• রবিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৪
ads
লেখাপড়া ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা

রোববার থেকে ফের জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এমপিওভুক্তির দাবিতে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি পালন করবে শিক্ষকরা

সংরক্ষিত ছবি

বাজেট

লেখাপড়া ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ১০ জুন ২০১৮

আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ঘোষণা না পেয়ে আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছেন নন-এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীরা। আজ রোববার থেকে ফের জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এমপিওভুক্তির দাবিতে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি পালন করার ঘোষণা দিয়েছেন তারা। গতকাল শনিবার ‘শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশনের’ পক্ষ থেকে এ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, নন-এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীরা এমপিওভুক্তির দাবিতে গত জানুয়ারিতে আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন করেছিলেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, আগামী অর্থবছরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা হবে। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার ঘোষিত আগামী অর্থবছরের বাজেটে এ খাতে কোনো টাকা রাখা হয়নি। এ কারণে শিক্ষকরা ফের আন্দোলন শুরু করছেন।

শিক্ষকদের আন্দোলনের কারণে গত জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি দুই মাস শিক্ষা কার্যক্রম লণ্ডভণ্ড হয়েছিল। বহু কষ্টে সরকার শিক্ষকদের আন্দোলন সামাল দিয়েছিল। কিন্তু এখন আবার শিক্ষকরা এমপিওর জন্য আন্দোলনে নামছেন। একটি সূত্র জানিয়েছে, নন-এমপিও শিক্ষকরা এমপিওভুক্তির জন্য আন্দোলনে নামলেও এদের পেছন পেছন সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের দাবিতে আন্দোলনে নামবে একদল শিক্ষক। তাদের সঙ্গে ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট এবং বৈশাখী ভাতার দাবিতে আন্দোলনে নামবে আরেক দল শিক্ষক। সব মিলিয়ে ফের টালমাটাল অবস্থায় পড়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে শিক্ষা কার্যক্রমে।

নুরুল হাসিব নামে এক শিক্ষক বলেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি থাকা সত্ত্বেও এমপিওভুক্তির জন্য সুনির্দিষ্ট বরাদ্দ না থাকা চরম অশুভ লক্ষণ। নন-এমপিও শিক্ষকরা কীভাবে জীবনযাপন করবে এ নিয়ে কর্তাব্যক্তিরা কিছুই বুঝতে চান না? এজন্য আন্দোলন চলবে। শিক্ষকদের সাফ কথা হয় বেতন দেবেন, না হয় বুকে গুলি চালিয়ে মেরে ফেলবেন। নতুবা আমাদের ঈদ বলতে কিছু থাকবে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষা প্রশাসনের শীর্ষ এক কর্মকর্তা বলেন, হয়তো এই অর্থবছরে অন্য খাত থেকে টাকা এনে কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা হবে। কিন্তু প্রস্তাবিত বাজেটে এমপিওভুক্তির বিষয়টি না রাখায় শিক্ষাঙ্গন উত্তপ্ত হবে। কেন যে এটি রাখা হলো না আমরা বুঝতে পারছি না। তার মতে, বাজেটে এমপিওভুক্তির বিষয়টি না রেখে কোনো ইস্যু তৈরি করা হচ্ছে কি না তা আমরা ভেবে দেখছি।

তবে স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ শাহজাহান আলম সাজু বলেন, অর্থমন্ত্রী এমপিওভুক্তির বিষয়টি বাজেটে না রাখলেও আমরা বিশ্বাস করি প্রধানমন্ত্রী শিক্ষকদের এই দাবি পূরণ করবেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতেই শিক্ষকদের বৈশাখী ভাতা এবং ৫ শতাংশ হারে ইনক্রিমেন্ট পাওয়ার দাবিও পূরণ হবে বলে তিনি মনে করেন। এজন্য বুঝেশুনে কর্মসূচি দেওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, নন-এমপিওভুক্ত অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা গত ১৫-২০ বছর বিনা বেতনে চাকরি করছেন। অনেকের চাকরি আছে মাত্র ৫-১০ বছর। এ কারণে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আর অপেক্ষায় না রেখে বর্তমান সরকারের মেয়াদে এই সমস্যার সমাধান করতে হবে। এত বছর পর কোনোক্রমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির আংশিক সমাধান সমীচীন হবে না।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বিনয় কুমার সাহা জানান, এমপিওভুক্তির জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি থাকলেও প্রস্তাবিত ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে সুনির্দিষ্ট কোনো প্রস্তাব না থাকায় আজ রোববার থেকে প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান ধর্মঘট পালন করব। তিনি বলেন, আশা করেছিলাম প্রস্তাবিত বাজেটে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওর জন্য প্রয়োজনীয় টাকা বরাদ্দ থাকবে। কিন্তু সেটি না থাকায় আমরা হতাশ। তাই রমজানের মধ্যে শিক্ষকরা রাজপথে নামতে বাধ্য হচ্ছেন। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে সারা দেশের সব শিক্ষক ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছেন। আজ রোববার সকাল ৯টা থেকে আমাদের অবস্থান কর্মসূচি শুরু হবে। এতে ৩ থেকে ৫ হাজার শিক্ষক-কর্মচারী উপস্থিত হবেন। পর্যায়ক্রমে এ সংখ্যা আরো বাড়বে। এমপিওভুক্তিকরণ দাবির সুনির্দিষ্ট বাস্তবায়ন ছাড়া কোনোভাবেই আন্দোলন ছেড়ে বাড়ি ফিরব না।

উল্লেখ্য, নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্মচারী ফেডারেশনের ব্যানারে গত বছরের ২৬-৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত পাঁচ দিন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে খোলা আকাশের নিচে দিবারাত্রি অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষকরা-কর্মচারীরা। এরপর একই জায়গায় গত ৩১ ডিসেম্বর থেকে দাবি আদায়ে আমরণ অনশন করেন তারা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে আশ্বাস পাওয়ার পর ৫ জানুয়ারি আমরণ অনশন কর্মসূচি স্থগিত করেন নন-এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীরা।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads