• রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২ আশ্বিন ১৪২৭
ads
শতবর্ষ উদযাপনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

ফাইল ছবি

ক্যাম্পাস

শতবর্ষ উদযাপনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

  • ঢাবি প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ০১ জুলাই ২০২০

আজ পয়লা জুলাই ২০২০, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস। প্রতিষ্ঠার ৯৯ বছর পেরিয়ে আজ শতবর্ষে পা রাখলো প্রাচ্যের অক্সফোর্ড বলে খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ১৯২১ সালের এই দিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলো। প্রতিবছর এই দিন অত্যন্ত আড়ম্বরের সঙ্গে উৎসবের সঙ্গে দিনটি পালিত হলেও এবছর  COVID-19 Pandemic উদ্ভূত পরিস্থিতিতে স্বল্প পরিসরে দিবসটি উদযাপন করা হচ্ছে। দিবসটি উদযাপন উপলক্ষ্যে সংক্ষিপ্ত কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছিলো। এখনও পর্যন্ত যে কর্মসূচিগুলো পালিত হয়েছে, সেগুলো হলো-

সকাল সাড়ে ১০টায় নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন প্রাঙ্গণে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে জাতীয় পতাকা, বিশ্ববিদ্যালয় পতাকা উত্তোলন ও বেলুন উড়ানো এবং সকাল ১১টায় অধ্যাপক আবদুল মতিন চৌধুরী ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনলাইন ভার্চুয়াল মিটিং প্ল্যাটফর্ম জুমের মাধ্যমে আলোচনা সভা। আলোচনা সভায় জাতীয় অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম সংযুক্ত হয়ে “শতবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।। প্রসঙ্গ : আন্দোলন ও সংগ্রাম”  শীর্ষক মূল বক্তব্য প্রদান করেন।

এছাড়া এই অনলাইন অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন), প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা), কোষাধ্যক্ষ, প্রাক্তন দু’জন উপাচার্য, দু’জন ডিন, একজন প্রভোস্ট, একজন রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েট, ঢাবি অ্যালামনাই এসোসিয়েশনের সভাপতি এবং ঢাবি শিক্ষক সমিতিসহ অন্যান্য সমিতির পক্ষ থেকে নেতারা সংযুক্ত হয়েছিলেন।

দিবসটি উপলক্ষ্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান ইতিমধ্যে শুভেচ্ছা বাণী প্রদান করেছেন। বাণীতে তিনি উল্লেখ করেন, '২০২০-এ নিরানব্বই বছর শেষ করে শতবর্ষে পা দিল আমাদের এ চিরতরুণ প্রতিষ্ঠান। করোনা ভাইরাস সংক্রমণের উদ্ভূত পরিস্থিতিতে লোকসমাবেশ এড়িয়ে প্রাণপ্রিয় ছাত্র-ছাত্রীবিহীন স্বল্পপরিসরে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আয়োজনে নিঃসন্দেহে আনন্দ, প্রশান্তি ও স্বস্তির ঘাটতি অনস্বীকার্য। তবে মুজিববর্ষের এ অলোকসামান্য কালপর্বে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এবারের বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের তাৎপর্য অত্যন্ত গভীর ও ব্যাপক।' 

এছাড়াও বাণীতে ঢাবি উপাচার্য আরো বলেন, 'প্রকৃতপক্ষে বঙ্গবন্ধু এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ নামক আমাদের প্রাণপ্রিয় মাতৃভূমির দুই অন্তহীন প্রেরণা-উৎস। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষে পালিত হওয়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস ২০২০ লাভ করেছে এক অনন্য মাত্রা। প্রতিষ্ঠার শতবর্ষ উদযাপনের বিরল সৌভাগ্য-প্রাপ্তির পূর্বক্ষণে মুজিববর্ষ এ বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য চির অম্লান আশীর্বাদ হয়ে এসেছে।'

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস বন্ধ থাকায় প্রতিবছরের মত এবছর ছাত্রছাত্রীরা প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষ্যে কোনো শোভাযাত্রা বের করতে পারেনি। চাঞ্চল্যে ভরা ক্যাম্পাস জনশূন্য। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশিরভাগ ছাত্রছাত্রী ফেসবুকে তাদের প্রোফাইল পিকচার পরিবর্তন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার শতবার্ষিকী সংবলিত ফ্রেম ব্যবহার করে অনলাইনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার শত বার্ষিকী পালন করছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ইতিহাসের বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটের থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনকালে স্বাধীন জাতিসত্তার বিকাশের লক্ষ্যে বিশ শতকের দ্বিতীয় দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া শুরু হয়। ১৯১২ সালের ২রা ফেব্রুয়ারি ঢাকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেন তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের ভাইসরয় লর্ড হার্ডিঞ্জ। এর মাত্র তিন দিন পূর্বে ভাইসরয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আবেদন জানিয়েছিলেন ঢাকার নবাব স্যার সলিমুল্লাহ, ধনবাড়ির নবাব সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী, শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক এবং অন্যান্য নেতা। ২৭-এ মে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য ব্যারিস্টার আর. নাথানের নেতৃত্বে ডি. আর. কুচলার, ড. রাসবিহারী ঘোষ, নবাব সৈয়দ আলী চৌধুরী, নবাব সিরাজুল ইসলাম, ঢাকার প্রভাবশালী নাগরিক আনন্দচন্দ্র রায়, ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ ডব্লিউ.এ.টি. আর্চিবল্ড, জগন্নাথ কলেজ-এর অধ্যক্ষ ললিত মোহন চট্টোপাধ্যায়, ঢাকা মাদ্রাসার (বর্তমান কবি নজরুল সরকারি কলেজ) তত্ত্বাবধায়ক শামসুল উলামা আবু নসর মুহম্মদ ওয়াহেদ, মোহাম্মদ আলী (আলীগড়), প্রেসিডেন্সি কলেজের (কলকাতা) অধ্যক্ষ এইচ. এইচ. আর. জেম্স্, প্রেসিডেন্সি কলেজের অধ্যাপক সি.ডব্লিউ. পিক এবং সংস্কৃত কলেজের (কলকাতা) অধ্যক্ষ সতীশ্চন্দ্র আচার্য-কে সদস্য করে একটি শক্তিশালী কমিটি গঠিত হয়। ১৯১৩ সালে প্রকাশিত হয় নাথান কমিটির ইতিবাচক রিপোর্ট এবং ঐ বছরই ডিসেম্বর মাসে সেটি অনুমোদিত হয়। ১৯১৭ সালে গঠিত স্যাডলার কমিশনও ইতিবাচক প্রস্তাব দিলে ১৯২০ সালের ১৩ই মার্চ ভারতীয় আইন সভা পাশ করে ‘দি ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যাক্ট (অ্যাক্ট নং-১৩) ১৯২০’।

ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বার উন্মুক্ত হয় ১৯২১ সালের ১ জুলাই। সে সময়কার ঢাকার সবচেয়ে অভিজাত ও সৌন্দর্যমন্ডিত রমনা এলাকায় প্রায় ৬০০ একর জমির ওপর পূর্ববঙ্গ এবং আসাম প্রদেশ সরকারের পরিত্যক্ত ভবনসমূহ ও ঢাকা কলেজের (বর্তমান কার্জন হল) ভবনসমূহের সমন্বয়ে মনোরম পরিবেশে গড়ে ওঠে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

উল্লেখ্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এই দেশ ও দেশের মানুষের কাছে একটি আবেগের নাম। '৫২ এর ভাষা আন্দোলন, '৬২ এর শিক্ষানীতি বাতিলের বিরুদ্ধে আন্দোলন, '৬৯ এত গণ অভ্যুত্থান, '৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে এই দেশকে স্বাধীন করার জন্য সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads