• রবিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৯, ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
ads

ব্যাংক

খেলাপি ঋণ কমানোর ফন্দি এবিবির

এমডিদের সঙ্গে গভর্নরের বৈঠক

  • সাইদ আরমান
  • প্রকাশিত ০৮ নভেম্বর ২০১৯

কাগজে-কলমে খেলাপি ঋণ কমানোর ফন্দিতে যাচ্ছে দেশের তফসিলি ব্যাংকগুলো। খেলাপি ঋণ ব্যাংকের খাতা থেকে সরিয়ে ফেলতে চান খোদ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকরাই (এমডি)। এ জন্য ঋণ অবলোপনে বিশেষ ছাড় চেয়েছেন তারা। বাংলাদেশ ব্যাংক শর্তসাপেক্ষে সম্মতিও দিয়েছে।

গতকাল কেন্দ্রীয় ব্যাংক তফসিলি ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) নেতাদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসে। প্রায় তিন ঘণ্টার বৈঠক শেষে কেউ সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে প্রকাশ্যে কথা বলেননি। নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো এমডিদের এই আবদারের কথা জানিয়েছে। জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা বলেন, ঋণ অবলোপনের সময়সীমা কমাতে দাবি তোলা হয়েছে। তবে গভর্নর শতভাগ প্রভিশনিংয়ের শর্তে এই সুযোগ দিতে রাজি হয়েছে।  

ব্যাংক খাতে জমে আছে পাহাড়সম খেলাপি ঋণ। বিভিন্ন ছাড়-সুবিধা দিয়েও আদায় হচ্ছে না ঋণের অর্থ। এ অবস্থায় আদায় না করেই খাতাকলমে খেলাপি ঋণ কমানোর অভিনব আবদার করেছে ব্যাংকগুলো। বর্তমানে ব্যাংকের ব্যালান্সশিট থেকে খেলাপি ঋণ বাদ দিতে অবলোপন নীতিমালা অনুসারে কমপক্ষে তিন বছর আদায়ের চেষ্টা করতে হবে। অর্থাৎ যে কোনো খেলাপি ঋণ অন্তত তিন বছর হিসাবে দেখাতে বাধ্য ব্যাংকগুলো। কিন্তু এখন ব্যাংকগুলো আবদার করেছে দেড় বছরের পর তা অবলোপন করার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুসারে, জুন পর্যন্ত হিসাবে ১ লাখ ১২ হাজার ৪২৫ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ। এর মধ্যে কুুঋণ আছে ৯৭ হাজার ৯৩৭ কোটি টাকা। যে কোনো সময় অবলোপনের সুযোগ পেলে কুঋণের পুরো অর্থ হিসাব থেকে বাদ দিতে পারবে ব্যাংকগুলো। অর্থমন্ত্রী হিসেবে আ হ ম মুস্তফা কামাল দায়িত্ব নেওয়ার পর ঘোষণা দেন দেশে খেলাপি ঋণ আর এক টাকাও বাড়বে না। খেলাপি ঋণ ২  শতাংশ ডাউনপেমেন্ট দিয়ে ১০ বছরে পরিশোধ করার সুযোগ চলছে। সুদ হার বেঁধে দেওয়া হয়েছে ৯ শতাংশ।

গতকালের বৈঠকে ব্যাংকের সিকিউরিটি সার্ভিসেস, অফশোর ব্যাংকিং নীতিমালা সংশোধন, স্ট্যাম্প ডিউটি, ব্যাংকে শ্রম আইন প্রয়োগ, ইন্টারনাল ক্রেটিড রিস্ক রেটিং (আইসিআরআর) গাইডলাইন্স সংশোধন এবং পরিবর্তনের জন্য তাদের দাবি তুলে ধরেছেন এমডিরা। এ ছাড়া হোমলোনের সীমা বাড়ানো এবং ঋণখেলাপি ও প্রভিশনিং নীতিমালা পরিবর্তনের দাবিও জানানো হয় এবিবির পক্ষ থেকে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ সিঙ্গেল ডিজিট সুদহার কমানো এবং খেলাপি ঋণ আদায় বৃদ্ধির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ইন্টারনাল ক্রেটিড রিস্ক রেটিং (আইসিআরআর) গাইডলাইন্স সংশোধন এবং পরিবর্তনের জন্য তাদের দাবি তুলে তা পর্যালোচনার আশ্বাস দেওয়া হয়। বৈঠকের ব্যাপারে জানতে এবিবির চেয়ারম্যান সৈয়দ মাহবুবুর রহমানকে কয়েক দফা ফোন করলেও তিনি ফোন ধরেননি। বৈঠক শেষে তিনি সংবাদমাধ্যমকে এড়িয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বেরিয়ে যান।

এদিকে ব্যাংকিং খাতের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আওতায় কমিশন গঠনের উদ্যোগের সমালোচনা করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

গতকাল সংস্থাটি এক বিবৃতিতে স্বাধীন কমিশন গঠনের দাবি জানায়। অন্যদিকে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) দাবি করেছে, অর্থ মন্ত্রণালয় ও প্রভাবশালীদের কাছে নতি স্বীকার করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads