• রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪
ads
ডিমের দাম লাগামছাড়া

ডিম

সংরক্ষিত ছবি

পণ্যবাজার

ডিমের দাম লাগামছাড়া

# গরিবের আমিষে টান # ২০১২’র পর দাম সর্বোচ্চ # ফায়দা লুটছে মধ্যস্বত্বভোগীরা

  • নাজমুল হুসাইন
  • প্রকাশিত ০৪ আগস্ট ২০১৮

দেশে প্রতিবছরই বর্ষা মৌসুমে ডিমের দাম কিছুটা বাড়ে। তবে আগে কখনো পণ্যটির দাম এ সময়ে এতটা বাড়েনি। বিগত ২০১২ সালে বার্ড-ফ্লুর কারণে দেশের খামারগুলোতে মুরগির মড়ক লাগায় তখন ডিমের দাম অস্বাভাবিক বেড়েছিল। এ বছর দাম বাড়ার পেছনে সে রকম যৌক্তিক কোনো কারণই নেই।

ডিমের দাম বাড়ার প্রভাব উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্তের মধ্যে তেমনটা লক্ষ করা না গেলেও এতে বেশ বিপাকে পড়েছে স্বল্প আয়ের মানুষেরা। কারণ অন্যান্য মাছ-মাংসের উচ্চমূল্যের কারণে সাধারণ মানুষের আমিষের চাহিদা পূরণে ভরসা ডিম। কিন্তু গত কয়েক মাসে দাম ক্রমাগত বেড়ে যাওয়ায় পণ্যটি তাদের খাদ্য তালিকা থেকে বাদ দিতে হচ্ছে। সহসাই গরিবের এই আমিষের দাম আগের অবস্থায় ফিরে আসার সম্ভাবনাও নেই। গতকাল খিলগাঁও তালতলা বাজারে কথা হচ্ছিল ডিম কিনতে আসা রিকশাচালক ফরিদ মিয়ার সঙ্গে। তিনি জানান, সন্তানদের নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার দিতে পারেন না তিনি। তবে তুলনামূলক সস্তা হওয়ায় কিছুদিন আগেও প্রতিদিন এক হালি করে ডিম কিনতেন, যা কখনো একবেলা তরকারি আবার কখনো ছেলেমেয়েদের সকাল-বিকালের নাস্তা হিসেবে খাওয়ানো হতো।

কিন্তু দাম বেড়ে যাওয়ায় এখন শুধু একবেলা তরকারি হিসেবে খাওয়ার একদিন পরপর ডিম কিনছেন ফরিদ মিয়া। নাস্তায় আর ডিম জুটছে না তার সন্তানদের। আগের মতো প্রতিদিন ডিম কিনতে গেলে তাকে মাসে আরো ৪৬০ টাকা বেশি রোজগার করতে হবে, কিন্তু সে সুযোগ তার নেই।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্য বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. খালেদা ইসলাম বাংলাদেশের খবরকে বলেন, চটজলদি খাওয়া যায় বলে ডিম খাওয়ার পরিমাণ গত কয়েক বছরে বেশ বেড়েছিল। শুধু গরিব নয়, ধনীরাও এখন প্রচুর ডিম খায়। দামে সস্তা হওয়ায় গরিবের আমিষের সবচেয়ে বড় অংশ জোগান দেয় ডিম।

তিনি বলেন, গরিবের খাদ্য সংগ্রহের সঙ্গে তাদের আর্থিক সঙ্গতির বিষয়টি নিবিড়ভাবে জড়িত। ডিমের দাম নিয়ন্ত্রণে সরকারের বাজার পর্যবেক্ষণ করা দরকার বলে মনে করেন এই পুষ্টিবিশেষজ্ঞ।

বর্তমানে ঢাকার অলিগলির খুচরা দোকানে ফার্মের লাল ডিম প্রতিহালি ৩৬ থেকে ৩৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাঁচাবাজারে গেলে প্রতিডজন ডিম মিলছে ১০৫ থেকে ১১০ টাকায়। তবে দেশি মুরগি অথবা হাঁসের ডিম কিনতে হালিপ্রতি আরো ১০ টাকা বাড়তি গুনতে হয়।

২০১২ সালের জুলাইয়ে প্রতিহালি ফার্মের ডিমের দাম ৪০ টাকা। তবে তা স্থিতি ছিল কয়েক সপ্তাহ। তারপর ডিমের দাম এতটা বাড়েনি কখনো। কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) সূত্র জানায়, গত পাঁচ বছরে ডিমের দামের ওঠানামা ছিল সামান্য। সংস্থাটির তথ্য মতে, দেশে ২০১২ ও ২০১৩ সালে ফার্মের মুরগির ডিম প্রতিহালির গড় দাম ছিল ৩৪ টাকা, যা পরের বছর কমে আসে ৩০ টাকায়। এরপর ২০১৫ ও ২০১৬ সালে ফের বেড়ে ৩৪ টাকা দাঁড়ায়। আর গত বছর ডিমের হালি দুই টাকা কমে হয় ৩২ টাকা।

অভিযোগ আছে, খামার পর্যায়ে ডিমের দাম কিছুটা বাড়লেও বাজারে এত বেশি দামের পেছনে মধ্যস্বত্বভোগীদের হাত রয়েছে। খামার থেকে ভোক্তা পর্যায়ে প্রতিটি ডিমে প্রায় দুই টাকা যাচ্ছে মধ্যস্বত্বভোগীদের হাতে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ডিম উৎপাদন সমিতির সভাপতি তাহের আহম্মেদ সিদ্দিকী বলেন, গত কয়েক বছর ডিমের দাম না পাওয়ায় অনেক খামারি ডিম উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছেন। এতে বাজারে কিছুটা টান পড়েছে সত্য, তবে এ অজুহাত কাজে লাগিয়ে ব্যবসায়ীরাও অতিরিক্ত মুনাফা করছে।

ডিমের দাম কবে নাগাদ কমতে পারে জানতে চাইলে এ খামারি বলেন, নতুন খামারের ডিম আসতে স্বাভাবিকভাবে ছয় মাস সময় লাগে। ফলে শিগগির ডিমের দাম কমার সম্ভাবনা নেই।

প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের তথ্যানুযায়ী, দেশে প্রতিবছর ডিমের চাহিদা রয়েছে ১ হাজার ৬৯৪ কোটি ১৬ লাখ পিস। বর্তমানে দেশে প্রতিবছর ডিমের উৎপাদন হয় ১ হাজার ৪৯৩ কোটি ৩১ লাখ পিস। সে হিসাবে  বছরে চাহিদার তুলনায় ২০০ কোটি ৮৫ লাখ পিস ডিমের ঘাটতি রয়েছে দেশে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads