• সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০১৯, ৫ কার্তিক ১৪২৬
ads
সাত মেগা প্রকল্পে বরাদ্দ ৩৬ হাজার কোটি টাকা

ছবি : সংগৃহীত

বাজেট

সাত মেগা প্রকল্পে বরাদ্দ ৩৬ হাজার কোটি টাকা

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ১৪ জুন ২০১৯

নির্ধারিত সময়ে পদ্মা সেতুর কাজ শেষ করতে ৬ মাসে লাগবে আরো ১১ হাজার কোটি টাকা। মেয়াদ বৃদ্ধির অপেক্ষায় থাকা প্রকল্পটিতে আগামী অর্থবছরে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে ৫ হাজার ৩৭০ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। ২০০৯ সাল থেকে চলমান এ প্রকল্পটিতে প্রত্যাশিত বরাদ্দ না থাকলেও আগামী অর্থবছরের বাজেটে বাড়তি বরাদ্দ থাকছে বড় প্রকল্পগুলোতে। সরকারের অগ্রাধিকার ফার্স্ট ট্র্যাকের অন্তর্ভুক্ত সাতটি প্রকল্পেই নতুন বাজেটে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে ৩৬ হাজার ২২০ কোটি টাকা। গতকাল জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের পক্ষে বাজেট উপস্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের ইশতেহারে অবকাঠামো খাতে একগুচ্ছ বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল আওয়ামী লীগ। সরকারের গত দুই মেয়াদে এসব প্রকল্পের দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়েছে হাতেগোনা কয়েকটির। এ অবস্থায় নতুন মেয়াদে অবকাঠামো উন্নয়নেই বিশেষ অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে নতুন সরকারের প্রথম বাজেটে ফার্স্ট ট্র্যাক হিসেবে পরিচিত অগ্রাধিকার ১০ প্রকল্পে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হচ্ছে।

আগামী অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত ২ লাখ ২ হাজার ২২১ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) চলমান প্রকল্পগুলোর অনুকূলে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে ১ লাখ ৯৩ হাজার ৩৬৪ কোটি ১৬ লাখ টাকা। মোট এডিপি বরাদ্দের ১৯ শতাংশই পাচ্ছে সাতটি প্রকল্প। আগামী এডিপিতে সর্বোচ্চ ১৪ হাজার ৯৮০ কোটি ৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পে। মেট্রোরেল নির্মাণ প্রকল্প পাচ্ছে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৭ হাজার ২১২ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। বরাদ্দের বিবেচনায় পদ্মা সেতুর অবস্থান তৃতীয়।

এর বাইরে পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্প বাস্তবায়নে আগামী এক বছরের জন্য ৩ হাজার ৯৯৫ কোটি ২০ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। ‘মাতারবাড়ি ২–৬০০ মে.ও. আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল কোল ফায়ার্ড পাওয়ার প্রজেক্ট’ শীর্ষক প্রকল্পে বরাদ্দ থাকবে ৩ হাজার ৫৬ কোটি টাকা। দোহাজারী থেকে রামু হয়ে কক্সবাজার এবং রামু থেকে বান্দরবানের ঘুমধুম পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণে ১ হাজার ১০৫ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছ। পায়রা বন্দর উন্নয়নে নেওয়া একটি প্রকল্পে ৫০০ কোটি টাকা ও অপর প্রকল্পে ২১৩ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, দেশের ইতিহাসে একমাত্র লাখ কোটি টাকা ছাড়ানো প্রকল্প রূপপুর পারমানণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে আগামী অর্থবছর বরাদ্দ থাকছে ১৪ হাজার ৯৮০ কোটি ৭ লাখ টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে চলতি অর্থবছর ১১ হাজার ৯৯ কোটি ২৬ লাখ টাকা বরাদ্দ ছিল। সংশোধিত এডিপিতে বরাদ্দ ওঠে ১১ হাজার ৩১৩ কোটি ১৮ লাখ টাকায়। আগামীতে এতে বরাদ্দ বাড়ছে ৩ হাজার ৬৬৭ কোটি টাকা।

পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণ প্রকল্পে গত অর্থবছর ৪ হাজার ৩৯৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা বরাদ্দ থাকলেও সংশোধিত এডিপিতে তা নামিয়ে আনা হয় ২ হাজার ৬৫৬ কোটি টাকায়। দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে অন্যান্য অংশের স্থল যোগাযোগ বাড়াতে নেওয়া প্রকল্পটিতে আগামী অর্থবছরে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে ৫ হাজার ৩৭০ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। সংশোধিত এডিপির তুলনায় আগামী বছর প্রকল্পটিতে বরাদ্দ বাড়ছে ২৭১৪ কোটি ৬৯ লাখ টাকা।

পদ্মা রেল সংযোগ প্রকল্পে আগামী বছর বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে ৩ হাজার ৯৯৫ কোটি ২০ লাখ টাকা। ৩৯ হাজার ২৪৬ কোটি ৮০ লাখ টাকার এ প্রকল্পে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট ব্যয় হয়েছে ৯ হাজার ২৩০ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। চলতি অর্থবছর এ প্রকল্পে ৫ হাজার ৩৩০ কোটি ৩৭ লাখ টাকা বরাদ্দ থাকলেও পরে তা ৩ হাজার ২৯০ কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়।

কক্সবাজারকে রেল নেটওয়ার্কে আনতে নেওয়া ‘দোহাজারী থেকে রামু হয়ে কক্সবাজার এবং রামু থেকে বান্দরবানের ঘুমধুম পর্যন্ত সিঙ্গেল লাইন ডুয়েল গেজ ট্র্যাক নির্মাণ’ (১ম সংশোধিত) প্রকল্পের এ বছর বরাদ্দ রয়েছে ৫২৮ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। ১৮ হাজার ৩৪ কোটি টাকার এ প্রকল্পে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রকল্পটিতে ক্রমপুঞ্জীভূত ব্যয় হয়েছে ৩ হাজার ৩৬৭ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। আগামী বছর ৫৭৭ কোটি প্রথম মেট্রোরেল তথা ঢাকা ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলেপমেন্ট প্রজেক্ট (এমআরটি-৬) প্রকল্পে আগামী অর্থবছরে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে ৭ হাজার ২১২ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। ২১ হাজার ৯৮৫ কোটি ৭ লাখ টাকা টাকার এ প্রকল্পে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে ৫ হাজার ৮৬০ কোটি ১৯ লাখ টাকা। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রথম পর্যায়ে উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত ১২ কিলোমিটারের কাজ এ বছরের মধ্যে শেষ করার কথা রয়েছে।

ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে নেওয়া কয়লাভিক্তিক ‘মাতারবাড়ি ২–৬০০ মে.ও. আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল কোল ফায়ার্ড পাওয়ার প্রজেক্ট’-এ ব্যয় হচ্ছে ৩৫ হাজার ৯৮৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। এ প্রকল্পে এ বছর বরাদ্দ রয়েছে ২ হাজার ৮২৭ কোটি টাকা। গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রকল্পটিতে ক্রমপুঞ্জীভূত ব্যয় হয়েছে ৭ হাজার ৬৯৬ কোটি ১০ লাখ টাকা। আগামী বছর বরাদ্দ বাড়িয়ে ৩ হাজার ৫৬ কোটি টাকা করা হচ্ছে।

বহির্বিশ্বের সঙ্গে দেশের সমুদ্রপথের বাণিজ্য আরো বাড়াতে পায়রা গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের  প্রয়োজনীয় অবকাঠামো/সুবিধাদির উন্নয়ন (১ম সংশোধিত) প্রকল্পের বরাদ্দ থাকছে ৫০০ কোটি টাকা। ৩ হাজার ৩৫০ কোটি টাকার প্রকল্পে এবার বরাদ্দ ছিল ৫৫২ কোটি টাকা। ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এ প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে ৬১০ কোটি টাকা। অন্যদিকে ৩ হাজার ৯৮২ কোটি ১০ লাখ টাকা ব্যয় ধরে নেওয়া পায়রা বন্দরের প্রথম টার্মিনাল এবং আনুষঙ্গিক সুবিধাদি নির্মাণ প্রকল্পে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে ২১৩ কোটি টাকা।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads