• শনিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮, ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০১৮

বাজেট বাস্তবায়নের হার কমছে

জাতীয় প্রেস ক্লাবে সোমবার বাংলাদেশ স্টাডি ট্রাস্ট আয়োজিত বাজেটবিষয়ক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তব্য দেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত

ছবি : বাংলাদেশের খবর

বাজেট

বাজেট বাস্তবায়নের হার কমছে

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ২৯ মে ২০১৮

২০১২ সালের পর থেকেই জাতীয় বাজেট বাস্তবায়নের হার কমছে। ২০১২-১৩ অর্থবছরে অনুমোদন পাওয়া বাজেটের ৯৩ শতাংশ অর্থ ব্যয় হয়েছিল। গত অর্থবছর তা ৮০ শতাংশের নিচে নেমে আসে। চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছর বাজেট বাস্তবায়নের হার ৭৪ শতাংশে নেমে আসতে পারে বলে ধারণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুুল মুহিত। আর্থিক হিসাবে ব্যয়ের হার কমে আসার পাশাপাশি বাজেট বাস্তবায়নের গুণগত মানও কমে আসছে। প্রত্যাশিত হারে বাজেট বাস্তবায়ন না হওয়াকে দেশের উন্নয়নের জন্য অশনি সঙ্কেত হিসেবে চিহ্নিত করেছেন বিশেষজ্ঞরা। আর বিষয়টিকে সরকারের বড় ব্যর্থতা হিসেবে চিহ্নিত করে ‘দুঃখজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী। জাতীয় বাজেট সামনে রেখে গতকাল সোমবার আয়োজিত এক প্রাক বাজেট আলোচনায় এসব বিষয় উঠে আসে।

রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘স্বপ্ন পূরণের বাজেট প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির রূপরেখা’ শীর্ষক গোলটেবিলের আয়োজন করে বাংলাদেশ স্টাডি ট্রাস্ট। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। আয়োজক সংগঠনের সভাপতি ড. এ কে আবদুল মোমেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. এ বি মীর্জ্জা আজিজুল ইসলাম, পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জমান, পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) সদস্য ড. শামসুল আলম, বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) চেয়ারম্যান ড. জাইদী সাত্তার প্রমুখ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাজেট বাস্তবায়নের হার কমে আসা সরকারের জন্য একটা খারাপ সঙ্কেত। এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য আগামী অর্থবছর থেকে বিশেষ দিকনির্দেশনা থাকবে। বাজেট অনুমোদনের পরপরই অর্থ খরচ করার অনুমোদন দেওয়া হবে। তিনি আরো বলেন, ২০১২ সাল থেকে বাজেট বাস্তবায়নের হার ক্রমান্বয়ে কমছে। ২০১২-১৩ অর্থবছরে বাজেট বাস্তবায়নের হার ৯৩ শতাংশ ছিল। গত কয়েক বছরে তা ৮০ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। এটি খুবই অপ্রত্যাশিত ও দুঃখজনক।

বাজেট বাস্তবায়নে প্রত্যাশিত গতি না আসায় দক্ষ জনশক্তির অভাবকে বড় করে দেখছেন অর্থমন্ত্রী। তিনি গোলটেবিলে বলেন, দেশে দক্ষ জনবলের যথেষ্ট অভাব রয়েছে। ২০১১ সাল থেকে বাজেটে দক্ষ জনবল সৃষ্টিতে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এবারের বাজেটে দক্ষ জনবল সৃষ্টিতে বিশেষ পদক্ষেপ থাকছে। আগামী বাজেটে অবহেলিত জনগোষ্ঠী এবং সামাজিক সুরক্ষায় বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।

মন্ত্রী আরো বলেন, দেশে বেসরকারি বিনিয়োগ কমে যাচ্ছে। অনেক রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান লোকসানে রয়েছে। তাদের প্রতিবছর অর্থ বরাদ্দ দিতে হচ্ছে। তবে আশার কথা হচ্ছে লোকসানের পরিমাণ বাড়ছে না। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়ন না হওয়াকেও বড় ব্যর্থতা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন অর্থমন্ত্রী।

আগামী অর্থবছরের জাতীয় বাজেট উচ্চাভিলাষী হবে না বলে মন্তব্য করেন আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি বলেন, প্রথমে ৬ লাখ কোটি টাকার বাজেট দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। পরে তা কমিয়ে ৫ লাখ কোটি টাকার নিচে আনা হয়েছে। ৫ লাখ কোটি টাকার বাজেট দিতে পারলে তিনি নিজে খুশি হতে পারতেন বলে জানান অর্থমন্ত্রী।

আগামী বাজেটে কালো টাকা সাদা করার কোনো সুযোগ থাকছে না বলেও জানান মুহিত। এর আগে এ ধরনের অনেক সুযোগ দেওয়া হলেও তাতে কোনো সুফল না পাওয়ায় সুযোগটি রহিত হচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

ড. মশিউর রহমান বলেন, বাজেট বাস্তবায়নের সক্ষমতা আমাদের বাড়াতে হবে। আগামী বাজেট হতে হবে বিনিয়োগবান্ধব বাজেট। বাজেটে কর বাড়ানো হলে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ কমে যায়। এই বিষয়টি খেয়াল রাখতে হবে বলেও মনে করেন তিনি।

ড. এ বি মীর্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, আর্থিক ও গুণগত মানের বিবেচনায় বাজেট বাস্তবায়নের হার কমছে। সেদিক বিবেচনা করলে এই বাজেটকে উচ্চাভিলাষী বাজেট বলা যায়। বাজেটের আকার বাড়ানোর আগে বাস্তবায়নের দক্ষতা বাড়ানোর পরামর্শ দেন তিনি। ব্যাংক থেকে থেকে ঋণ দেওয়া ও নেওয়ার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করারও দাবি জানান মীর্জ্জা আজিজ।

ড. কাজী খলীকুজ্জমান বলেন, বাজেটে উন্নয়নের দর্শন থাকতে হবে। টেকসই উন্নয়নের জন্য বাজেটে সবাইকে এক ছাতার নিচে নিয়ে আসতে হবে। কাউকে বাদ দেওয়া যাবে না। বেদে, দলিত সম্প্রদায় এবং সাঁওতালসহ পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য বাজেটে বিশেষ সুবিধা রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেন, বাজেটে আমাদের রাজস্ব আয় বাড়ানোর জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে করে সহজেই জনগণকে ট্যাক্সের আওতায় নিয়ে আসা যাবে। সরকারের রিজার্ভ অর্থ অলসভাবে ফেলে না রেখে সভরিন বন্ড চালু করা যেতে পারে। এ ছাড়া বাজেটে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ ব্যবস্থা চালু করে জেলায় জেলায় সরকার ব্যবস্থা চালু করা দরকার।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads