• শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮, ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৪
ads

পণ্যবাজার

পাঁচ মাসে রডের দাম বেড়েছে ৩৬%

  • নাজমুল হুসাইন
  • প্রকাশিত ১৫ মার্চ ২০১৮

দেশের বাজারে গত পাঁচ মাসে রডের দাম টনে ১৮ হাজার টাকা বেড়েছে। গত নভেম্বরে ব্র্যান্ডসহ নন-ব্র্যান্ডের রডের দাম (৬০-৭৫ গ্রেড) ছিল ৪৮ থেকে ৫০ হাজার টাকা, যা এখন টনপ্রতি ১৮ হাজার টাকা বা ৩৬ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। 

বৃহস্পতিবার বাজারে রড বিক্রি হয়েছে টনপ্রতি ৬৬ থেকে ৬৮ হাজার টাকায়। দফায় দফায় পণ্যটির অস্বাভাবিক দাম বাড়ায় বেড়ে গেছে নির্মাণ খরচও।

দেশি ইস্পাত শিল্প মালিকরা মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে বিশ্ববাজারে রডের কাঁচামালের (বিলেট) দাম বাড়াকে দায়ী করেছেন। এছাড়া দেশে টাকার অবমূল্যায়ন, উৎপাদন ও পরিবহন খরচ বৃদ্ধিসহ ব্যাংকঋণের সুদের হার বৃদ্ধির প্রভাবে পণ্যটির দাম বেড়েছে বলে তারা মনে করেন।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ অটো রি-রোলিং স্টিল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও শাহরিয়ার স্টিল মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ মাসাদুল আলম মাসুদ বাংলাদেশের খবরকে বলেন, সারা বিশ্বে রডের কাঁচামালের দাম বেড়েছে। এছাড়া ডলারের রেট ৭৮ থেকে ৮৪ টাকায় দাঁড়িয়েছে। এসবের সরাসরি প্রভাব পড়ছে রডের দামে।

তিনি বলেন, এছাড়া আগের তুলনায় বিদ্যুৎ-গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির কারণে এখন উৎপাদন খরচ অনেক বেড়েছে। সঙ্গে বেড়েছে পরিবহন খরচ। আর ব্যাংকঋণের সুদের হার বৃদ্ধিতে মিলাররা বিপাকে পড়েছেন। এসব কারণে দাম দ্রুত বেড়েছে।

এদিকে রডের এমন অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধি অযৌক্তিক বলে দাবি করেন নির্মাণ শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা। তারা বলেন, বিশ্ববাজারের কাঁচামালের সঙ্গে সমন্বয় করলে দেশে রডের দাম টনপ্রতি ৩ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। কিন্তু এখন পর্যন্ত পণ্যটির দাম বেড়েছে ৩০ শতাংশেরও বেশি। নির্মাণ মৌসুমে সিন্ডিকেট করেই পণ্যটির উৎপাদনকারীরা দাম বাড়িয়েছে। নির্মাণ শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কনস্ট্রাকশন ইন্ডাস্ট্রিজ (বাসি) এমন যৌক্তিকতা তুলে ধরে এ বিষয়ে প্রতিবাদ ও নির্মাণ শিল্প রক্ষায় রডের দাম নিয়ন্ত্রণে সরকারের হস্তক্ষেপও দাবি করেছে। গত জানুয়ারি মাসের শেষে তারা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, এনবিআর ও প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদফতর বরাবর চিঠি দিয়ে রডের দাম নিয়ে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করে। বাসি’র সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মনীর উদ্দিন আহমেদ বলেন, রডের প্রধান উপাদান বিলেট দেশেই উৎপন্ন হয়। খুব কম পরিমাণ বিলেটই বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়। বিশ্ববাজারে বিলেটের মূল্যবৃদ্ধি সমন্বয়ের কারণে রডের দাম এত বাড়বে না। আর অন্য যেসব মূল্যবৃদ্ধির কারণ রড উৎপাদকরা দেখাচ্ছেন, তা শুধু রডের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য নয়। এ কারণে এতটা খরচ বাড়লে তা সব পণ্যের ক্ষেত্রেই হতো। বাজারে সব পণ্যের দামই বাড়ত।

রাজধানীর নয়াবাজারে গতকাল ঘুরে দেখা গেছে বিএসআরএম, কেএসআরএম, আবুল খায়ের ব্র্যান্ডের (৬০-৭৫ গ্রেডের) রড প্রতিটন বিক্রি হচ্ছে ৬৬ থেকে ৬৮ হাজার টাকায়; যা গত মাসে ৫৫ থেকে ৫৬ হাজার টাকা ছিল। আর নভেম্বরে ছিল ৪৮ থেকে ৫০ হাজার টাকা। এছাড়া ৪০ গ্রেডের রড ৬০ হাজার টাকায় উঠেছে, যা এক মাস আগে ৫২ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। আর সনাতনী (ম্যানুয়েল) কারখানায় উৎপাদিত রডের দাম এখন ৫৮ হাজার টাকা, যা আগে ৪০ হাজার টাকায় পাওয়া যেত।

জানতে চাইলে খায়ের অ্যান্ড ব্রাদার্সের স্বত্বাধিকারী খায়েরউদ্দিন বলেন, এমনো দিন গেছে সকালে এক দফা দর বাড়ার পর বিকেলে আরেক দফা বেড়েছে। রডের বাড়তি দামের কারণে ভরা মৌসুমে নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে। প্রতিবছরই এই সময় রডের দাম বাড়ায় কোম্পানিগুলো, তবে এবার দাম বৃদ্ধি পুরোটাই অস্বাভাবিক।

বাজার বিশ্লেষণ ও খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে দফায় দফায় বেড়েছে রডের দাম। প্রথমে গত জুনে বাজেট ঘোষণার পরপরই রডের দাম এক দফা বাড়িয়ে দিয়েছিলেন ব্যবসায়ীরা। কারণ চলতি অর্থবছর থেকে রডের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন পিছিয়ে যাওয়ায় সেটি হয়নি। তবে তখন আর রডের দাম কমেনি। উল্টো গত অক্টোবরে এসে কাঁচামালের দাম বৃদ্ধির অজুহাতে আবারো রডের দাম বাড়ানো হয়।

এরপর নভেম্বর শেষে ৬০ গ্রেডের রডের দাম ৫০ হাজার টাকায় ওঠে, যা ডিসেম্বর শেষে বেড়ে হয় ৫৩ হাজার টাকা। পরের মাসে ৫৫ হাজার আর গত ফেব্রুয়ারি মাসে ৫৭ হাজার টাকায় উঠে আসে। আর চলতি মাসেও দু-দফা দাম বেড়েছে পণ্যটির। প্রথম দফায় ৬৩ হাজার ও গত তিন দিনের ব্যবধানে তা ৬৮ হাজার হয়েছে।

বারবার রডের এ দাম বৃদ্ধির প্রমাণও মেলে রাষ্ট্রীয় বিপণন সংস্থা টিসিবির প্রতিবেদনে। যদিও শেষ দফায় দাম বৃদ্ধির তথ্য সমন্বয় করেনি প্রতিষ্ঠানটি। তারপরও তাদের বাজারদর হিসেবে গত বছর একই সময় প্রতিটন ৬০ গ্রেডের রডের দাম ছিল ৫২ থেকে ৫৩ হাজার টাকা, যা বছর ব্যবধানে ২০ শতাংশ বেড়েছে।

এদিকে বাজারে বেড়েছে সিমেন্টের দামও। প্রতিবস্তা সিমেন্টের দাম ৬০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে বলে জানান মালিবাগের বিক্রেতা ফখরুল ট্রেডার্সের শামসুল হক। তিনি বলেন, প্রকারভেদে সিমেন্ট বিক্রি হচ্ছে ৪২০ থেকে ৪৭০ টাকায়, যা আগে ৩৬০ থেকে ৪২০ টাকা ছিল। বাজারে সব ব্র্যান্ডের সিমেন্টের দামই বেড়েছে। আবার সরবরাহও কমেছে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads