• বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২১ কার্তিক ১৪২৪
ads
কোথাও ৫২৫ টাকায় গরুর মাংস নেই

সংগৃহীত ছবি

পণ্যবাজার

কোথাও ৫২৫ টাকায় গরুর মাংস নেই

  • আজাদ হোসেন সুমন
  • প্রকাশিত ০৮ মে ২০১৯

গরুর মাংস বিক্রিতে উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত মূল্য মানছেন না ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ীদের যথেচ্ছাচারে নিয়ন্ত্রণে নেই সিটি করপোরেশনের কোনো মনিটরিং। উপরন্তু সিটি করপোরেশনের চিহ্নিত অসাধু কর্মকর্তারা অতি মুনাফালোভী এসব ব্যবসায়ীর কাছ থেকে নিয়মিত বখরা আদায় করে থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাই রমজানের আগে গরুর মাংসের দাম নির্ধারণ করে দেওয়া সত্ত্বেও এই খাদ্যপণ্যটির দাম আকাশছোঁয়া। সিটি করপোরেশনের বেঁধে দেওয়া ৫২৫ টাকা মূল্যে গরুর মাংস রাজধানীর কোথাও পাওয়া যায়নি গত দুদিনে।  

রাজধানীর হাতিরপুল, ফকিরেরপুল, ঠাঁটারীবাজার, নয়াবজার গিয়ে দেখা যায়, মাংস ব্যবসায়ীরা ৫৮০ টাকা দরে গরুর মাংস বিক্রি করছেন। এ ব্যাপারে নয়াবাজারের দোকানি আবুল কালামকে সিটি করপোরেশনের বেঁধে দেওয়া ৫২৫ টাকার কথা স্মরণ করিয়ে দিতেই তিনি বলেন, ওটা কাগুজে বাঘ, ওই নিয়ম কেউ মানে না। কারণ পরিবহন থেকে শুরু করে মাংস শ্রমিকসহ এর সঙ্গে যা কিছু সংশ্লিষ্ট আছে সবকিছুর দাম বেড়েছে। ফলে সিটি করপোরেশনের বেঁধে দেওয়া দরে মাংস বিক্রি করতে গেলে ব্যবসা লাটে উঠবে।  

ফকিরেরপুলের মাংস ব্যবসায়ী মোহাম্মদ ইয়াসিন এ প্রতিবেদককে বলেন, ভারতে নির্বাচনের কারণে সেখান থেকে বাংলাদেশে গরু আসা বন্ধ রয়েছে প্রায় ২ মাস। ফলে বাংলাদেশে গরুর দাম বেড়েছে। এতে আমরা মাংসের দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছি। 

গতকাল মঙ্গলবার রাতে শাহজাহানপুরের খলিলের মাংসের দোকানে গিয়ে দেখা যায় ৬০০ টাকা কেজি দরে মাংস বিক্রি হচ্ছে সেখানে। ওই সময় এক ক্রেতা ৫৮০ টাকা কেজিপ্রতি দর হাঁকলে বিক্রেতা ক্রেতার উদ্দেশে বলেন, ‘এইটা মাছ বাজার না ভাই, সুতরাং এখানে কোনো দরকষাকষি চলে না। এক দাম ৬০০ টাকা কেজি।’ তিনি আরো বলেন, এইটা খলিলের মাংসের দোকান। লাইন ধইরা মানুষ মাংস কেনে।  

গতকাল সকালে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড় ছিল পুরান ঢাকার টিপু সুলতান রোডে বাদশার মাংসের দোকানে। একজন লাইনম্যান ছিল ক্রেতাদের লাইন ঠিক করে দেওয়ার জন্য। ক্রেতারা সারিবদ্ধভাবে লাইন ধরে মাংস কিনছেন। প্রতি কেজি এক দাম ৬০০ টাকা। এক টাকাও কম নয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাদশার মাংসের দোকান ওই এলকায় বেশ নাম করা। এই দোকানে ষাঁড় গরুর মাংস ছাড়া অন্য কোনো গরুর মাংস বিক্রি করা হয় না। এই ব্যবসাটা কয়েক যুগ আগে শুরু করেছিলেন বাদশা নিজেই। বাদশা মারা যাওয়ার পর তার ছেলে এমদাদ ব্যবসার হাল ধরেন। তিনি মারা গেছেন সম্প্রতি। এখন পরিবারের অন্য সদস্যরা ব্যবসা দেখাশোনা করেন। সিটি করপোরেশনের নিয়ম না মানা প্রসঙ্গে তারা কথা বলতে রাজি হননি। 

এ ব্যাপারে মাংস ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম বাংলাদেশের খবরকে বলেন, ৫২৫ টাকা করেই বিক্রি করার কথা। কিন্তু অভিযোগ পাচ্ছি, কেউ কেউ ৫৮০ থেকে ৬০০ টাকা বিক্রি করছেন গরুর মাংস। এটা অবশ্য সিটি করপোরেশনে মনিটরিং সেলের দায়িত্ব। তিনি আরো বলেন, গাবতলীর হাটের ইজারাদার সানোয়ার সরকার নির্ধারিত গরুপ্রতি ১০০ টাকার পরিবর্তে ৭০০/৮০০ টাকা এবং ক্ষেত্র বিশেষে হাজার ১২০০ টাকাও আদায় করে থাকেন। এ ব্যাপারে আমরা সংশ্লিষ্ট দফতরে একাধিকবার অভিযোগ করেও কোনো সুফল পাইনি। 

গত সোমবার এক মতবিনিময় সভায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, সংযমের মাস রমজানে প্রতিটি দোকানে প্রকাশ্যে মূল্য তালিকা টানিয়ে রাখা বাধ্যতামূলক। তিনি আরো বলেন, ভেজালমুক্ত, সঠিক ওজন ও টাটকা পণ্য সরবরাহ করতে হবে। অন্যথায় কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ভেজাল রোধ এবং দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখতে রমজানে ডিএনসিসির সব বাজারে নজরদারি আরো জোরদার করা হবে। 

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads