• সোমবার, ১৯ আগস্ট ২০১৯, ৪ ভাদ্র ১৪২৫
ads
ধার করতে হবে ১ লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকা

ছবি : সংগৃহীত

বাজেট

বাজেট ২০১৯-২০

ধার করতে হবে ১ লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকা

  • সাইদ আরমান
  • প্রকাশিত ১৪ জুন ২০১৯

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বড় জনসমর্থন নিয়ে টানা তৃতীয়বার ক্ষমতায় এসেছে আওয়ামী লীগ। নির্বাচনে ছিল বড় প্রতিশ্রুতি। প্রতিশ্রুতি ছিল উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ধরে রাখার। চলছে বেশ কিছু বড় প্রকল্পের কাজ, যাতে ব্যয় বরাদ্দ রাখতে হচ্ছে। সব মিলিয়ে অর্থমন্ত্রীকে বড় আকারের বাজেট নিয়ে আসতে হয়েছে। তবে রাজস্ব আহরণে রাতারাতি বড় অগ্রগতি হবে না। ফলে সবাইকে খুশি করতে গিয়ে ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য বড় বাজেট দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। সব ঠিকঠাক থাকলে বাজেট বাস্তবায়নে পুরো সময় পাবেন তিনি।

ফলে সাধারণ মানুষের তুষ্টির চেষ্টায় ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকার বিশাল বাজেট দিয়েছেন, যা জিডিপির ১৮ দশমিক ১ শতাংশ। পরিচালনসহ অন্যান্য খাতে মোট বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩ লাখ ২০ হাজার ৪৬৯ কোটি টাকা। আর বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২ লাখ ২ হাজার ৭২১ কোটি টাকা।

প্রতিবারের মতো বাজেট অর্থায়নে বড় আকারের ধার করতে হবে অর্থমন্ত্রীকে। জাতীয় সংসদে গতকাল বৃহস্পতিবার উপস্থাপতি বাজেট থেকে দেখা গেছে, মোট বাজেটের বড় একটি অংশ বিভিন্ন উৎস থেকে ধারদেনা করতে হবে জনতুষ্টির এই বাজেট বাস্তবায়ন করতে।  এর পরিমাণ প্রস্তাব করা হয়েছে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা, যা মোট জিডিপির ৫ শতাংশ। 

চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জন্য ১ লাখ ২৫ হাজার ২২৯ কোটি টাকা বিভিন্ন উৎস থেকে ধার করার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল। বাজেটে ধারের অংশই হচ্ছে বাজেট ঘাটতি। বিদায়ী অর্থমন্ত্রী হিসেবে আবুল মাল আবদুল মুহিত বাজেট ঘাটতি প্রস্তাব করেছিলেন জিডিপির ৪ দশমিক ৯ শতাংশ।

জিডিপি দিয়ে একটি দেশের অর্থনীতি পরিমাপ করা হয়। একটি দেশের ভেতরে একটি নির্দিষ্ট মেয়াদে যে পরিমাণ পণ্য ও সেবা উৎপাদিত হয় তার মোট বাজারমূল্য হচ্ছে জিডিপি।

বাজেট বক্তৃতায় মুস্তফা কামাল বলেছেন, ঘাটতি অর্থায়নে দুটি উৎসই ব্যবহার করবেন তিনি। বৈদেশিক উৎস থেকে ধার করবেন ৬৮ হাজার ১৬ কোটি টাকা, যা জিডিপির ২ দশমিক ৪ শতাংশ। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এর পরিমাণ ৫৪ হাজার ৬৭ কোটি টাকা, যা জিডিপির ২ দশমিক ১ শতাংশ। অবশ্য এ জন্য অর্থমন্ত্রীকে সক্ষমতা বাড়াতে হবে বৈদেশিক অর্থ ব্যবহারের। 

অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে আগামী অর্থবছরে ৭৭ হাজার ৩৬৩ কোটি টাকা ধার করতে চান মুস্তফা কামাল, যা মোট জিডিপির ২ দশমিক ৭ শতাংশ। চলতি অর্থবছরে এর পরিমাণ ছিল ৭১ হাজার ২২৬ কোটি টাকা, যা জিডিপির ২ দশমিক ৮ শতাংশ। আর অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে নেবেন ৪৭ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকা অর্থাৎ জিডিপির ১ দশমিক ৬ শতাংশ। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এর পরিমাণ ছিল ৪২ হাজার ২৯ কোটি টাকা বা জিডিপির ১ দশমিক ৭ শতাংশ। অর্থাৎ বড় উৎস ভাবা হচ্ছে ব্যাংক ব্যবস্থাকে। তবে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকারের উচ্চ ঋণ বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহে টানাটানি তৈরি করে বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদরা। 

আর সঞ্চয়পত্র এবং ব্যাংকবহির্ভূত অন্য খাত থেকে ধার করবেন ২৭ হাজার কোটি টাকা। চলতি বাজেটে এর পরিমাণ ধরা হয়েছিল ২৬ হাজার ১৯৭ কোটি টাকা। তবে সংশোধিত বাজেটে এটি বাড়িয়ে করা হয় ৪৫ হাজার কোটি টাকা।

মুস্তফা কামাল মনে করছেন, বৈদেশিক সহায়তার যে বিশাল পাইপলাইন গড়ে তোলা হয়েছে সেটি ব্যবহার করা গেলে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ধারের নির্ভরতা কমবে। সেই চেষ্টা বর্তমান সরকার তার বাকি মেয়াদে করে যাবে। এর মধ্য দিয়ে ক্রমাগত বাড়বে বৈদেশিক সহায়তা ব্যবহারের পরিমাণ।

২০১৭-১৮ অর্থবছরে বাজেট ঘাটতি প্রাক্কলন করা হয়েছিল ১ লাখ ১২ হাজার ২৭৫ কোটি টাকা, যা সংসদে উপস্থাপিত বাজেটের ৫ শতাংশ।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads