• বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪
ads
পুঁজিবাজার উন্নয়নের প্রস্তাব বাজেটে প্রতিফলিত হয়নি

বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলন করে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ

বাংলাদেশের খবর

বাজেট

পুঁজিবাজার উন্নয়নের প্রস্তাব বাজেটে প্রতিফলিত হয়নি

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ১১ জুন ২০১৮

পুঁজিবাজারে ভালো সিকিউরিটিজের সরবরাহ বাড়াতে সরকারি ও বহুজাতিক কোম্পানির তালিকাভুক্তির দাবি দীর্ঘদিন ধরেই জানিয়ে আসছে ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জসহ বিভিন্ন স্টেকহোল্ডার। পুঁজিবাজারের টেকসই উন্নয়ন ও গুণগত সম্প্রসারণের বিভিন্ন কৌশল প্রণয়নের প্রস্তাব দেওয়া হলেও ঘোষিত বাজেটে তার প্রতিফলন হয়নি। গতকাল বাজেট পরবর্তী এক সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ জানিয়েছে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)।

সিএসইর ঢাকা কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুর রহমান মজুমদার। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের উপস্থাপিত বাজেটে চলমান অর্থনীতির অগ্রযাত্রায় পুঁজিবাজারের সম্প্রসারণ এবং উন্নয়নের লক্ষ্যে দেওয়া প্রস্তাবের কোনো কিছুই উপস্থাপিত হয়নি।

সিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, দেশের বিদ্যুৎ জ্বালানি এবং ভৌত অবকাঠামো খাতে চলমান প্রকল্পগুলোর সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। আপনারা জানেন দেশের পুঁজিবাজারের কাঠামোগত ও আইনি সংস্কার অর্থমন্ত্রীর যুগোপযোগী ও দূরদর্শী নেতৃত্বের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে পুঁজিবাজার অবকাঠামো দেশের বিকাশমান অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার জন্য সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত। পুনর্গঠিত পুঁজিবাজার অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য কাজে লাগাতে গেলে প্রয়োজন পুঁজিবাজার বিকাশের জন্য সঠিক কৌশল এবং নীতিগত সহায়তা।

তিনি বলেন, উল্লিখিত বিষয় বিবেচনা করে আমরা পুঁজিবাজারের টেকসই উন্নয়ন ও গুণগত সম্প্রসারণের জন্য ব্যাপক কৌশল প্রণয়নের প্রস্তাব দিয়েছিলাম, যা ঘোষিত বাজেটে প্রতিফলিত হয়নি। আমরা মনে করি পুঁজিবাজারের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও যথাযথ সম্প্রসারণের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি পুঁজি সংগ্রহের জন্য একটি সঠিক কৌশল নির্ধারণ করা জরুরি, যা শুধু পুঁজিবাজারের উন্নয়নই ত্বরান্বিত করবে না, আর্থিক খাতেও একটি টেকসই স্থিতিশীলতা আনবে।

সংবাদ সম্মেলনে সিএসই এমডি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে লক্ষাধিক লিমিটেড কোম্পানি রয়েছে। এর মধ্যে মাঝারি ও বৃহদায়তনের কয়েক হাজার কোম্পানি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করার সুযোগ আছে। কিন্তু বর্তমানে যে পরিমাণ কোম্পানি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত আছে, তা একান্তই নগণ্য। এ অবস্থায় পুঁজিবাজারের সময়োপযোগী সম্প্রসারণের প্রয়োজনে সুস্পষ্ট নির্দেশনা ও যথাযথ আইনি সংস্কারের মাধ্যমে বহুজাতিক কোম্পানি ও সরকারি কোম্পানির তালিকাভুক্তির জন্য নির্দেশনার প্রয়োজন রয়েছে বলে সিএসই মনে করে। বেসরকারি খাতের বৈদেশিক ঋণ এবং সিন্ডিকেশন ফাইন্যান্সিং অনুমোদনের সময় পুজিবাজারে তালিকাভুক্তির শর্তারোপের দাবি জানান তিনি। এ ছাড়া বন্ড মার্কেটসহ পুঁজিবাজারের অ্যাডভান্স প্রডাক্টগুলো চালুকরণের লক্ষ্যে কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন।

সংবাদ সম্মেলনে ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক কোম্পানিগুলোর জন্য আড়াই শতাংশ করপোরেট কর কামানোর সুবিধা সকল তালিকাভুক্ত কোম্পানির জন্য প্রদান করার দাবি জানানো হয়। ভবিষ্যতে তালিকাভুক্ত ও অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানির করপোরেট কর হারের ব্যবধান বর্ধিতকরণের সুস্পষ্ট ঘোষণা চায় সিএসই। পুঁজিবাজার বিকাশের জন্য জাতীয়ভিত্তিক শক্তিশালী সমন্বয় কমিটি গঠনের সুপারিশ করেছে সিএসই। এ ছাড়া তালিকাভুক্ত কোম্পানি থেকে প্রাপ্ত লভ্যাংশ আয় থেকে দ্বৈত কর রহিতকরণ উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। মানসম্মত ও লাভজনক করপোরেট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে তালিকাভুক্ত করতে যথাযথ আইনি বাধ্যবাধকতা, রেগুলেটরি সমন্বয় ও আর্থিক প্রণোদনা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কৌশল প্রণয়ন করতে হবে বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিমত প্রকাশ করা হয়েছে। পুঁজিবাজারে বিশেষ বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান হিসেবে ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশকে (আইসিবি) শক্তিশালী করা, ঋণগ্রহীতার একক সীমা শিথিল করা ছাড়াও পুঁজিবাজারের বাইরে আইসিবির বিনিয়োগ সীমিত করার দাবি জানানো হয়েছে। 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads