি বন্ড বা বিলের রেপো মূল্যের ৫ শতাংশ মার্জিন রেখে তারল্য সুবিধা নিতে পারবে ব্যাংক। এর অর্থ সংশ্লিষ্ট ব্যাংক তার অতিরিক্ত ট্রেজারি বন্ড ও বিলের বাজারমূল্যের ৯৫ শতাংশ অর্থ রেপোর আওতায় নিতে পারবে। আর এ তহবিলের অর্থ ব্যাংকগুলো ২৮ দিন থেকে সর্বোচ্চ ৬ মাস পর্যন্ত ব্যবহারের সুযোগ পাবে।

তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, তারল্য সংকট এখনো কাটেনি। ফলে অনেক ব্যাংক নির্ধারিত সীমায় এসএলআর রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে। সেখানে অতিরিক্ত রয়েছে কেবল কয়েকটি সরকারি ব্যাংক। বেসরকারি ব্যাংক নির্ধারিত সীমায় তারল্য রাখতে ব্যর্থ হয়ে জরিমানাও গুনছে। ফলে এর প্রভাবে পুঁজিবাজারে খুব বেশি তারল্য আসবে না। তাদের মতে, পুঁজিবাজারে ব্যাংকগুলোর জোগান বাড়াতে এসএলআরের জমা টাকার ৮০ শতাংশ লিয়েনে নিয়ে ব্যাংকগুলোকে ঋণ হিসেবে দিলে অর্থ জোগান প্রকৃত অর্থে বাড়ত। আর এতে খুব বেশি ঝুঁকিও থাকত না। কারণ আমাদের বাজার পতনের নিম্নস্তরে রয়েছে। কাজেই এর থেকে বেশি পতন হবে বলে মনে হয় না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা বলছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রজ্ঞাপনটি কেবল আইওয়াশ। দুজন কর্মকর্তা এটি করেছেন। এটি পুরো একটি অকার্যকর সিদ্ধান্ত।

বাংলাদেশ ব্যাংকের রেপোর আওতায় প্রাপ্ত তহবিল ব্যাংকটি নিজে সরাসরি পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের পাশাপাশি সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠানকে বিনিয়োগের জন্য ঋণ দেবে। এজন্য ব্যাংক ও তাদের সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান সিটি ব্রোকারেজের নামে দুটি পৃথক বিও অ্যাকাউন্টও খুলেছে।

সিদ্ধান্ত মোতাবেক আগামী ৩ মাসের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক বরাবর আবেদন করার সুযোগ রাখা হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মতে, ব্যাংক খাতে এখন অর্থ সংকট চলছে, যার প্রভাব পুঁজিবাজারে পড়েছে। এটি দূর করতে হলে মুদ্রাবাজার সংস্কার করতে হবে। গত ১০-১২ বছরে মুদ্রাবাজারে কোনো সংস্কার হয়নি।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সদস্য ও ব্রোকারেজ হাউজের মালিকদের সংগঠন ডিএসই ব্রোকারেজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) সাবেক সভাপতি আহমেদ রশিদ লালী গতকাল বাংলাদেশের খবরকে বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের রেপোর অর্থ আসছে এটা ভালো খবর। এটা বিনিয়োগকারীদের কিছুটা স্বস্তি দেবে। এটাকে আমরা স্বগত জানাই। তবে ব্যাংকগুলোর আগ্রহ দেখছি না। ফলে সুফল আদৌ কবে আসবে বুঝতে পারছি না।

অবশ্য এরই মধ্যে বেসরকারি সিটি ব্যাংককে ৫০ কোটি টাকার তহবিল ছাড় দিয়েছে। ব্যাংকটি নিজস্ব পোর্টফোলিওতে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে পারবে।

অবশ্য বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ চিন্তা করে সব সময় পুঁজিবাজারবান্ধব সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে।

ব্যাংকগুলো ১০০ টাকা আমানত নিলে সাড়ে ৮১ টাকা বিনিয়োগ করতে পারে। বাকি সাড়ে ১৮ টাকা বাধ্যতামূলকভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে সংরক্ষণ করতে হয়। মূলত আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষার্থেই এমন বিধান রয়েছে ব্যাংকিং খাতে। সাড়ে ১৮ টাকার মধ্যে সাড়ে ৫ টাকা নগদে সংরক্ষণ করতে হয়। যাকে ব্যাংকিং ভাষায় সিআরআর বা নগদ জমার হার বলে। বাকি ১৩ টাকা সম্পদ দিয়ে সংরক্ষণ করতে হয়। আর এটাকে ব্যাংকিং ভাষায় এসএলআর বলে। এ সম্পদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে ট্রেজারি বিল ও বন্ড। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে মোট ৩৫০টি কোমপানির ১০ কোটি ৫ লাখ ৫১ হাজার ৭০১ টি শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয়েছে গতকাল। ডিএসইতে মোট লেনদেনের পরিমাণ ৩১৩ কোটি ১৪ লাখ ৬ হাজার ৩৮৮ টাকা। ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের কার্যদিবসের চেয়ে ১০ দশমিক ৬৩ পয়েন্ট কমে ৪ হাজার ৭৭১ পয়েন্ট, ডিএস-৩০ মূল্য সূচক ৬ দশমিক ৪৪ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৬৭৯ দশমিক শূন্য ২ পয়েন্ট দাঁড়িয়েছে। লেনদেনকৃত  কোমপানির মধ্যে দাম বেড়েছে  ১৪৫টির, কমেছে ১৬২ টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৪৩টি কোম্পানির শেয়ার।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads