• বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯, ২৮ কার্তিক ১৪২৬
ads

ব্যাংক

আড়াই হাজার কোটি টাকা ঋণে বিশেষ ছাড়

এননটেক্সকে নামমাত্র ডাউনপেমেন্টে পুনঃতফসিল

  • সাইদ আরমান
  • প্রকাশিত ২৩ অক্টোবর ২০১৯

যে এননটেক্স রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংককে ডুবিয়েছে, সেই এননটেক্সকে আবারো বিশেষ সুবিধা দিচ্ছে ব্যাংকটি। খেলাপি ঋণের প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা পুনঃতফসিল করা হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটির। পুনঃতফসিল প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত। নামমাত্র ডাউনপেমেন্ট নিয়ে এই সুবিধা পাচ্ছে এননটেক্স। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। আদায় না করে এর আগেও বারবার পুনঃতফসিল করা হয়েছে ঋণগুলো। এননটেক্সের ২২ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রকল্প ঋণ রয়েছে ১৭টির নামে।

জানতে চাইলে জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুছ ছালাম আজাদ বাংলাদেশের খবরকে গত সোমবার টেলিফোনে বলেন, আমরা এননটেক্স-এর ঋণগুলো কীভাবে আদায় করা যায় তার পরিকল্পনা নিয়েছি। এরই মধ্যে কিছু টাকা নগদ আদায় হয়েছে। কিছু ঋণ পুনঃতফসিল করে দেওয়া হয়েছে। সরকারের ঘোষিত ২ শতাংশ ডাউনপেমেন্টে প্রতিষ্ঠানটির প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা পুনঃতফসিল চূড়ান্ত পর্যায়ে। এটি হয়ে যাবে আশা করি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, একটি প্রতিষ্ঠানকে এভাবে জালিয়াতির মাধ্যমে বড় অঙ্কের ঋণ দিয়ে জনতা ব্যাংক আজ কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে। জনতা ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তাই এর সঙ্গে জড়িত। এমনকি জনতা ব্যাংকের পর্ষদও এই কাণ্ডের সঙ্গে জড়িত।

আবদুছ ছালাম বলেন, এননটেক্সের সঙ্গে বিদ্যমান সংকট আশা করি দূর হয়ে যাবে। ঋণপত্র-এলসির বিপরীতে পণ্য আসার পর ব্যাংকের টাকা আদায় না করে ফোর্স ঋণ করা হয়েছে এননটেক্স-এর জন্য। ঋণ আদায়ের উদ্যোগ না নিয়ে পরিচালনা পর্ষদ এসব ঋণ বারবার পুনঃতফসিল করে মেয়াদিতে পরিণত করেছে। বিভিন্ন ব্যক্তির মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান দেখিয়ে কৌশলে পর্ষদের গোচরেই বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা ভাঙা হয়েছে।

পরিদর্শন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে স্বাক্ষরিত এমওইউ অনুযায়ী জনতা ব্যাংক তার মোট মূলধনের সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ ফান্ডেড ঋণ দিতে পারে। গত ডিসেম্বর পর্যন্ত চার হাজার ২৩৩ কোটি টাকা মূলধনের বিপরীতে সর্বোচ্চ ৪২৩ কোটি টাকা ঋণ দেওয়ার সুযোগ ছিল। অথচ মোহাম্মদ ইউনুছ বাদলের মালিকানাধীন এননটেক্স গ্রুপকে পাঁচ হাজার ৬০০ কোটি টাকা ঋণের মধ্যে ফান্ডেড ছিল চার হাজার ৮০৫ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, এননটেক্স এখন জনতা ব্যাকের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারের বিশেষ ঘোষণায় আপাতত সুযোগ নিলেও এতে জনতা ব্যাংকের খুব বেশি লাভ হবে না। দীর্ঘমেয়াদে এই ঋণ আদৌ আদায় হবে কি না সেই প্রশ্ন থাকছে। প্রতিষ্ঠানটির সংশ্লিষ্টরা ঘুরে দাঁড়াতে আবারো সরকারের আনুকূল্য চেয়েছেন। চিঠি দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামালকে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদনে এননটেক্সের ছয়টি প্রতিষ্ঠানের কাঁচামাল আমদানির জন্য বিভিন্ন সময়ে এলসি খোলা হয়। এমনকি মঞ্জুরিপত্রের শর্তের আলোকে গ্রাহকের কাছ থেকে এলসি মার্জিনও নেওয়া হয়নি। কাঁচামাল থেকে পণ্য প্রস্তুতের পরও দেনা আদায়ে ব্যবস্থা নেয়নি ব্যাংক। এভাবে সৃষ্ট অনেক ফোর্স লোন খেলাপি হলেও তা আমলে না নিয়ে নতুন করে এলসি খোলা হয়েছে। ২০১৩ সাল থেকে এ প্রবণতা দেখা গেলেও পরবর্তী সময়ে এসব ঋণ আদায়ের উদ্যোগ না দিয়ে পরিচালনা পর্ষদ থেকে বারবার পুনঃতফসিল করে ফোর্স ঋণকে মেয়াদি ঋণে পরিণত করা হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. আবুল বারকাত ২০০৯ সালের ৯ সেপ্টেম্বর থেকে দুই মেয়াদে পাঁচ বছর জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি চেয়ারম্যান থাকা অবস্থায় এননটেক্স গ্রুপের ঋণ পাঁচ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছিল। আবুল বারকাতের পর ব্যাংকটির চেয়ারম্যান হন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য সচিব শেখ মো. ওয়াহিদ-উজ-জামান। বর্তমানে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান ড. জামাল উদ্দিন আহমেদ।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads