• শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮, ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৪
ads
পাইকারিতে বিক্রি কম খুচরায় দাম বেশি

রাজধানীতে গরম মশলার একটি দোকান

ছবি -বাংলাদেশের খবর

পণ্যবাজার

পাইকারিতে বিক্রি কম খুচরায় দাম বেশি

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ১৮ আগস্ট ২০১৮

ঈদের আগে মশলার পাইকারি বাজারে ক্রেতার উপস্থিতি কম। খুচরা মশলার দোকানে ক্রেতার সংখ্যা বাড়ছে। দামে পাইকারি ও খুচরা মশলার দোকানে ছিল ভিন্ন অবস্থা। পাইকারিতে এলাচ ছাড়া অন্যান্য মশলার দাম স্থিতিশীল থাকলেও খুচরায় অধিকাংশ মশলা বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৫০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি দামে। আবার অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, যারা দরদাম না করে মশলা কিনছেন, তাদের আরো বেশি ঠকাচ্ছে খুচরা বিক্রেতারা।

পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদের চাহিদা পূরণ করতে এক-দেড় মাস আগে থেকেই মশলার কেনাবেচা চলছে। প্রথমদিকে সরবরাহ কম থাকায় বিচ্ছিন্নভাবে কিছু মশলার দাম বাড়লেও শেষ পর্যন্ত এলাচ ছাড়া অন্যান্য প্রায় সব মশলার দামই আগের মতো রয়েছে। বাংলাদেশ পাইকারি গরম মশলা ব্যবসায়ী সমিতির সহসভাপতি অমর কান্তি দাশ বলেন, ঈদে মসলার পর্যাপ্ত মজুত আছে। ভারতে বন্যার কারণে শুধু এলাচে কিছুটা টান থাকলেও জিরা, দারুচিনি, গোলমরিচসহ অন্যান্য মশলার দাম আগের মতো রয়েছে।

গতকাল কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারভেদে মশলার দামে বেশ পার্থক্য রয়েছে। রাজধানীর পাইকারি মশলার বাজার মৌলভীবাজারে প্রতিকেজি সাদা এলাচ মানভেদে ১৫০০ থেকে ১৬০০ টাকায় বিক্রি হলেও তা কারওয়ান বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১৮০০ টাকা দরে। এরপর সেই এলাচ রামপুরা বাজারে এসে খুচরায় প্রতি ২৫০ গ্রামের দাম দাঁড়িয়েছে ৫০০ টাকা। জানতে চাইলে  রামপুরা বাজারের মশলা বিক্রেতা এমদাদুল হক বলেন, ‘খুচরা মশলা বিক্রিতে অনেক ঘাটতি। এ কারণে দাম বেশি। পাইকারি নিলে আমরাও কম দাম রাখব।’ 

আরেক ব্যবসায়ী বলেন, মশলা সারা বছর খুব কম পরিমাণে বিক্রি হয়। খুচরা দোকান থেকে অল্প পরিমাণে মশলা কেনে অধিকাংশ মানুষ। এ কারণে আমাদের ওজনে অনেক ঘাটতি হয়। আবার দিন যত যায়, মশলার মান ততটা কমতে থাকে। তখন ঠিক দাম পাওয়া যায় না। মাঝে মাঝে অনেক মশলা অবিক্রীত থেকে নষ্ট পর্যন্ত হয়ে যায়। ফলে একটু বেশি দামে বিক্রি না করলে পোষায় না।

মশলার তালিকায় অন্যতম একটি উপাদান জিরা। পাইকারি বাজারে ভারত থেকে আমদানি করা প্রতি কেজি জিরা বিক্রি হচ্ছে ৩২৫ টাকায়। তবে বিভিন্ন এলাকার দোকানে এই জিরা ৪০০ টাকার নিচে মিলছে না। একইভাবে প্রতিকেজি দারুচিনির পাইকারি দর ২৩০ টাকা হলেও তা খুচরায় ৩০০-৩২০ টাকা, কাজুবাদাম ৯৪০ থেকে ১০২০ টাকা পাইকারি ও খুচরায় ১০০০ থেকে ১২০০ টাকা, সাদা গোলমরিচ ৪৫০ টাকা পাইকারি ও ৫৫০ থেকে ৮০০ টাকা খুচরা, জয়ত্রী ১৮০০ টাকা পাইকারি হলেও ২১০০ থেকে ২২০০ টাকা পর্যন্ত খুচরায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। এ ছাড়া বিভিন্ন খুচরা বাজারে ধনিয়া ১০০ থেকে ১২০, হলুদ ২১৫-২৫০, শুকনা মরিচ ১৫০-২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

ঈদের বাড়তি চাহিদার মশলা গতকাল পর্যন্ত কেনেননি এমন ক্রেতা কম। সে দিকটায় নজর রেখে বিক্রেতারাও মশলা বেচতে বাড়তি প্রস্তুতি নিয়েছেন। অধিকাংশ মুদি দোকানে গরম মশলা এমনভাবে সাজিয়ে রাখা হয়েছে, যাতে তা খুব সহজে ক্রেতার নজরে পড়ে। আর প্রতিদিন মশলা কেনায় অভ্যস্ত না হওয়ায় অধিকাংশ ক্রেতা মশলা কিনছেন বেশি দামে। সেই সুযোগে ঠকছেনও অনেকে।

তালতলা বাজারে সিফাত রহমান নামের একজন ক্রেতা বলেন, ঈদ ছাড়া সেভাবে কখনো মশলা কেনা হয় না। আবার এমন অনেক আইটেম কিনতে হচ্ছে, যা সারা বছর দরকারই পড়ে না। এ কারণে দামও জানা নেই। দরদাম করব কীভাবে? ফলে দোকানিকেই বিশ্বাস করা ছাড়া উপায় নেই। 

এদিকে এ সমস্যা সমাধানে দোকানগুলো বিভিন্ন পণ্যের মূল্যতালিকা টাঙানোর কথা থাকলেও বেশিরভাগ দোকানেই তা নেই। কিছু দোকানে তালিকা সংবলিত বোর্ড মিললেও সেখানে মশলার দাম লেখা ছিল না। এ বিষয়ে সিরাজুল ইসলাম নামের এক মশলার দোকানি বলেন, মশলার তালিকা কখনো টানানো হয় না। আমি শুধু নয়, কেউই টানায় না। আমার দোকানে অর্ধশত ধরনের মশলা রয়েছে। এসবের দামের তালিকা দেওয়া সম্ভব নয়।  

দেশে কিছু পদের মশলা উৎপাদন হলেও অধিকাংশ মসলার চাহিদা আমদানির মাধ্যমে পূরণ করা হয়। সুনির্দিষ্ট তথ্য না থাকলেও দেশে বছরে প্রায় ৫ হাজার টন দারুচিনি, সাড়ে তিন হাজার টন এলাচ, ৪০০ টন লবঙ্গ এবং ৩ হাজার টন জিরার চাহিদা রয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads