• শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪
ads
ক্রেতা নেই টিসিবির ট্রাকসেলে

অধিকাংশ এলাকায় টিসিবির ট্রাকসেলে তেমন আগ্রহ দেখাচ্ছে না মানুষ

সংগৃহীত ছবি

পণ্যবাজার

ক্রেতা নেই টিসিবির ট্রাকসেলে

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ১৬ আগস্ট ২০১৮

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে গত সোমবার থেকে ছোলা, ডাল, চিনি আর তেল বিক্রি শুরু করেছে সরকারি প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ টিসিবি। তবে এ ঈদে তেল ছাড়া বাকি পণ্যের চাহিদা খুব একটা নেই। আবার তেলের দামও বাজারের কাছাকাছি। ফলে অধিকাংশ এলাকায় টিসিবির ট্রাকসেলে তেমন আগ্রহ দেখাচ্ছে না মানুষ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক টিসিবিরই এক ডিলার জানিয়েছেন, রমজানে অবিক্রীত পণ্য ‘তড়িঘড়ি’ করে কোরবানির ঈদে বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়ায় এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। অনেক ডিলারও এসব পণ্য নিতে আগ্রহী নন। 

গত সোমবার থেকে রাজধানীর ৩৫টি স্থানে ট্রাকে টিসিবির পণ্য বিক্রি শুরুর কথা ছিল। আর দেশব্যাপী মোট ১৮৭টি ট্রাক কাজ করবে বলে জানায় টিসিবি। তবে প্রথম দিন রাজধানীসহ সারা দেশে ট্রাকসেলে যাননি অধিকাংশ ডিলার। দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার ও গতকাল বুধবার ট্রাকসেলের সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে। তবে এসব নিয়ে আগ্রহ দেখা যায়নি ক্রেতাদের।

মঙ্গলবার শান্তিনগর ট্রাকসেলের পাশে দাঁড়িয়ে সাদিক মিয়া নামে একজন ক্ষোভের সুরে বলেন, এখন মানুষ ছোলা, ডাল দিয়ে কী করবে? এখানে যেসব পণ্য বিক্রি হচ্ছে, তার মধ্যে এখন বেশি প্রয়োজন তেল। কিন্তু বাজারেও তেলের যে দাম, এখানেও প্রায় একই দাম। তাই কিনছি না। শুধু শুধু বয়ে নিয়ে যাওয়াই লস। ওই ট্রাকসেলের ডিলার মুনির হোসেন বলেন, আসলেই ক্রেতা নেই। রোজায় এ পয়েন্টে এক দিনে এক থেকে প্রায় দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে। কিন্তু আজ দুপুর পর্যন্ত ২০ হাজার টাকাও বেচতে পারিনি।

নিউমার্কেট এলাকায় একজন ক্রেতা বাংলাদেশের খবরকে বলেন, টিসিবি যদি পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণেই এসব বিক্রি করে তবে এখন পেঁয়াজ আর মসলা বিক্রি করা দরকার। রোজার এসব পণ্য এখন কেন বিক্রি করছে- তা বুঝছি না। এদিকে সারা দেশ থেকে আসা খবরে জানা গেছে, রাজধানীর মতো দেশের অন্যত্রও টিসিবির কার্যক্রমে সাড়া মেলেনি। অনেক এলাকায় এখনো বিক্রি কার্যক্রম শুরুই করেননি ডিলাররা।

এ প্রসঙ্গে যোগাযোগ করা হলে টিসিবির পক্ষে জানানো হয়, এখনো আঞ্চলিক কার্যালয়গুলো থেকে ডিও লেটার নিচ্ছেন ডিলাররা। পণ্য বিক্রির সিদ্ধান্ত খুব দ্রুত হওয়ায় অনেক ডিলার টাকা জমা দিয়ে ডিও লেটার সংগ্রহ করতে পারেননি। তাই মঙ্গলবার পর্যন্ত রাজধানীতে ৩৫টি ট্রাকের মধ্যে ২২টির কার্যক্রম শুরু করা গেছে। আশা করা হচ্ছে, আজ বৃহস্পতিবার থেকে সব ট্রাক থাকবে।

টিসিবি একজন ভোক্তার কাছে ৫২ টাকা কেজি দরে সর্বোচ্চ চার কেজি চিনি, ৫০ টাকা দরে সর্বোচ্চ চর কেজি মসুর ডাল, প্রতি লিটার ৮৫ টাকা দরে সর্বোচ্চ পাঁচ লিটার সয়াবিন তেল ও প্রতি কেজি ৪০ টাকা দরে চাহিদা অনুযায়ী ছোলা বিক্রি করছে।

এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে টিসিবির একজন ডিলার জানান, রমজানের অবিক্রীত পণ্য বিক্রি করতেই তাড়াহুড়া করে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে টিসিবি। কিন্তু এ সময় এসব পণ্যের বিশেষ প্রয়োজন না থাকায় এ দামে ক্রেতারা আগ্রহ দেখাচ্ছে না। এ কারণে অনেক ডিলারও এসব পণ্য নিতে আগ্রহী নন। এখনো তারা ডিও নেননি।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads