• বৃহস্পতিবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৮, ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৪
ads

হাস্যরস

সরেজমিন ঈদুল আজহা

  • শাহাদাত ফাহিম
  • প্রকাশিত ২৫ আগস্ট ২০১৮

কেউ কান দিয়েছে। কেউ দেয়নি। এর ভেতরেই পালিত হয়ে গেল এবারের ঈদুল আজহা। ঈদ আসছে আসছে বলে বেশ কিছু দিন যাবৎ লোকমুখে একটা গুঞ্জন ছিল। এই গুঞ্জনকে কেউ ধরে নিয়েছিল পাক্কা গুজব। আর কেউ ভেবেছিল বিলকুল সহি। যারা গুজব ধরে নিয়েছিল তারা এতে কান দেয়নি। কারণ গুজবে কান দেওয়া ছিল নিষিদ্ধ। যারা গুঞ্জনকে সহি ভেবেছিল তারা এতে ইচ্ছামতো কান দিয়েছে। শুধু কান দেওয়ার মাঝেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। কিনেছে কোরবানির পশু। অবশ্য কেউ কেউ পশু কেনার মাঝেও ক্ষান্ত থাকেনি। পশুর সঙ্গে তুলেছে নানান ভঙ্গিমার সেলফি। অতঃপর সেসব সেলফি তুমুল বেগে পোস্ট করেছে ফেসবুকে। যেগুলোর নাম- গরুসেলফি বা ছাগলসেলফি। তবে নামে কী আসে যায়। কিচ্ছুই না। বিষয়টি বোঝা গেছে সেলফির গুরুত্ব দেখে। দেখে দেখে আরো বোঝা গেছে, কোরবানির চেয়ে সেলফির ফজিলতটাই যেন তাদের কাছে অপরিসীম। এই সেলফির বিষয়ে সংিশ্লষ্ট একজনের মন্ত্যব্য জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, মন্তব্য মানে কমেন্ট। আর কমেন্ট যদি করতে চান তাহলে আমার পেজে অনেক ছাগলসেলফি রয়েছে, সেখানে গিয়ে প্রথমে লাইক দিন। অতঃপর কমেন্ট করুন। তারপর পেয়ে যাবেন পাল্টা কমেন্ট।

আনন্দের সংবাদ হলো এবারের ঈদে অন্যবারের তুলনায় অনেক বেশি ঢং প্রদর্শিত হয়েছে।  সরেজমিনে দেখা গেছে, এসব ঢং প্রদর্শন করেছে দেশের প্রতিভাবান ঢংগীলারা। ঈদের দিন তারা ভোর থেকে পরদিন ভোর পর্যন্ত প্রত্যেকে দেড় থেকে দু’শ বার পোশাক পরিবর্তন করেছে। তবে এসব পেশাক যে তাদের নিজেদের টাকায় কেনা তা কিন্তু নয়। দুয়েকটি তাদের নিজেদের কেনা থাকলেও বাকি সবই বিভিন্ন ক্যাটাগরির মজনু ফরহাদ গোছের ইনসানকুলের টাকায় কেনা। অবশ্য এসব মজনু ফরহাদদের অনেকেই কিন্তু অন্যের পকেটের ওপর নির্ভরশীল। এসব বিষয়ে দেশসেরা এক ঢংগীলার কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি ঢং করে করে বলেন, আমরা যাদের পোশাক ইত্যাদি গ্রহণ করি, তারা কিন্তু প্রত্যেকে অতি সহজে ধন্য এবং গর্বিত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। এই সুযোগ পাচ্ছেন আপনারাও। কারণ আমরা যে পরিমাণ ঢং প্রদর্শন করি, যদি তার সঠিক মূল্য পরিশোধ করতে হতো, তাহলে তাদের এবং আপনাদের সবাইকে বহুত আগেই পথে বসে যেতে হতো। আমাদের এই ফ্রি সার্ভিস কেউ বোঝে না।

এদিকে এবারের ঈদে না বোঝার কাতারে ছিল সক্রিয় সব সালামিবাজ। বিশ্ব অর্থনীতির করুণ দশার প্রভাবে গরু থেকে এবার ছাগলে নেমে যেতে হয়েছে আমাদের। তাই এবারকার মতো সালামি থেকে মাফ কর আমাদের, দাতাগোষ্ঠীর এমনতরো নরম ও বিনয় আবেদন সঙ্গে সঙ্গে নাকচ করে দিয়েছে সালামিবাজরা। সূত্র নিশ্চিত করেছে, অনেককে ভিটেবাড়ি বিক্রি করে সালামিবাজদের হাতে তুলে দিতে হয়েছে শেষ সম্বল। তবে খোশ খবর হলো এবার ‘ঈদ মোবারক’র হুলস্থূল কাণ্ড ঘটেছে সবখানে। বিনে পয়সার এই ঈদ মোবারক সবাই সবাইকে বিলিয়েছে এক্কেবারে দিলদরদি হয়ে। সুযোগে এলাকার চিহ্নিত ছাগল নেতারাও দু’চারখান পোস্টার ছেপেছে বিরাট খোশ মেজাজে। পোস্টারে নিজেদের হলদে রঙের দাঁতকে সাদা প্রলেপে বিকশিত করেছে বড়ই দৃষ্টিনন্দন তরিকায়।

জনপ্রতিনিধিরা দুস্থদের মাঝে বিপুল পরিমাণ ঈদ মোবারক বিতরণ করেছে। তবে এতে সুষ্ঠু বণ্টন হয়নি বলে অভিযোগ করেছে বিরোধী দল। তারা অভিযোগ করে বলেছে, শুধু সরকারি দলের অনুগতদের বদন দেখে দেখে ঈদ মোবারক বিতরণ করা হয়েছে।

এই ইস্যুতে তারা ‘ঈদের পর সরকার পতনের আন্দোলন’র পুরনো কলের গান বাজিয়েছে। এই প্রসঙ্গে সরকারি দলের এক হোমড়া বলে, বিরোধী দল এসব কলের গান সব ঈদের পূর্বে বেড রুমের দর্জা আটকিয়ে বজিয়ে থাকে। এসব গানের খাওয়া তো নেই; প্লেটও নেই। দেখছেন নাহ, এখন তো ঈদের পর। নাকি!

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads