• সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০১৯, ৫ কার্তিক ১৪২৬
ads
বর্ষায় শিশুদের রোগবালাই

সংগৃহীত ছবি

শিশু

বর্ষায় শিশুদের রোগবালাই

  • প্রকাশিত ১৮ জুলাই ২০১৯

বর্ষায় প্রকৃতি ভেজা থাকে। সব জায়গায় স্যাঁতসেঁতে ভাব। অন্য সময়ের চেয়ে এ সময় শিশুদের অসুখ-বিসুখে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা অনেক বেশি। এ কারণে বর্ষায় শিশুর বিশেষ যত্নের প্রয়োজন। এ সময় শিশুর খাওয়া-দাওয়া থেকে শুরু করে গোসল ও পোশাক নির্বাচনের সময় মায়েদের বিশেষ যত্নবান হতে হবে।

বৃষ্টির কারণে শিশুরা সহজেই ভিজে যেতে পারে। বৃষ্টি থেকে তাদের দূরে রাখতে হবে। বৃষ্টির পানিতে ভিজলে শিশুর সর্দি-কাশি হতে পারে; নিউমোনিয়াসহ আক্রান্ত হতে পারে জ্বরেও। পানিবাহিত রোগের সম্ভাবনাও থাকে বেশি। এ সময়ের জ্বর শিশুর ভোগান্তির কারণ। এছাড়া ভেজা ও স্যাঁতসেঁতে আবহের কারণে শিশুদের ত্বকের নানা ধরনের সমস্যাও দেখা দিতে পারে। তাই শিশুর প্রতি বিশেষ যত্নবান হলে ত্বকের অনেক সমস্যা সহজেই এড়ানো সম্ভব।

শিশুর ভেজা কাপড় পাল্টে দিতে হবে। পাতলা ও নরম কাপড় দিয়ে শরীর মুছে দিতে হবে। ভেজা ও ঠান্ডা আবহাওয়া থাকলেও এ সময় শিশুকে প্রতিদিন গোসল করাতে হবে। তবে অত্যধিক সাবান ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে হবে। শিশুর কোমল ত্বকের ওপর এক ধরনের সাহায্যকারী ব্যাকটেরিয়া থাকে, তা অত্যধিক সাবান ব্যবহারে নষ্ট না করাই ভালো। কারণ এসব ব্যাকটেরিয়া নানারকম সংক্রমণ থেকে শিশুর ত্বককে রক্ষা করে। সবসময় শিশুকে হালকা সুতির জামা পরানো উচিত।

শিশুর খাওয়া-দাওয়ার ক্ষেত্রেও সচেতন হতে হবে। অতিরিক্ত পানি পান করতে দেওয়া উচিত নয়। আইসক্রিম, জুসসহ ঠান্ডা জাতীয় খাবার বর্জন করা উচিত। পোশাকের ক্ষেত্রে শুকনো পোশাক পরিধান করানো উচিত। প্রয়োজনীয় স্বাভাবিক খাবারের পাশাপাশি ঘরে তৈরি নানা ধরনের ফলের জুস, লেবুর শরবতও খেতে দেওয়া উচিত।

বর্ষায় সব জায়গা ভেজা থাকে। সাপ, কেঁচো, তেলাপোকাসহ বিভিন্ন পোকামাকড়ের উপদ্রব বাড়ে। এগুলো থেকে শিশুকে দূরে রাখতে হবে। মশার কামড় এ সময় বিপজ্জনক হতে পারে। মশারি ব্যবহারের পাশাপাশি রুমটিও যাতে মশামুক্ত থাকে, সেদিকে নজর দিতে হবে।

সুস্থ থাকুক আপনার শিশু

প্রকৃতিতে এখন চলছে বর্ষাকাল। পাশাপাশি গরমও পড়েছে বেশ ভালোই। বৃষ্টি হলে তাপমাত্রা একটু কম থাকলেও পরক্ষণেই ভ্যাপসা গরম। এই আবহাওয়ায় বড়দের চেয়ে শিশুদের অস্বস্তিটা অনেক বেশি। কেননা ছোটরা বড়দের চেয়ে বেশি দৌড়ঝাঁপ করে। ঘুম থেকে ওঠার পর ঘুমাতে যাওয়ার আগপর্যন্ত চলে তাদের এই ছোটাছুটি ও খেলাধুলা। আর এই হঠাৎপড়া গরমে শিশুরা পড়ে যায় বেশ সমস্যায়। তাই গরমে শিশুদের প্রতি একটু বেশি যত্ন নেওয়া দরকার, বিশেষ করে যেসব শিশু স্কুলে যেতে শুরু করেছে।

চলুন, তবে জেনে নিই কিছু টিপস-

* গরমের শুরুতেই ছোট-বড় সবার মধ্যে যে সমস্যাটি দেখা দেয় তা হলো পানিশূন্যতা। বড়দের চেয়ে শিশুরা সাধারণত দ্রুত পানিশূন্যতায় আক্রান্ত হয়। সেক্ষেত্রে শিশুদের বেশি করে পানি পান করাতে হবে। পাশাপাশি ফলের জুস, ডাবের পানি, শরবত খাওয়াতে হবে। ওদের তৃষ্ণা না পেলেও অন্তত ২০ মিনিট পরপর পানি খাওয়ান। স্কুলে যাওয়ার সময় অবশ্যই সঙ্গে পানির বোতল দিয়ে দিন।

* এ সময় বাইরে প্রচুর ধুলা-ময়লা থাকে। তাই বাইরে থেকে ফেরার সঙ্গে সঙ্গে শিশুদের হাত-মুখ ভালোভাবে ধুইয়ে কাপড় বদলে দিন। খেলাধুলা করে আসার পর ভেজা কাপড় দিয়ে মাথা ভালোভাবে মুছে দিন। কেননা চুলে লেগে থাকা ময়লা পরবর্তী সময়ে হাতের সাহায্যে মুখে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

* শিশুদের রোদে বেশি ছোটাছুটি করতে না দেওয়াই ভালো। কেননা এ সময় রোদ থেকে সানবার্ন হলে শরীরের মেলানিন দ্বিগুণ হয়ে যাবে, যা ওদের ত্বকের জন্য ক্ষতিকর। তাই বাইরে যাওয়ার আগে ভালো ব্র্যান্ডের সানস্ক্রিম ওদের হাত-মুখে লাগিয়ে দিন। এছাড়া সানগ্লাস ব্যবহার করতে শেখান।

* ছয় মাসের কম বয়সী শিশুদের সরাসরি সূর্যের আলো থেকে দূরে রাখুন। একান্তই যদি বাইরে নেওয়ার প্রয়োজন হয়, তাহলে ছাতা ব্যবহার করুন। পাশাপাশি ওদের শরীর ভালোভাবে কাপড় দিয়ে পেঁচিয়ে নিন।

* শিশুদের সুস্থ রাখতে পাতলা, নরম সুতি কাপড়ের ঢিলেঢালা জামা পরান। ঘামে ভিজে গেলে দ্রুত তা পাল্টে দিন। আটসাট কাপড়ে ওরা অস্বস্তি বোধ করে।

* হালকা রঙের পোশাক পরান শিশুদের। খেয়াল রাখবেন ওদের জামায় যেন ধারালো জিনিস বা বোতাম না থাকে, যাতে ওরা ব্যথা পেতে পারে।

* স্কুল থেকে ফেরার পর স্কুলের জামা ও জুতা পাল্টে হাত-মুখ ধুইয়ে জুস বা শরবত খেতে দিন।

* শিশুদের নরম ও টাটকা খাবার খেতে দিন। হাইপ্রোটিন জাতীয় খাবার না খাওয়ানোই ভালো। এতে শিশুর পাকস্থলী ভালো থাকবে এবং সুস্থ থাকবে।

* তবে দুধ ও দুধ জাতীয় খাবার যেমন মিষ্টি, দই, পনির, ছানা, মাখন এগুলো পরিমাণমত খাওয়াতে পারেন। এসব খাবার ঘরে তৈরি হলে ভালো হয়। শিশুদের কৌটার খাবার কম খেতে দিন। কারণ এসব খাবারে থাকা প্রিজারভেটিভ ওদের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।

* জাঙ্ক ফুড, কোল্ড ড্রিংকস, চিপস, চানাচুর- এসব খাবার স্বাস্থ্যসম্মত না হলেও শিশুরা প্রায়ই এসবের জন্য বায়না করতে থাকে। বাইরের খাবার এমনিতেই কম খাওয়ানো ভালো, তার ওপর এ সময় তো একদম না। তার বদলে ফল বা ঘরে বানানো খাবার দিন।

* যেসব শিশু বেশি ঘামে, তাদের প্রতি একটু বাড়তি যত্ন নিন। একটু পরপর ওদের মাথা ও শরীর শুকনো কাপড় দিয়ে মুছে দিন, যাতে ঠান্ডা বসে না যায়।

* শিশু ঘুমাতে যাওয়ার আগে হাত-মুখ ধুয়ে লোশন লাগিয়ে পাতলা জামা পরিয়ে দিন।

* এ সময় আরেকটি বড় সমস্যা হলো- রাতের শুরুতে গরম আর শেষ রাতের দিকে ঠান্ডা অনুভূত হয়। সেক্ষেত্রে ওদের গায়ে পাতলা চাদর তুলে দিন।

* যেসব শিশুর ডাস্ট অ্যালার্জির সমস্যা আছে, সেসব শিশুকে ধুলা-ময়লা থেকে যতটা পারা যায় দূরে রাখা ভালো। ওদের সামনে বিছানা বা ঘর ঝাড়ু না দেওয়াই ভালো।

* শিশু যে ঘরে থাকে, সে ঘরে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস যেন চলাচল করে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

ডা. আইরিন সুলতানা

শিশু বিশেষজ্ঞ

শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads