• মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর ২০১৯, ২৭ কার্তিক ১৪২৬
ads
আর্থিক অন্তর্ভুক্তি প্রসার করছে এজেন্ট ব্যাংকিং

সংগৃহীত ছবি

ব্যাংক

আর্থিক অন্তর্ভুক্তি প্রসার করছে এজেন্ট ব্যাংকিং

  • সাইদ আরমান
  • প্রকাশিত ০৫ নভেম্বর ২০১৯

আকলিমা খাতুন। টাঙ্গাইলের প্রান্তিক গ্রামে তার বাড়ি। ভাবেননি নিজের একটি ব্যাংক হিসাব থাকবে। কিন্তু আকলিমার ব্যাংক হিসাব আজ বাস্তবে। একটি বেসরকারি ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের গ্রাহক তিনি। করছেন নিয়মিত লেনদেন। শাখাবিহীন ব্যাংকিং সেবা কার্যক্রম-এজেন্ট ব্যাংক আজ সেবা নিয়ে গেছে আকলিমাদের কাছে, প্রান্তিক পর্যায়ে। যা আর্থিক অন্তর্ভুক্তি কার্যক্রমকে প্রসারিত করছে। আর সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম। 

অর্থনৈতিক মুক্তি সরকারের বিভিন্ন রূপকল্পের অন্যতম লক্ষ্য। ২০২১ সালে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার অভিপ্রায়ে বিভিন্ন কার্যক্রম ও উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। সেই উদ্যোগের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য দেশের সব পর্যায়ের জনগণকে অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় শামিল করার অভিপ্রায়ে আর্থিক অন্তর্ভুক্তিমূলক বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। যা দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অত্যন্ত সময়োপযোগী উদ্যোগ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের চলমান আর্থিক অন্তর্ভুক্তি কার্যক্রমের আওতায় ব্যাংকিং সেবাকে ব্যয় সাশ্রয়ীভাবে সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য স্থির করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৩ সাল থেকে এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম গ্রহণ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রমের জন্য অনুমোদনপ্রাপ্ত তফসিলি ব্যাংকের এজেন্ট নিয়োগের মাধ্যমে জনগণকে ব্যয়সাশ্রয়ী, নিরাপদ ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিং সেবা দিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে ১৯টি ব্যাংক এই সেবা দিয়ে যাচ্ছে। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতিশীলতা আনা, কর্মসংস্থান তৈরি, দারিদ্র্য বিমোচন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের ভূমিকা রাখছে এসব ব্যাংক।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম গ্রামাঞ্চলসহ সর্বত্র বেশ জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠেছে। ফলে সময়ের সঙ্গে এর ব্যাপ্তিও বেড়ে চলেছে। 

উদ্ভাবনী এই সেবার মাধ্যমে কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে নাজমা আকতারের। এক নারীর উদ্যোক্তা হওয়ার গল্প রচনা করেছেন যিনি। গতানুগতিক কোনো উদ্যোগ হাতেও নেননি। উদ্যোক্তা হওয়ার আগে বিবেচনা করেছেন সম্মানজনক কিছু করার। মনে রেখেছিলেন সেবা দেওয়ার বিষয়টি। বেসরকারি খাতের মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক (এমটিবি) এজেন্ট ব্যাংক শুরু করলে যোগাযোগ করেন ব্যাংকটির সঙ্গে। ব্যাংকও নাজমা আকতারের স্বপ্ন আর মনোভাবে সায় দিয়েছেন। যুক্ত করেছেন এজেন্ট হিসেবে। এভাবে গৃহিণী থেকে উদ্যোক্তা হয়ে উঠেছেন নাজমা আকতার। আর শাখার বাইরে ব্যাংকিং সেবা দিয়ে যাচ্ছেন প্রান্তিক মানুষকে।

ব্যাংকাররা বলছেন, অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে চাইলে সবাইকে ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনতে হবে। এখনো বিপুল জনগোষ্ঠী সেবার বাইরে রয়েছেন। তবে প্রান্তিক পর্যায়ে ভৌত অবকাঠামোর পর্যাপ্ততার অভাবে প্রথাগত ব্যাংকিং সেবা পুরোপুরি বিকশিত করা সম্ভব নয়। সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কাজী ওসমান আলী বাংলাদেশের খবরকে বলেন, দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে এজেন্ট ব্যাংকিং সেবা। প্রথমে শুধু পল্লী এলাকায় এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট চালু হলেও সাম্প্রতিক সময়ে পৌর ও শহরাঞ্চলেও এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট চালু হচ্ছে। এসএমই ও মাইক্রো ফিন্যান্সের মাধ্যমে বিনিয়োগ সুবিধাসহ নানা ব্যাংকিং সেবা প্রদান করা হচ্ছে। এতে লেনদেনের পাশাপাশি বাড়ছে গ্রাহক সংখ্যাও।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ হিসাব বলছে, বর্তমানে ২০টি ব্যাংক শাখাবিহীন এই ব্যাংকিং কার্যক্রমের অনুমোদন পেয়েছে। যার একটি বাদে ১৯টি কার্যক্রম শুরু করেছে। এসব ব্যাংকের মোট আউটলেট সংখ্যা প্রায় সাড়ে সাত হাজার। অপরদিকে এজেন্ট কাজ করছে প্রায় ১০ হাজার। আর হিসাবধারীর সংখ্যা প্রায় ৪০ লাখ। শহরের থেকে কয়েকগুণ বেশি হিসাব গ্রামে। 

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, এজেন্ট ও আউটলেট বিস্তৃতির দিক থেকে ব্যাংক এশিয়া শীর্ষে অবস্থান করছে। তবে হিসাব সংখ্যার বিবেচনায় ডাচ্-বাংলা ব্যাংক এগিয়ে। হিসাব খোলার সংখ্যার ভিত্তিতে ব্যাংক এশিয়া দ্বিতীয় ও ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। উল্লেখিত তিনটি ব্যাংকের এজেন্ট আউটলেটের মাধ্যমে মোট হিসাবের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ পরিচালিত হচ্ছে।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মোট গ্রাহকের ৩ শতাংশ হিসাবধারী হচ্ছে সাধারণ দিনমজুর। আর ২৯ শতাংশ গ্রাহক হলো বিভিন্ন ছোট ব্যবসায়। মোট গ্রাহকের ৭ শতাংশ কৃষক ও ১৮ শতাংশ গৃহিণী।

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads