• শুক্রবার, ২২ মার্চ ২০১৯, ৮ চৈত্র ১৪২৪
ads
শিশুর ডায়াপার র‌্যাশ

ছবি : সংগৃহীত

শিশু

শিশুর ডায়াপার র‌্যাশ

  • প্রকাশিত ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

মায়েরা শিশুকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে ছোটবেলা থেকেই ডায়াপার ব্যবহার করে থাকেন। এটির ব্যবহার মায়েদের অনেক কাজ সহজ করে দিলেও এর প্রতি অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা শিশুর জন্য কখনো ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কারণ দীর্ঘক্ষণ ডায়াপারের ব্যবহারে শিশুর ত্বকে একধরনের র‌্যাশ দেখা দেয়। এটিকে ডায়াপার র‌্যাশ বলে।

 

যে কারণে ডায়াপার র‍্যাশ হয়

ভেজাভাব : মূলত ভেজাভাব শোষণ করে শিশুকে শুষ্ক রাখতেই  ডায়াপার ব্যবহার করা হয়। তবে কখনো কখনো সেটিও আপনার শিশুর ত্বকে কিছুটা আর্দ্রতা রেখে যায়। যদিও ভেজা ডায়াপার অনেকক্ষণ পরে থাকলে র‍্যাশ হয় তবে যেসব শিশুর সেনসিটিভ স্কিন, তাদের ক্ষেত্রে বার বার ডায়াপার পরিবর্তন করার পরেও এ সমস্যা দেখা দিতে পারে।

ডায়াপারে ঘষা লাগা এবং কেমিক্যাল সেনসিটিভিটি : ডায়াপারের ঘষা লাগা থেকেও শিশুর ত্বকে র‍্যাশ দেখা দিতে পারে। ডিস্পোজেবল ডায়াপারে যে সুগন্ধি ব্যাবহার করা হয়, তার কারণে অথবা কাপড়ের ডায়াপার ধোয়ার জন্য যে ডিটারজেন্ট ব্যবহার করা হয়, তার প্রতি যদি বাচ্চার ত্বক সংবেদনশীল হয় তা হলে ডায়াপার র‍্যাশ দেখা দিতে পারে। আপনি ডায়াপার পরানোর সময় যে লোশন বা পাউডার ব্যবহার করছেন, তাও হয়তোবা তার ত্বকে সহ্য হচ্ছে না।

ব্যাকটেরিয়া বা ইনফেকশন : ডায়াপার পরানোর জায়গাটি গরম ও আর্দ্র থাকে- ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক এ ধরনের জায়গায়ই বিস্তার লাভ করে। শিশুর দেহের যেটুকু অংশ ডায়াপারে ঢাকা থাকে, বিশেষ করে নিতম্ব, ঊরু ও জননাঙ্গে সহজে বাতাস চলাচল করতে পারে না। এসব স্থানে খুব সহজে সংক্রমণ হয় এবং শিশুর ত্বকের ভাঁজে লাল লাল গুটির মতো র‍্যাশ দেখা দেয়। ব্যাকটেরিয়া বা ছত্রাকের সংক্রমণ ত্বকের কোনো অংশে হলে তা ধীরে ধীরে ছড়াতে থাকে।

অ্যান্টিবায়োটিক : যেসব শিশু অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ সেবন করে বা যেসব মা শিশুদের বুকের দুধ খাওয়ান, তাদেরও ডায়াপার র‍্যাশ হতে পারে। কারণ অ্যান্টিবায়োটিক শরীরের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াসহ উপকারী ব্যাকটেরিয়াগুলো নষ্ট করে থাকে। অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার ফলে শিশুর দেহে ব্যাকটেরিয়া সংক্রামণ প্রতিরোধকারী ব্যাকটেরিয়াগুলো নষ্ট হয়ে যায় এবং র‍্যাশের সৃষ্টি হয়।

শিশুর ডায়াপার র‍্যাশ হলে ভয়ের কিছু নেই। সঠিকভাবে যত্ন নিলে দু-তিন দিনের মধ্যেই তা ঠিক হয়ে যায়।

 

ডায়াপার র‍্যাশ প্রতিরোধে করণীয়

·       ডায়াপার পরানোর আগে পাউডার ব্যবহার না করে পেট্রোলিয়াম জেলি, পেট্রোলিয়াম অয়েন্টমেন্ট ব্যবহার করুন। এগুলো শিশুকে মল-মূত্র ত্বকে লেগে থাকাজনিত অস্বস্তিকর অবস্থা থেকে সুরক্ষিত রাখে। একবার ঘন করে লাগিয়ে দিলে প্রতিবার ডায়াপার পরিবর্তনের সময় লাগানোর প্রয়োজন হয় না।

·       শিশুর ডায়াপার যাতে খুব আঁটসাঁট না হয় তা খেয়াল রাখতে হবে। এতে স্থানটি আবদ্ধ হয়ে থাকে এবং স্যাঁতসেতে হয়ে যায়। প্রয়োজনে একটু বড় সাইজের ডায়াপার পরাতে পারেন।

·       দীর্ঘক্ষণ ডায়াপার পরিয়ে রাখার অভ্যাস ত্যাগ করুন। মাঝে মাঝে ডায়াপার ভিজে গেছে কি-না দেখে নিন। শিশু মলত্যাগ করার সঙ্গে সঙ্গে ডায়াপার বদলে নিন। রাতে শিশুকে এক ডায়াপার পরিয়ে না রেখে অন্তত দুবার ডায়াপার পাল্টাতে হবে।

·       ডায়াপার বদলে দেওয়ার পর শিশুকে পরিষ্কার করতে অনেকে অ্যালকোহলযুক্ত টিস্যু বা ওয়াইপস ব্যবহার করেন। এ ধরনের জিনিস শিশুর ত্বকের জন্য উত্তেজক হতে পারে। সেক্ষেত্রে প্রতিবার ডায়াপার পরিবর্তনের পর হালকা উষ্ণ পানি দিয়ে স্থানটি পরিষ্কার করে কাপড় বা টাওয়েল চেপে পানি শুকিয়ে নিন।

·       যদি ডায়াপার বার বার পরিবর্তন করা হয়, তখন আর ডায়াপার ব্যবহারের জায়গায় পাউডার ব্যবহারের দরকার নেই। অনেকেরই ধারণা, ডায়াপার খোলার পর ছোট্ট শিশুকে বেবি লোশন এবং পাউডার লাগাতে হবে। প্রকৃতপক্ষে এগুলো লাগিয়ে ডায়াপার র‍্যাশ প্রতিরোধ করা যায় না; বরং এতে ক্ষতি হয়।

·       শিশুকে মাঝে মাঝে ডায়াপার ছাড়া খেলতে দিন। র‍্যাশ আক্রান্ত স্থানে খোলা বাতাস লাগলে ডায়াপার র‍্যাশ দ্রুত সেরে উঠবে। এ জন্য ডায়াপার বদলের স্থানটি পরিষ্কার করার পর অন্তত ১০ থেকে ১৫ মিনিট ডায়াপারহীন অবস্থায় রাখুন। র‍্যাশ থাকা অবস্থায় শিশুকে ডায়াপার ছাড়াই ঘুমাতে দিন। এক্ষেত্রে রেক্সিনের কভার ব্যবহার করুন।

·       মানসম্পন্ন ডায়াপার ব্যবহার করুন। ব্যবহূত ডায়াপারে শিশুর র্যাশ হলে প্রয়োজনে ব্র্যান্ড পরিবর্তন করুন। কখনো তিন ঘণ্টার বেশি একটি ডায়াপার ব্যবহার করা উচিত নয়।

·       কাপড়ের ডায়াপার ব্যবহার করলে তা ধোয়ার জন্য ভালো মানের বার সাবান বা ডিটারজেন্ট ব্যবহার করুন। ডায়াপার ধোয়ার কাজে গরম পানি ব্যবহার করতে পারেন। ধোয়ার সময় খেয়াল রাখুন যাতে ব্যবহূত সাবান ভালোভাবে পরিষ্কার করা হয়।

·       ডায়াপার দীর্ঘসময় ধরে পরিয়ে রাখা ঠিক নয়। এ ছাড়া যত দ্রুত সম্ভব অপরিষ্কার ডায়াপার বদলে ফেলা উচিত। তবে কোনোটাই বেশিক্ষণ ভেজা অবস্থায় রাখা উচিত নয়। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব, ডায়াপার বদলে নিতে হবে।

 

 

শিলুফা এ. শিল্পী

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads