• বুধবার, ৩ মার্চ ২০২১, ১৮ ফাল্গুন ১৪২৭

ক্যাম্পাস

শিল্পী হয়ে মানুষের মাঝে বেঁচে থাকতে চাই

  • অরণ্য সৌরভ
  • প্রকাশিত ১৮ জানুয়ারি ২০২১

ক্যাম্পাসেগল্পের আসর অথবা চা চক্র যেখানেই যাবেন সেখানেই তার গান আর সুরের মূর্ছনা আপনাকে দু’হাত মেলে ডাকবে। জীবনে সরকারি অফিসার হতে চাইলেও হয়েছেন শিল্পী। আর সামনের দিনগুলোতে শিল্পী হয়েই মানুষের মাঝে বেঁচে থাকতে চান তিনি। ছেলেবেলা থেকেই দুরন্ত স্বভাবের লালচাঁনের গানের প্রতি অনুরাগের পেছনের গল্পটি বিষ্ময়কর! ছোটকাল থেকেই বিভিন্ন বাউল গানের আসরে যাতায়াত করায় এক পর্যায়ে গানের প্রতি আসক্তি সৃষ্টি হয়ে যায়। তখনই মনে মনে চেয়েছিলেন স্টেজে উঠে হাজার হাজার দর্শকশ্রোতাদের সামনে গান গাইবে। সেই আশা বাস্তবে রূপ দিতে পেরে এখন সে আনন্দিত।

লালচাঁন তালুকদার বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দি উপজেলার যমুনা নদীর পাড়ে কামালপুর ইউনিয়নের অর্ন্তগত নিভৃত পল্লী কাশাহার-এ বেড়ে উঠেছেন। মা-বাবাসহ ৬ সদস্যের পরিবারে সবার ছোট তিনি। ছোটকাল থেকেই গুনগুনিয়ে গান গাইলেও গ্রামের বিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গান গেয়ে শ্রেষ্ঠ পুরস্কার পাওয়ার মাধ্যমে গানের জগতে অভিষেক ঘটে লালচাঁনের। স্কুল জীবন থেকে গানের সাথে জড়িয়ে গেলেও বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে এসে তা পরিপূর্ণতা পায়। ক্যাম্পাসের নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গান ও আড্ডা দিতে দিতে তার গানের খ্যাতি চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। আর তখনই লালচাঁন হয়ে যায় ‘গানের পাখি’। গানের পাখি খ্যাত লালচাঁন কাছের ছোট ভাই, বন্ধু সবার কাছে ‘লাল ভাই’ নামেই বেশি পরিচিত।

কড়িতলা এস.এইচ দ্বিমুখী উচ্চবিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিকও চন্দন বাইশা ডিগ্রি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে বর্তমানে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগে মাস্টার্সে পড়াশোনা করছেন তিনি।

লালন সাঁইজীর শহর কুষ্টিয়ায় থাকার সুবাদে লালনসহ ফোক গানকে ভালোবেসে ফোক শিল্পী হয়ে উঠেন লালচাঁন। শ্রোতাদেরকে সব সময় পাশে পেয়ে আরও ভালোবাসা কুড়াতে নতুন নতুন গান উপহার দিতে চায় সে।

আরটিভির ‘বাংলার গায়েন’ প্রতিযোগিতায় সেরা ৩০-এ লালচাঁন জায়গা করে নেওয়ার পরদু’বছরের জন্য চুক্তিবদ্ধ হওয়ায় আরটিভির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, সামনের দিনগুলোতে বাংলার মাটি ও মানুষের গান গেয়ে যেতে চাই। মানুষের ভালোবাসা নিয়ে মাটির শিল্পী হয়ে বেঁচে থাকতে চাই।

ঢাকা শিল্পকলা একাডেমির ২০১৯ সালের প্রতিযোগিতায় মাইজভান্ডারি গানে প্রথমস্থান অধিকার করে। এছাড়াও স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নানান অনুষ্ঠানে একাধিক পুরস্কার জীবনে অর্জনের ঝুঁড়িতে ঠাঁই পেয়েছে।এছাড়াও তিনি দেশের প্রায় ৬০ জেলায় গান গেয়ে পেয়েছেন নানান পুরস্কার।

‘সবই উছিলা দয়ালের’ এবং ‘কাউকে ঘৃণা করিস না রে’ নামে তার দু’টি গানের এ্যালবামও বাজারে এসেছে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় থিয়েটার, ইসলামিক ইউনিভার্সিটি মিউজিক অ্যাসোসিয়েশনসহ আরও কয়েকটি সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে জড়িত।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads