• রবিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৯, ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
ads

শিশু

বাচ্চার টিফিন নিয়ে সমস্যা হলে...

  • সৈয়দ ফয়জুল আল আমীন
  • প্রকাশিত ২৭ অক্টোবর ২০১৯

স্কুলে ঠিকমতো টিফিন না খাওয়া বাচ্চাদের একটা সাধারণ সমস্যা। তাই এ নিয়ে বাড়িতে প্রতিদিন ঝামেলা লেগেই থাকে। এবার তবে জেনে নিন পরিস্থিতি কীভাবে সামলাবেন। লিখেছেন ফয়জুল আল আমীন-

 

আতিয়াকে নিয়ে ওর মা ভীষণ সমস্যায় পড়েছেন। আতিয়া এমনিতে খুব বাধ্য, পড়াশোনাতেও বেশ মনোযোগী, সুন্দর গান গায় ও নাচতেও জানে। ওর যত সমস্যা খাওয়া নিয়ে। বিশেষ করে স্কুলের টিফিন নিয়ে আতিয়ার বায়নার অন্ত নেই।

প্যাটিস, পেস্ট্রি, বার্গার, ভাজা এসব ছাড়া কিছুই তার মুখে রোচে না। রুটি তরকারি, ব্রেড বাটার কিংবা ফল যেমনভাবে সাজিয়ে দেয়া হয়, তেমনভাবেই আবার ফেরত চলে আসে। এদিকে কেন্টিন থেকে চিপস, চকলেট খাওয়ার জন্য রোজই পকেট মানির বায়না চলতে থাকে। আমাদের ঘরে ঘরে এ সমস্যাটা সবারই জানা। বেশিরভাগ বাবা মা-ই বলেন, তাদের বাচ্চারা ঠিকমতো টিফিন খায় না।

আসলে এ নালিশটা কিন্তু ষোলআনা ঠিক নয়। কারণ যেসব বাচ্চারা খেতে চায় না, তাদের কিন্তু মুখরোচক কোনো খাবার দিলে তারা অনায়াসে খেয়ে নেয়। অর্থাৎ সমস্যাটা হলো বাচ্চা তার পছন্দমতো খাবার না পেলে টিফিন খায় না। আবার যদিও বা আপনি ওর পছন্দের খাবার টিফিনে দিলেন তাতে স্বাদ থাকলেও পুষ্টি জিরো।

আসলে আমরা অনেক সময় ভুলে যাই যে, বাচ্ছাদের মুখে যা ভালো লাগে তাই তারা খেতে চায়। পুষ্টির নামে বাচ্চাকে যদি রোজ স্বাদহীন খাবার খাওয়ান, তাহলে সে খেতে চাইবেই বা কেন! খাবারে বৈচিত্র্য না থাকলে কারোই বা খেতে ভালো লাগে। তাই টিফিন পাল্টে একেক দিন একেক রকম সুস্বাদু খাবার সুন্দরভাবে সাজিয়ে দিতে পারলে সমস্যা কিন্তু অনেকটাই মিটবে। মা এবং বাবা দু’জনেই চাকরিজীবী, সেখানে রোজ সকালবেলা সন্তানের জন্য নিত্যনতুন সুস্বাদু আর পুষ্টিকর খাবার বানানোও সমস্যা। তাহলে উপায়? উপায় হিসেবে আপনার জন্য কিছু পরামর্শ—

আমরা জানি সারা দিনের সবচেয়ে জরুরি খাবার সকালের নাশতা। খেয়াল রাখুন, বাচ্চাদের সকালের নাশতাটা যেন স্বাস্থ্যসম্মত হয়। চেষ্টা করুন ব্রেকফাস্টে যেন কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন এবং ফ্যাট তিনটাই সমান পরিমাণে থাকে।

* বাচ্চার মন রাখতে টিফিনের সঙ্গে একটু চিপস কিংবা চকোলেট দিয়ে দিন। ভালো কোনো খাবার দিলে একটু বেশি করে দিয়ে দিন। বলুন এটা ওর বন্ধুদের জন্য। এতে ওর খাওয়ার উৎসাহ অনেক বাড়বে।

* বাচ্চাকে এমন খাবার টিফিনে দিন যাতে ও সহজে এবং তাড়াতাড়ি খেতে পারে। মনে রাখবেন, টিফিন পিরিয়ডটা কিন্তু ওদের খেলারও সময়। তাই রুটি বা পুরি দিলে ভেতরে তরকারি ভরে ওকে রোল করে দিন, যাতে হাতে ধরে চট করে খেয়ে নিতে পারে। টিফিনে সব সময় চামচ এবং কাঁটাচামচ দেবেন। ভাজা জাতীয় খাবার দিলে টিস্যু পেপার দিন।

* সবজিকে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করুন। যেমন স্যান্ডউইচ বানান তাতে গাজর দিয়ে নাক, টমেটো দিয়ে মুখ, শসা দিয়ে চোখ বানিয়ে ফেলুন। শিশু মজাও পাবে খেতেও আগ্রহী হবে।

* রুটি বা পুরি দিলে তরকারি একটু সুস্বাদু করে বানান। ভালো গন্ধ আনতে চাট মসলা বা একটু গরম মসলার গুঁড়া ছড়িয়ে দিন। এক পাশে বাচ্চার পছন্দের সস দিন এতে অসাধারণ খাবারও খেতে অনেক ভালো লাগবে।

* শীতের দিনে নানা ধরনের মৌসুমি সবজি দিয়ে সবজি স্যুপ তৈরি করে দিতে পারেন।

* টিফিনে বার্গার, স্যান্ডউইচ, রোল, সমুচাজাতীয় মুখরোচক খাবার সবজি দিয়ে তৈরি করে দিতে পারেন।

* গাজরের কেক, লাউ-পেঁপে-চালকুমড়ার হালুয়া, বরফি, লাড্ডু এসব মিষ্টান্ন ঘরে তৈরি করে দিতে পারেন।

* একই ধরনের খাবার রোজ দেবেন না। ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে নানা ধরনের খাবার টিফিনে দিন। সবজি দিয়ে ফুল অথবা পাখি ইত্যাদি বানিয়ে টিফিনে খেতে দিন। এভাবে প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় নতুন নতুন সবজির রেসিপি রাখুন।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads