• বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০১৯, ৩ শ্রাবণ ১৪২৫
ads
চার দশক পর পাওয়া গেল ‘ফ্লাইং বুলডগ’

ফ্লাইং বুলডগ

ছবি : সংগৃহীত

জীব বিজ্ঞান

চার দশক পর পাওয়া গেল ‘ফ্লাইং বুলডগ’

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

বৈজ্ঞানিক নাম মেগাচিল প্লুটো হলেও ফ্লাইং বুলডগ নামেই বেশি পরিচিত এ মৌমাছি। সাধারণ মৌমাছির তুলনায় আকারে প্রায় দশগুণ পর্যন্ত হয়ে থাকে ফ্লাইং বুলডগ। তাই ইন্দোনেশিয়ার বাসিন্দারা একে বলে থাকেন ‘রাজা অফু’ বা মাছিদের রাজা। নাম যাই হোক না কেন, এটিই পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মৌমাছি।

ঊনবিংশ শতকে ব্রিটিশ প্রকৃতিবিদ ও প্রাণিবিজ্ঞানী আলফ্রেড রাসেল ওয়ালেস ইন্দোনেশিয়ার বাকান দ্বীপে ঘুরে বেড়ানোর সময় প্রথম দেখা পেয়েছিলেন এই মৌমাছির। তার প্রায় ১২২ বছর পর ১৯৮১ সালে আমেরিকার বিজ্ঞানী অ্যাডাম মেসার দেখা পান এই দৈত্যাকার মৌমাছির। তিনি এই মৌমাছিকে ‘ফ্লাইং বুলডগ’ নামে অভিহিত করেন। আর ওয়ালেসের পর্যবেক্ষণকে সম্মান জানাতে এর নাম দেওয়া হয়েছিল ‘ওয়ালেস জায়ান্ট বি’। এরপর কেটে গেল প্রায় ৪০ বছর। কিন্তু আর কোথাও এর দেখা মেলেনি। চল্লিশ বছর পর এসে একদল গবেষক আবারো দেখা পেলেন দৈত্যাকার এ মৌমাছির। তাও আবার ইন্দোনেশিয়ার গহীন জঙ্গলে।

ফটোগ্রাফার ক্লে বোল্ট, পতঙ্গবিদ এলি ওয়াইম্যান, সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস্তুবিদ্যার অধ্যাপক সিমন রবসন ও পক্ষীবিজ্ঞানী গ্লেন চিলটন কিছুদিন ধরে গবেষণার কাজে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন ইন্দোনেশিয়ার বিভিন্ন জঙ্গলে। সেখানেই তারা এই দৈত্যাকার মৌমাছির খোঁজ পেয়েছেন। এই দৈত্যাকার মৌমাছির খোঁজ পেয়ে উচ্ছ্বসিত গবেষকরা বলেছেন- এটি বিশাল, ডানার ঝাপটায় তীব্র আওয়াজ তৈরি হয়।

তবে এই গোত্রের মৌমাছির লিঙ্গভেদে আকারের ভিন্নতা চোখে পড়ার মতো। সাধারণত পুরুষের চেয়ে স্ত্রী মৌমাছিরা আকারে অনেক বড় হয়ে থাকে। স্ত্রী দৈত্যাকার মৌমাছির দৈর্ঘ্য যেখানে ৩৮ মিলিমিটার, সেখানে পুরুষের দৈর্ঘ্য মাত্র ২৩ মিলিমিটার। পুরুষের তুলনায় স্ত্রী ফ্লাইং বুলডগের চোয়ালের আকার বড় ও অনেক বেশি শক্ত। এদের ডানার আকার প্রায় ৬৪ মিলিমিটারের কাছাকাছি।

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, গভীর অরণ্যে গাছের ভেতর কোটরের মতো বাসা বানিয়ে বসবাস করে দৈত্যাকার ফ্লাইং বুলডগ। এদের মাথার সামনে থাকা এক জোড়া সাঁড়াশির মতো অংশ দিয়ে নিজেদের বাসা তৈরি করে এরা। মৌমাছিদের মতো ফুলের মধু খেলেও মধু তৈরি করতে অক্ষম তারা।

গবেষক দলের অন্যতম সদস্য প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের এলি উইম্যান বলেছেন, এই সন্ধান মৌমাছিদের উৎপত্তি ও বিবর্তন সম্পর্কিত গবেষণার কাজ এক ধাক্কায় অনেকটা এগিয়ে দেবে। জীবনযুদ্ধে লড়াই সম্পর্কিত তথ্য জানতেও এই দৈত্যাকার মৌমাছি সাহায্য করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads