• শনিবার, ২৫ মে ২০১৯, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫
ads
শীত প্রস্তুত, প্রস্তুত হোন আপনিও

প্রতীকী ছবি

হাস্যরস

শীত প্রস্তুত, প্রস্তুত হোন আপনিও

  • শাহাদাত ফাহিম
  • প্রকাশিত ০৩ নভেম্বর ২০১৮

শীত এখন এক প্রকার নাকের ডগায়। কাঁধে ভর করা সময়ের ব্যাপার। একবার ভর করে বসলে দু’তিন মাসের মধ্যে নামার নাম মুখে নেবে বলে মনে হয় না। তাই শীতে কীভাবে জীবনের লাইফের হায়াতকে পরিচালিত করবেন, তার প্রস্তুতি এখনই নেওয়া উচিত। তা না হলে তখন হুট করে বেকায়দায় পড়ে যেতে পারেন। শীতে আপনার গোসলটাই সবচেয়ে বড় সমস্যা বলে মনে করেন আপনি। অবশ্য এটি আপনার এলাকাবাসীও মনে করে। কারণ তাদের কারো কারো আপনার গতরের গন্ধে ওই মৌসুমে দম আটকে হার্টফেলও করার রেকর্ড আছে। তাই প্রস্তুতি হিসেবে এখনই গোসল ত্যাগ করে এলাকাবাসীকে একটু একটু করে সহনীয় করে তুলতে পারেন। আশপাশের পোলাপান আপনাকে ‘যেই না গোছের চেহারা, নাম রেখেছে পেয়ারা’ টাইপের টিপ্পনি কাটলেও আপনি নিজেকে হিরো বা হিরোইন নাম্বার ওয়ান মনে করতে বিন্দুমাত্র ছাড় দেন না। যে কারণে পোশাক-আশাক যা-ই পরেন না কোনো, তা নিতান্তই নামমাত্র। শীতকালেও যেন আপনার এই স্বল্পবসনগিরী অব্যাহত থাকে। তার জন্য এখন প্রস্তুতি হিসেবে বস্ত্রবিয়োগের মহড়া চালিয়ে দিতে পারেন। বলুন বা না বলুন, শীতে বউ আপনাকে পিঠা খাইয়ে ছাড়ে। এটি ভালো কথা। কিন্তু কথা হচ্ছে সারাবছর পিঠার সঙ্গে কোনো রকমের যোগাযোগ না থাকার মানুষটি তখন পিঠা বানাতে গেলে যে প্রথম প্রথম খিচুড়ি পাক করে ফেলবে না, তার কী গ্যারান্টি। তাই পিঠা বানানোয় এখনই বউ সাহেবাকে অনুশীলনে নেমে যেতে হবে। খুব শীতে টয়লেটকার্য শেষে পানি ব্যবহার এক ধরনের নিজহাতেই রিমান্ড শাস্তি। এই শাস্তি থেকে বাঁচতে হলে এখন থেকেই পানি পরিহারের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। চেংড়িরা কম্বলমুড়ি দিয়ে চেংড়াদের সঙ্গে খিস্তিখেউড়ে আলাপের মোক্ষম হাতিয়ার মনে করে থাকে শীতকে। কিন্তু কথা হচ্ছে, ‘হঠাৎবৃষ্টি’র মতো ‘হঠাৎশীতে’ অমন কম্বলমুড়ি দম বন্ধ হওয়ার কারণ হলেও তো হতে পারে। তাই এখনই এই পদ্ধতির হালকাপাতলা রিহার্সেল হয়ে গেলে নিজেদেরই ভালো।

শীতে গোসল করার পক্ষে-বিপক্ষে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে রণক্ষেত্র তৈরি হওয়ার খবর ম্যালা। এই ক্ষেত্রটার জন্য তারা হালকা থেকে ভারী ধরনের মারপিট এখন থেকে শুরু না করলে, তখন বেকাদায় পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। দিনের আলোতে সরল মানুষের নমুনা বহন করে চলে মজনুবান্দরকুল। তবে এরা রাতের আন্ধারে আসলরূপী। দেয়াল টপকিয়ে বা গাছ বেয়ে পৌঁছে যায় বান্দরীর কাছে। এতে অবশ্য কুকুর বা ইনসানের দৌড়ানি খেয়ে খাল, নর্দমা পাড়ি দেওয়ার আশঙ্কা থাকছেই। শীতে কিন্তু এসবের পানি বরফতুল্য। তাই এখনই যদি এসবে পড়ে লুটোপুটি খাওয়ার রিহার্সেল না করা হয়, তাহলে কপালের খারাপি কে ঠেকাবে। শীতে নেটওয়ার্ক জমে যাওয়াজনিত কারণে মোবাইলে আরামছে কথাবলা হয়ে ওঠে না। বার বার লাইন বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। আর তখন নেটওয়ার্কের গোষ্ঠীকে ইচ্ছেমতো তুলোধুনা করা হয়ে থাকে। এই তুলোধুনার চর্চাটা শীত আসার আগেই শুরু করে দিলে কতই না সুবিধা হবে তখন।

গলার যতই করুণ দশা হোক, আপনার ঠোঁটে সবসময় ঝুলে থাকে কোনো না কোনো গানের অংশবিশেষ। এটি পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি হলেও আপনি সে দিকটায় কোনোই গ্রাহ্য করেন না। আওড়ানো চালিয়ে যান। কিন্তু কথা হচ্ছে শীতেও যদি এভাবে চালিয়ে যেতে চান, তার জন্য এখনই আপনাকে দাঁতের পাটি কাঁপিয়ে গানের রিহার্সেল সেরে নিতে হবে। কারণ তখন প্রচণ্ড শীতে আপনার দাঁতের পাটি ঠকঠকিয়ে কাঁপবেই কাঁপবে। পেশায় বেকার হলেও সংসারে আপনার ভাব-প্রভাবের কোনোই কমতি নেই। এই প্রভাব খাবার খেতে গিয়েও খাটান। বিশেষ করে শীত মৌসুমে। এ সময় খাবার কখনো পর্যাপ্ত পরিমাণে গরম না পেলে তুলকালাম কাণ্ড ঘটিয়ে থাকেন। ক’দিন পরেই শীতে উল্লেখিত কারণে কাণ্ড ঘটানোর প্রয়োজন হবে। তাই প্রস্তুতি হিসেবে এখন থেকেই যদি দৈনিক দু’এক পিস করে গ্লাস বা প্লেট না ভাঙেন, তাহলে তো তখন খুব একটা সুবিধা করতে পারবেন বলে মনে হয় না।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads