• সোমবার, ৯ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

হাস্যরস

সাক্ষাৎকার

‘বই কেবল পড়ার জিনিস নয়, উপভোগেরও’

  • প্রকাশিত ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯

শিশুসাহিত্যিক হিসেবে পরিচিত আহমেদ রিয়াজ। প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছেন শিশুদের জন্য। দুই হাতে লিখে চলেছেন শিশুকিশোরদের জন্য। এই লেখালেখিতে যেন তার একটু ক্লান্তিও নেই। হইচইয়ের সঙ্গে এক আড্ডায় অনেক কথাই বলেছেন তোমাদের প্রিয় লেখক আহমেদ রিয়াজ-

 

কেমন আছেন?

খুব ভালো।

আপনার প্রথম প্রকাশিত বইয়ের নাম কী? কত সালে প্রকাশিত হয়?

গল্পকুমার। প্রকাশক বর্ণবিচিত্রা। ২০০১ সালে। প্রথম বই থেকেই লেখক রয়্যালটি পাই।

লেখালেখিতে কেন এলেন?

লেখালেখি করার জন্য।

আমাদের দেশের শিশুরা কেন বই পড়ছে না?

মনের মতো বই পাচ্ছে না বলে। কিংবা হাতের নাগালে বই পাচ্ছে না বলে। নিজের পছন্দমতো বই পড়তে পারছে না বলে। বেশির ভাগ বই শিশুদের অভিভাবকরা নিজের পছন্দে কিনে দেন। এটাও তাদের বই না পড়ার কারণ হতে পারে।

আমরা কীভাবে এসব শিশুকে বইমুখী করব?

শিশুরা তো বইমুখী হয়েই আছে। স্কুলে এত্ত এত্ত বই। নার্সারি থেকে শুরু করে কেজি পর্যন্ত-অনেক বই। প্রথম শ্রেণির শিশুদের যত বই-অনার্সের শিক্ষার্থীদেরও এত বই আছে বলে মনে হয় না। তাহলে কীভাবে আমরা বলতে পারি শিশুরা বইমুখী নয়? আর বইমুখী না হলে প্রাথমিক সমাপনীতে এত জিপিএ ফাইভ আসে কী করে? এত পাস করে কী করে?

পথশিশুদের জন্য কি কোনো লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা করা যায় না?

অবশ্যই যায়। পথশিশুদের জন্য অনেক স্কুল আছে। অনেক লাইব্রেরি এখনো কেন নেই, সেটাই অবাক করা বিষয়।

শিশুতোষ লেখাগুলো কেমন হওয়া উচিত বলে আপনি মনে করেন?

শিশুদের মতো। বড়দের মতো নয়।

আমাদের দেশে কিশোর উপযোগী লেখাকে শিশুতোষ বলা হচ্ছে। কিন্তু এটা কতটুকু ঠিক?

একটা সময় কিশোর সাহিত্যই ছিল শিশুসাহিত্য। কিন্তু এখন দিন বদলেছে। দুনিয়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাংলাদেশও বদলেছে। এখন শিশুসাহিত্য বলতে শিশুসাহিত্যই বুঝতে হবে। কিশোরসাহিত্য নয়। অনেকে জাতিসংঘ প্রদত্ত সংজ্ঞায় ফেলে শিশুদের বয়স নির্ধারণ করেন-১৮ বছর পর্যন্ত সবাই শিশু। এটা খোঁড়া যুক্তি কিংবা ব্যক্তিগত দুর্বলতা। কারণ তিন বছর বয়সী শিশু আর ১৮ বছর বয়সী শিশু এক নয়। শুধু তাই নয়, তিন বছর বয়সী শিশুর রুচি আর চার বছর বয়সী শিশুর রুচিতেও রয়েছে বিস্তর ফারাক। শিশুসাহিত্যিকদের এ বিষয়গুলো উপলব্ধি করতে হবে। বুঝতে হবে। জানতে হবে। শিশুর মনের খবর না জেনে শিশুসাহিত্য করা ঠিক নয়। এতে পাঠক নষ্ট হয়। পড়ার প্রতি শিশুরাও আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। নার্সারি শ্রেণির শিশুর হাতে যদি ইন্টারমিডিয়েটের বই ধরিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে সবাই পাগল বলবে। আশ্চর্যজনকভাবে সত্যি যে, আমরা এই পাগলামিটাই করে যাচ্ছি। কিশোরদের জন্য লেখাকেও শিশুসাহিত্য বলে চালিয়ে দিচ্ছি। এত কারোরই লাভ হচ্ছে না। বরং ভয়াবহ ক্ষতি হচ্ছে। পাঠক যদি লেখার সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত করতে না পারে, তাহলে সে লেখা মূল্যহীন। তা সে যতই উচ্চ সাহিত্যমান সমৃদ্ধ লেখাই হোক না কেন।

নতুন লেখকদের জন্য আপনার পরামর্শ কী?

প্রচুর পড়তে হবে। ভালো লেখক হওয়ার পূর্ব শর্তই হচ্ছে ভালো পাঠক। ভালো পাঠক ছাড়া ভালো লেখক হওয়া অসম্ভব। একেবারেই অসম্ভব।

আপনার পাঠকদের জন্য কিছু বলুন...

বই কেবল পড়ার জিনিস নয়, উপভোগেরও। যে কোনো বই মজা না পেলে সে বই আর না পড়াই উচিত। বরং অন্য কোনো বইয়ে মজা খোঁজার চেষ্টা করা উচিত। কোনো না কোনো বইতে অবশ্যই আপনার জন্য আনন্দ আর মজা লুকিয়ে আছে। সেটা খুঁজে বের করার দায়িত্ব পাঠকের নিজের।

আপনাকে যদি আলাদিনের চেরাগ দেওয়া হয় তাহলে কী করবেন?

চার্লস ডিকেন্সের একটা অসমাপ্ত গোয়েন্দা উপন্যাস আছে এবং সত্যজিৎ রায়ের একটা অসমাপ্ত প্রফেসর শঙ্কু আছে-ওই দুটো বই তাদের দিয়ে শেষ করিয়ে নেব।

ভবিষ্যতে দেশের জন্য কী করতে চান?

পাঠক তৈরি করতে চাই। অগণিত পাঠক। 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads