• সোমবার, ২০ মে ২০১৯, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫
ads
সামুদ্রিক শৈবাল থেকে বিদ্যুৎ

ছবি : সংগৃহীত

জীব বিজ্ঞান

সামুদ্রিক শৈবাল থেকে বিদ্যুৎ

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত ০২ মার্চ ২০১৯

বিকল্প, পরিবেশবান্ধব জ্বালানির খোঁজে নানা উৎসের খোঁজ চলছে, অ্যালজি বা সামুদ্রিক শৈবাল যার অন্যতম। সম্প্রতি জার্মানিতে এই প্রযুক্তির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে অভিনব পরীক্ষা চলছে। অন্যান্য দেশও এই বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।

জার্মানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডয়েচে ভেলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামবুর্গ শহরের একটি বাড়ির মধ্যে বায়ো-রিঅ্যাক্টরে শৈবাল চাষ হচ্ছে। যার চারদিকে বুদবুদের স্পন্দন। সেখানে শৈবাল এমন বায়োমাস উৎপাদন করছে, যা থেকে বায়োগ্যাস পাওয়া যায়। সেই জ্বালানি দিয়ে বাড়ির ৩০ বাসিন্দার জন্য শীতে ঘর গরম রাখা যায়।

মার্টিন ক্যার্নার বিশ্বের প্রথম ‘অ্যালজি হাউস’ উদ্যোগের অন্যতম উদ্যোক্তা। সহকর্মীদের সঙ্গে তিনি রিঅ্যাক্টরের দেয়ালটিকে আরো উন্নত করতে কাজ করে যাচ্ছেন। তবে পুরোটাই বাস্তব পরিস্থিতিতে এক পরীক্ষার মতো।

মার্টিন বলেন, গবেষণাকেন্দ্র হিসেবেও আমরা জায়গাটিকে কাজে লাগাচ্ছি। গবেষণা ও উন্নতির স্বার্থে আমরা সেরা বিষয়গুলো পরখ করে দেখছি। ছোট আকারে নয়, এখানে আমরা মনের সুখে পরীক্ষা চালিয়ে দেখতে পাচ্ছি, কীভাবে ও কতটা দক্ষতার সঙ্গে সবকিছু চলছে, কোথায় আরো উন্নতির অবকাশ রয়েছে এখানেই সব প্রশ্নের উত্তর যাচাই করতে পারছি।

তিনি বলেন, মার্টিন ক্যার্নারঅ্যালজি হাউজ নিয়ে আমরা খুবই গর্বিত। এই প্ল্যান্ট শুধু উত্তাপ ও বায়োগ্যাস উৎপাদন করে না। এক বিশেষ সিস্টেমের মাধ্যমে বর্জ্য পানি অপচয় না করে আবার কাজে লাগানো যায়।

মার্টিন ক্যার্নার বলেন, আমরা বাড়ির বর্জ্য পানি রিসাইকেল করি এবং সেই প্রক্রিয়ায় মিথেন গ্যাস উৎপাদন করি। পানি ও পুষ্টির সঙ্গে সঙ্গে আবার বায়ো রিঅ্যাক্টরে কাজে লাগাতে পারি।

হামবুর্গ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণাকেন্দ্রে অ্যালজি রিঅ্যাক্টরের প্রটোটাইপ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ প্রযুক্তি ও জ্বালানি বিভাগের ক্যার্স্টিন কুচা সেখানে কাজ করেন। তিনি বলেন, অত্যন্ত প্রাথমিক স্তরে অ্যালজি হাউজ তৈরি করা ছিল এক সাহসী সিদ্ধান্ত। শৈবাল সম্পর্কে যথেষ্ট জ্ঞান ছিল, কাউকে না কাউকে বড় আকারে এই পদক্ষেপ নিতেই হতো।

তিনি জানান, এখন জ্বালানি উৎপাদন প্রক্রিয়ার উন্নতি করতে প্রতিনিয়ত পরিবর্তনের কাজ চলছে। আমরা যখন এখানকার মতো অ্যালজি চাষ করি, তখন সবার আগে তেল, জ্বালানি অথবা সূক্ষ্ম রাসায়নিকের দিকে নজর দিই। শৈবাল থেকে সেসব বের করে নিলে কার্যত সবুজ ও অন্যান্য রংও বেরিয়ে যায়। তখন যে সাদা অংশ অবশিষ্ট থাকে, তা বায়োগ্যাসে রূপান্তরের জন্য অত্যন্ত উপযুক্ত।

কুচা বলেন, এই প্রক্রিয়ায় শৈবাল ব্যবহারের বড় সুবিধা হলো, তা দ্রুত বংশবৃদ্ধি করে। ফলে বায়োগ্যাসের জন্য যথেষ্ট রসদ পাওয়া যায়।

তবে বিষয়টি এখন প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। অ্যালজি বায়োটেকনোলজিস্ট কারোলা গ্রিল বলেন, ‘এই মুহূর্তে এই প্রযুক্তি পুরোপুরি প্রস্তুত হয়নি। জ্বালানি উৎপাদন হচ্ছে না, ব্যয়ভারও অত্যন্ত বেশি। তবে শিগগিরই ব্যয় কমিয়ে নতুন উপায় বের করা যাবে।’

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads