• সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৮ আশ্বিন ১৪২৬
ads
এডিপির বোঝা পুরাতন ৩২৯ প্রকল্প

ছবি : সংগৃহীত

বাজেট

অর্থবছর ২০১৯-২০

এডিপির বোঝা পুরাতন ৩২৯ প্রকল্প

  • জাহিদুল ইসলাম
  • প্রকাশিত ১৪ মে ২০১৯

চলতি অর্থবছরের মধ্যে কাজ শেষ করতে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) ৪৪৬ প্রকল্প রাখা হয়েছিল। কাজ পিছিয়ে থাকায় সংশোধিত এডিপিতে (আরএডিপি) সমাপনীর তালিকা থেকে বাদ যায় ১০১ প্রকল্প। তবে নতুন করে নির্ধারণ করা ৩৪৫ প্রকল্পের ৫৮টির কাজ এবারো শেষ হচ্ছে না। আগামী ২০১৯-২০ অর্থবছরে এসব প্রকল্প চালু রাখা হচ্ছে। ১ লাখ টাকা করে নামমাত্র বরাদ্দ দিয়ে আগামী অর্থবছরের এডিপিতে জুড়ে দেওয়া হচ্ছে এসব প্রকল্প। সংশোধন করে মেয়াদ বাড়ানোসাপেক্ষে কেবল এসব প্রকল্পে অর্থ ব্যয় করা যাবে। এডিপি প্রণয়ন নীতিমালা লঙ্ঘন করে চালু রাখতে যাওয়া এসব পুরনো প্রকল্পে মাথা ভারী হচ্ছে সরকারের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ এডিপি।

আগামী অর্থবছরের জন্য ২ লাখ ১৫ হাজার ১১৪ কোটি টাকার এডিপি প্রস্তাব সম্প্রতি পরিকল্পনা কমিশনের বর্ধিত সভায় প্রাথমিক অনুমোদন পেয়েছে। এতে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার ৯২১ কোটি টাকা, প্রকল্প সহায়তা হিসেবে বিদেশি উৎসের ৭১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা ও প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলো নিজেদের তহবিল থেকে ১২ হাজার ৩৯২ কোটি ৭৩ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রয়েছে। নতুন এডিপিতে সর্বমোট ১ হাজার ৫৬৪ প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সময়মতো কাজ শেষ না হওয়ায় এডিপির আওতায় নেওয়া অনেক প্রকল্প বছরের পর বছর ধরে ঝুলে আছে। এসব প্রকল্পে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে এডিপি বাস্তবায়নের সার্বিক গতি কমে আসছে। উপকরণের মূল্য বৃদ্ধি, মজুরি বৃদ্ধি, রেট সিডিউল বৃদ্ধিসহ নানা অজুহাতে এসব প্রকল্পের ব্যয় বাড়ছে। প্রকল্পগুলো সরকারি অর্থ অপচয়ের বড় খাতে পরিণত হয়েছে বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদরা।

বর্ধিত কমিটির সভার প্রস্তাব পর্যালোচনায় দেখা গেছে, আগামী জুনের মধ্যে মেয়াদ শেষ হওয়ার অপেক্ষায় থাকা আরো ২৭১ প্রকল্প ঝুলে পড়ছে। এডিপি প্রণয়ন নীতিমালা লঙ্ঘন করে এসব প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে নতুন এডিপিতে। এসব প্রকল্পে মোট ১৫ হাজার ৪৭৬ কোটি টাকা বরাদ্দও দেওয়া হচ্ছে। সব মিলিয়ে নতুন এডিপিতে ৩২৯টি পুরাতন প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে।

সূত্র জানায়, চলতি অর্থবছরে সমাপনীর জন্য রাখা প্রকল্পগুলোতে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। এ বিষয়ে বারবার তাগিদ দেওয়া হয়েছিল পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় থেকে। কিন্তু তাতেও কাজ হয়নি। এ অবস্থাকে অর্থ বরাদ্দের ক্ষেত্রে সমস্যা এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনায় বিশৃঙ্খলা বলে মনে করছে পরিকল্পনা কমিশন। এ পরিপ্রেক্ষিতে ১২টি প্রকল্পকে সমাপ্ত ঘোষণা করে এডিপি থেকে বাদ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া ৩৭টি  প্রকল্পে এক লাখ টাকা করে বরাদ্দ দিয়ে চলমান রাখা হবে। ইতোমধ্যে বাকি ৯টি প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।

জানতে চাইলে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, নির্ধারিত প্রকল্পের কাজ শেষ না হওয়ার কারণ খুঁজে বের করা হবে। সময়মতো প্রকল্পের কাজ শেষ করার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। প্রকল্প পরিচালকদের এবার অনেক স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। তারা যাতে মাঠে থাকেন সেজন্য নির্দেশ রয়েছে। সে মোতাবেক এখন অনেক প্রকল্প পরিচালকই মাঠে থাকছেন।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, সময়মতো প্রকল্পের কাজ শেষ করতে না পারা বাংলাদেশের অর্থনীতির অনেক পুরাতন সমস্যা। রাজনৈতিক বিবেচনায় অনেক সময় কিছু প্রকল্প নেওয়া হয়ে থাকে। এসব প্রকল্পের বাস্তবায়নে ততটা গুরুত্ব দেওয়া হয় না। এছাড়া প্রকল্পের সংখ্যা বাড়লে অর্থ বরাদ্দও নিশ্চিত করা যায় না। ফলে বছরের পর বছর ধরে ঝুলে থাকা প্রকল্পের ব্যয় বাড়ে। অপচয় হয় রাষ্ট্রীয় অর্থের। পরিস্থিতি উত্তরণে ছোট আকারের অধিক প্রকল্প না নিয়ে এডিপির আওতায় গ্যাস, বিদ্যুৎ, যোগাযোগ অবকাঠামো ও মানবসম্পদ উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে মেগা প্রকল্পে গুরুত্ব দেওয়ার তাগিদ দেন তিনি।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, এডিপি প্রণয়নের নির্দেশিকায় এবার বলা হয়েছে, সংশোধিত এডিপিতে তালিকাভুক্ত ২০১৯ সালের জুনে সমাপ্য কোনো প্রকল্প আগামী ২০১৯-২০ অর্থবছরের এডিপিতে অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব করা যাবে না। কিন্তু তারপরও ওই তালিকায় থাকা ৫৮টি প্রকল্প যুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের এডিপিতে অন্তর্ভুক্ত সমাপ্য প্রকল্প পর্যালোচনা ও তালিকা হালনাগাদ করার জন্য পরিকল্পনা কমিশনের কার্যক্রম বিভাগের সভায় জুনের মধ্যে সমাপ্ত হবে এরকম ৩৪৮টি প্রকল্পের তালিকা করা হয়।

সমাপ্য প্রকল্পগুলো যথাসময়ে যাতে শেষ হয় আরএডিপিতে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ নিশ্চিত করা হয়েছিল। এছাড়া প্রকল্পগুলোর কার্যক্রম যথাসময়ে সমাপ্ত করতে সংশি­ষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে একাধিকবার নির্দেশনা দেওয়া হয়। কেননা এসব প্রকল্প নির্ধারিত সময়ে শেষ না হলে বাজেট প্রক্রিয়ায় অর্থ বরাদ্দের ক্ষেত্রে সমস্যা সৃষ্টি হয় ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। সেইসঙ্গে প্রকল্পের সুফল প্রাপ্তিতে বিলম্ব ঘটে। এসব বিবেচনায় গত ২ এপ্রিল সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়  বা সংস্থাকে ওই প্রকল্পগুলো যথাসময়ে সমাপ্ত করতে অনুরোধ জানিয়ে পত্র দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads