• সোমবার, ২৬ আগস্ট ২০১৯, ১১ ভাদ্র ১৪২৫
ads
বড় সংস্কার রাজস্ব খাতে

ছবি : সংগৃহীত

বাজেট

বাজেট অধিবেশন বসছে কাল

বড় সংস্কার রাজস্ব খাতে

  • সাইদ আরমান
  • প্রকাশিত ১০ জুন ২০১৯

নতুন বাজেটে রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় বড় সংস্কার আসছে। আসন্ন ২০১৯-২০ অর্থবছরে বড় আকারের রাজস্ব লক্ষ্য অর্জনে সংস্কার আনতে যাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তবে করের পরিমাণ না বাড়িয়ে তার মনোযোগ থাকবে করের জাল বাড়ানোর দিকে। 

আগামী বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে আ হ ম মুস্তফা কামাল অর্থমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবারের মতো বাজেট উপস্থাপন করবেন। আর বাজেট অধিবেশন শুরু হচ্ছে আগামীকাল। ইতোমধ্যে বাজেটের সব ধরনের কার্যক্রম শেষ। আওয়ামী লীগ টানা তৃতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর চলতি মেয়াদের প্রথম বাজেটে প্রাথমিকভাবে মোট ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকা, যা জিডিপির ১৮ দশমিক ১ শতাংশ। এবারের বাজেটে বড় আকারের ব্যয় মেটাতে মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৮১০ কোটি টাকা। এটি জিডিপির ১৩ দশমিক ১ শতাংশের সমান। চলতি বছর রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য হচ্ছে ৩ লাখ ৩৯ হাজার ২৮০ কোটি টাকা। আগামী বাজেটে রাজস্ব আয়ের পরিমাণ ৩৮ হাজার ৫৩০ কোটি টাকা বেশি ধরা হয়েছে।

নতুন ভ্যাট আইন কার্যকর  হচ্ছে। ভ্যাট খাতে থাকছে ব্যাপক সংস্কার। রাজস্ব আদায় বাড়তে এনবিআরকে আরো শক্তিশালী করা হবে। আউট সোর্সিং করে বাড়ানো হবে এর জনবল। রাজধানীর ভবন মালিকদের থেকে কর আদায় করার ঘোষণা আসছে নতুন বাজেটে।

জানতে চাইলে এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মজিদ গতকাল টেলিফোনে বলেন, রাজস্ব আহরণে আমাদের তিনটি বড় সমস্যা রয়েছে। আওতা বাড়াতে হবে। সবাইকে করের আওতায় আনতে হবে।

তিনি বলেন, ব্যাংক হিসাবে মানুষের টাকা জমছে। এই অর্থ করের আওতায় আনতে হবে। কর অবকাশে শৃংখলা আনতে হবে। অনেকে কর দিয়ে যাচ্ছেন। অনেকে কর না দিয়ে চলছেন। এ পরিস্থিতি চলতে পারে না।

জানা গেছে, জনগণকে রাখা হবে ভ্যাট ও করের চাপ মুক্ত। খুব বেশি কর চাপানো হবে না। কর্পোরেটসহ ক্ষেত্র বিশেষে কর হার কমানো হবে। তবে সাধারণ মানুষের কর মুক্ত আয়ের সীমায় বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই।

চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের শুরু থেকেই জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য অর্জন করতে পারছে না। একেকটি মাস যায় আর এনবিআর রাজস্ব আয়ের মূল লক্ষ্য থেকে ক্রমশ দূরে সরে যাচ্ছে। তাতে বাড়ছে ঘাটতি। অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে এনবিআরের রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৫০ হাজার কোটি টাকা। ফলে নতুন বাজেটে রাজস্ব বাড়ানোর বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এজন্য প্রান্তিক পর্যায়ে রাজস্ব অফিস নিয়ে যাওয়া হবে।

প্রতিবারই বাজেটের আয়-ব্যয়ের এই চিত্র দেখা গেলেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হচ্ছে না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজস্ব খাতে বড় ধরনের সংস্কার ছাড়া রাজস্ব আদায়ে বড় লক্ষ্য পূরণ করা সম্ভব নয়। আর উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়াতে হবে। তা না হলে অদূর ভবিষ্যতে বাজেট ঘাটতির ওপর চাপ বাড়াবে।

চলতি অর্থবছরের বাজেটের আকার ৪ লাখ ৬৬ হাজার ২৬৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে এনবিআরকে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য দেওয়া হয়েছে ২ লাখ ৯৬ হাজার ২০১ কোটি টাকা। অর্থাৎ বাজেটের প্রায় ৬৫ শতাংশের জোগান দিতে হবে এনবিআরকে। বছরের শুরুতে এনবিআরকে ৪০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য দেওয়া হয়। কিন্তু বাস্তবে গত ৯ মাসে আদায়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৭ শতাংশের কিছুটা বেশি।

এনবিআরের তথ্য মোতাবেক, চলতি অর্থবছরের ৯ মাসে রাজস্ব আদায় হয়েছে ১ লাখ ৫৩ হাজার ৪৭৭ কোটি টাকা। তাতে রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৫০ হাজার ৩৬৭ কোটি টাকা। আদায় কম হওয়ায় এনবিআরের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য সংশোধন করে ২ লাখ ৮০ হাজার ৬০০ কোটি টাকা করা হয়েছে। তাতে অর্থবছরের শেষ তিন মাসে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা আদায় করতে হবে।

এনবিআরের সূত্র জানিয়েছে, গত ৯ মাসে আমদানি পর্যায়ে রাজস্ব ঘাটতি ১৫ হাজার ১৫২ কোটি টাকা। এ খাতে আদায় হয়েছে ৪৬ হাজার ৯৩০ কোটি টাকা। আর স্থানীয় পর্যায়ে মূসক আদায় হয়েছে ৬০ হাজার ১১৮ কোটি টাকা। এ খাতে রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি রয়েছে ১৮ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা। আয়কর ও ভ্রমণ কর আদায় হয়েছে ৪৬ হাজার ৪২৮ কোটি টাকা। এ খাতে ঘাটতি হয়েছে ১৬ হাজার ৬৩৫ কোটি টাকা।

এ দিকে রাজস্ব বাবদ সরকারের আয়ের বড় অংশই খরচ হয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে। এ ছাড়া কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, দেশি-বিদেশি ঋণের সুদাসলও পরিশোধ করতে হয়। চলতি অর্থবছরে বাজেটের প্রায় ৪০ শতাংশ উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তাতে এডিপির আকার ছিল ১ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা। জানা গেছে, অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে সংশোধিত এডিপির প্রায় ৫৫ শতাংশ খরচ হয়েছে। টাকার অঙ্কে যার পরিমাণ ৯৭ হাজার ৩০ কোটি টাকা।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads