• সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০১৯, ৫ কার্তিক ১৪২৬
ads
পাঁচ লাখ কোটি টাকা দিলেও  পুঁজিবাজারে থাকবে না

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল

ছবি : সংগৃহীত

বাজেট

প্রাক-বাজেট আলোচনায় অর্থমন্ত্রী

পাঁচ লাখ কোটি টাকা দিলেও  পুঁজিবাজারে থাকবে না

# পরিবর্তন আসছে না সঞ্চয়পত্রের সুদহারে # বিনিয়োগ পরিস্থিতির উন্নতি হবে # বর্তমান ব্যাংকঋণের সুদে ব্যবসা সম্ভব নয়

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ২৬ এপ্রিল ২০১৯

আর্থিক প্রণোদনা দিয়ে শেয়ারবাজারের পরিস্থিতির উন্নতি করা যাবে না বলে মনে করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেছেন, বর্তমান বাজারে ৫০ হাজার কোটি, এমনকি ৫ লাখ কোটি টাকা ঢাললেও কোনো লাভ হবে না। কোনো না কোনো পক্ষ প্রতারণার মাধ্যমে এ অর্থ হাতিয়ে নেবে।

প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের সম্পাদক, অর্থনৈতিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার (এনজিও) প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রাক-বাজেট আলোচনায় গতকাল বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন। রাজধানীর এনইসি সম্মেলন কক্ষে অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

প্রাক-বাজেট আলোচনায় দৈনিক অবজারভার সম্পাদক ইকবাল সোবহান চৌধুরী, প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান ও বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক নঈম নিজাম গণমাধ্যমের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরে উত্তরণের লক্ষ্যে বেশ কিছু প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। এনজিও প্রতিনিধিদের পক্ষে গণসাক্ষরতা অভিযানের পরিচালক ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি অধ্যাপক আবু সায়ীদ প্রমুখ বক্তব্য  দেন। এ সময় ইআরএফ সভাপতি সাইফ ইসলাম দিলাল, সহ-সভাপতি সৈয়দ শাহনেওয়াজ করীম, সাধারণ সম্পাদক এসএম রাশিদুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে পুঁজিবাজার ছাড়াও ব্যাংকিং ব্যবস্থা নিয়ে অনেকটাই খোলামেলা কথা বলেন অর্থমন্ত্রী। আগামী বাজেটের পর পুঁজিবাজারের পরিস্থিতির আরো উন্নতি হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন। বর্তমানের সুদহারে ব্যবসা পরিচালনা করা সম্ভব হবে না বলেও তিনি দাবি করেন। সুদের হার যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনার পরিকল্পনার কথা জানান অর্থমন্ত্রী। তা ছাড়া আগামীতে সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমানো না হলেও সবার জন্য এর সুবিধা রহিত করা হবে বলেও ঘোষণা দেন তিনি।

অবজারভার সম্পাদক ইকবাল সোবহান চৌধুরী আলোচনায় বলেন, দেশের গণমাধ্যম আর্থিকভাবে খারাপ সময় পার করছে। ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে সরকারি ক্রয় কার্যক্রম (ই-জিপি) পরিচালনা করায় সংবাদপত্রে সরকারি বিজ্ঞাপনের পরিমাণ কমে এসেছে। এ অবস্থায় তিনি সরকারি বিজ্ঞাপনের মূল্য বাড়ানোর প্রস্তাব দেন তিনি। তা ছাড়া বিজ্ঞাপনের মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বাতিল করারও প্রস্তাব দেন তিনি। ইলেকট্রনিক সংবাদ মাধ্যমকে শিল্পের স্বীকৃতি দিয়ে এ খাতে ব্যাংকঋণ সহজ করার দাবি জানান ইকবাল সোবহান চৌধুরী।

প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান বলেন, সংবাদপত্রের পাঠক সংখ্যা কমে আসছে। এর ফলে আয়ও কমে যাচ্ছে। অনলাইনেও তেমন আয় নেই। অন্যদিকে সংবাদপত্রের ব্যয় বাড়ছে। ভ্যাট আইনে না থাকলেও সংবাদপত্রে ১৫ শতাংশ হারে মূসক আদায় করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এ মূসক বাতিলের দাবি জানান তিনি। সাংবাদিকদের বাড়িভাড়া হিসেবে পরিশোধিত অর্থের শতভাগ করমুক্ত রাখার দাবি জানিয়ে মতিউর রহমান বলেন, মূল বেতনের ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ি ভাড়ায় করমুক্ত রয়েছে। বর্তমান বেতন কাঠামোতে সাংবাদিকদের বাড়িভাড়া দেওয়া হয় ৭০ শতাংশ। অবশিষ্ট ২০ শতাংশ বাড়ি ভাড়ায় কর প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি। তা ছাড়া করপোরেট করের হারও কমানোর প্রস্তাব দিয়েছেন প্রথম আলো সম্পাদক।

পুঁজিবাজার ও ব্যাংক খাতে অব্যবস্থাপনা নিয়ে অনুষ্ঠানে আলোচনা করেন নঈম নিজাম। তা ছাড়া বিদেশি গণমাধ্যমে দেশীয় পণ্যের বিজ্ঞাপন প্রকাশ ও অর্থ পাচার রোধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি। এ দাবির পরিপ্রেক্ষিতে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিদেশি গণমাধ্যমে বিজ্ঞাপনের অর্থ কীভাবে লেনদেন হয়, তা খতিয়ে দেখা হবে। এমন বিজ্ঞাপন বন্ধের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানানো হবে।

অর্থমন্ত্রী এ সময় বলেন, দেশের জনসংখ্যা বিপুল হারে বাড়ছে। এর ফলে প্রয়োজনীয় উন্নয়ন অনেক কঠিন হয়ে পড়েছে। সমস্যা পাশ কাটিয়েই উন্নয়নে দেশ অনেক এগিয়ে যাচ্ছে। রাজধানী ঢাকায় এখন জনসংখ্যার স্রোত। যানজট কমাতে ঢাকার চারপাশে সার্কুলার রোড হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, দেশের অর্থনীতির অন্যতম শক্তি পুঁজিবাজার। পুঁজিবাজার ছাড়া কোনো দেশেই শিল্পায়ন হতে পারে না। পুঁজিবাজার থেকে অর্থ নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ করেন উদ্যোক্তারা। তবে বিনিয়োগকারীরা ছয় মাসের মধ্যেই লাভ চাইছেন। উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের লক্ষ্যে মিল না থাকায় বাজারের পরিস্থিতি খারাপ হয়ে থাকে।

তিনি আরো বলেন, আর্থিক প্রণোদনা দিয়ে শেয়ারবাজারের উন্নতি করা যাবে না। ৫০ কোটি এমনকি ৫ লাখ কোটি টাকা দেওয়া হলেও তা বাজারে থাকবে না। প্রতারণার মাধ্যমে কোনো না কোনো গোষ্ঠী তা হাতিয়ে নেবে। তবে বাজারের পরিস্থিতি উন্নয়নে কাজ চলছে। বার বার নাজুক অবস্থা ফিরে আসুক- এমনটা সরকার চায় না। জনগণের গালি শুনতে চায় না সরকার।

দেশ থেকে পাচার হয়ে যাওয়া অর্থ বিনিয়োগ হিসেবে আবার ফিরে আসবে বলেও মনে করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, আগে বিনিয়োগের পরিবেশ ছিল না। এখন পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে বিপুলসংখ্যক বিদেশি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে বিনিয়োগ করবে। এখানে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির অনেক উন্নতি হয়েছে। আগামীতে বাংলাদেশ থেকে আর টাকা পাচার হবে না বলেও তিনি মনে করেন।

সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমানোর পরিকল্পনা সরকারের নেই বলেও অনুষ্ঠানে দাবি করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, সঞ্চয়পত্রের সুদে হাত দেওয়া হবে না। তবে সঞ্চয়পত্রের সুবিধা সবার জন্য থাকবে না। একটি বিশেষ শ্রেণির জন্য এ সুযোগ দেওয়া হয়েছে। অনেকেই অন্যায়ভাবে এ খাতে বিনিয়োগ করছে। এ ধরনের অন্যায়কে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না বলেও জানান অর্থমন্ত্রী।

দেশের ব্যাংক খাত খুব একটা ভালো না থাকলেও খুব খারাপও নেই বলে দাবি করেন মুস্তফা কামাল। তিনি বলেন, এ খাতের উন্নয়নে অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি হচ্ছে। অকেকেই খেলাপি ঋণের বিপরীতে কোনো উদ্যোগ নিতে পারছে না। মামলা করতে পারছে না। এসব বিষয়ে উদ্যোগ নিবে আসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি।

মন্ত্রী আরো বলেন, ব্যাংকঋণে সুদের হার অনেক বেশি। এত বেশি সুদ দিয়ে কখনোই ব্যবসা করা যাবে না। সুদের ওপর নতুন করে সুদ আরোপ করা হচ্ছে। আগামীতে সুদের হার অনেক কমিয়ে নিয়ে আসা হবে। যাতে ঋণখেলাপি না হয়। তিনি আরো বলেন, ব্যবসা করলে লাভ বা লোকসান হতে পারে। যারা লোকসান দেয় তাদের জন্য কিছু করার ব্যবস্থা থাকে না। ঋণখেলাপি হওয়ার পরও সব ব্যবসায়ীকে জেলে পাঠালে তো হবে না। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে হবে।

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads