• মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর ২০১৯, ২৭ কার্তিক ১৪২৬
ads
রংপুরে মরিচের বাজারে ধস, উৎপাদন খরচ উঠছে না কৃষকদের

সংগৃহীত ছবি

পণ্যবাজার

রংপুরে মরিচের বাজারে ধস, উৎপাদন খরচ উঠছে না কৃষকদের

  • পীরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ২৩ জুন ২০১৯

রংপুরের বিভিন্ন উপজেলায় গত সপ্তাহ থেকে মরিচের বাজারে ধস নেমেছে। পনের দিনে আগেও যেখানে প্রতি মণ মরিচ বিক্রি হয়েছে ২ হাজার টাকা। সেখানে চলতি সপ্তাহে প্রতি মণ মরিচ মাত্র ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। মরিচের বাজার পড়ে যাওয়ায় মরিচ চাষীরা হতাশ হয়ে পড়েছেন।

কৃষকরা জানান, বর্তমান বাজারে তাদের উৎপাদন খরচই উঠছে না। পীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি বিভাগ জানায়, প্রতি বছরের মতো এ বছরও পীরগঞ্জ উপজেলার ১৫ ইউনিয়নে চলতি মওসুমে ৩০০ হেক্টর জমিতে মরিচের চাষ হয়েছে। অন্যান্য উপজেলায় সমান হারে মরিচের আবাদ হয়েছে। মৌসুমের শুরুতেই প্রতি মণ মরিচ দুই হাজার টাকা দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে তা ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। গত শনিবার পীরগঞ্জ উপজেলার চতরাহাট, বড়দরগাহ, ধাপোরহাট, মাদারহাট, বটেরহাট, খেদমতপুর বাজার, মাদারগঞ্জ হাট, সানেরহাট, খালাশপীর, বালুয়া, মিঠাপুকুরে ছড়ান বালুয়া, শেরুডাঙ্গা, মাঠেরহাট, বৈরাতী, বালারহাট, শঠিবাড়ি, জায়গীর, পীরগাছার দেউতি, চৌধুরাণী বাজারে প্রতি মণ মরিচ মাত্র ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা মণ দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। জেলার অন্যান্য উপজেলাতেও একই অবস্থা।  

পীরগঞ্জ উপজেলার চতরা হতে লালদীঘিগামী সড়কের পাশের্^ শত শত একর জমিতে আবাদকৃত মরিচের ক্ষেত চোখে পড়ার মতো। এসব জমিতে এক সময় ডাল পাট, কলাসহ অন্যান্য ফসল আবাদ হতো। এসব ফসল উৎপাদন ব্যয় বেশি হওয়ায় এবং মরিচের আবাদ লাভজনক হওয়ার কারণে চাষিরা গত কয়েক বছর ধরে মরিচের আবাদে ঝুঁকে পড়েছেন। গোটা মৌসুমে টানা বর্ষণ না হওয়ায় জমিতে মরিচের গাছে ফলনও হয়েছে অনেক বেশি। পর্যাপ্ত উৎপাদন হওয়ায় স্থানীয় চাহিদার যোগান দিয়েও রাজধানীসহ অন্যান্য জেলায় মরিচ রপ্তানির উদ্যোগ ভেস্তে যাওয়ায় চাষিদের লালিত স্বপ্ন ভেঙ্গে পড়েছে।

পীরগঞ্জ উপজেলার মিলনপুর গ্রামের মরিচ চাষি আবেদ আলী জানায়, তার পঞ্চাশ শতক জমিতে প্রতি সপ্তাহে ৮ থেকে ১০ মণ মরিচ উঠছে। শুরুতেই সামান্য দাম পাওয়া গেলেও বর্তমানে মরিচ তোলার শ্রমিক খরচ, পরিবহন, কীটনাশক প্রয়োগের খরচই উঠছে না। একই গ্রামের  চাষি শাজাহান আলী,আব্দুল জব্বার ,এমদাদুল হক,তাজপুর গ্রামের রহমত আলী,আবু তাহের,গাড়াবেড় গ্রামের তোফাজ্জল মেম্বর,বাহাদুরপুর গ্রামের খায়রুল মান্টার জানান, তাদের জমিতে গত সপ্তাহ থেকে মরিচ উত্তোলন বন্ধ করে দিয়েছেন বাজার পড়ে যাওয়ার কারণে।

মিলনপুর গ্রামের মরিচ ব্যাবসায়ী মধু মিয়া জানান, সস্তার বাজারে কোনো কাঁচা মালের ব্যবসা হয় না। বর্তমানে মরিচের বাজারেও তাই হয়েছে। মৌসুমের শুরুতেই প্রতি ট্রাক মরিচ দুই লাখ টাকায় কেনা হতো। সে সময় হাটবাজারগুলো থেকে প্রতিদিন ২০ থেকে ৩০ ট্রাক মরিচ দেশের বিভিন্নস্থানে পাঠানো হতো। অথচ বর্তমান বাজারে তা মাত্র চল্লিশ হাজার টাকায় কেনা সম্ভব হচ্ছে। চাহিদা না থাকায় প্রতিদিন ৫ থেকে ৮ ট্রাক মরিচও পাঠানো যাচ্ছে না। এ অবস্থায় কোন আড়ত চালানো সম্ভব হচ্ছে না।

পীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবীদ সাদেকুজ্জামান বলেন, পরিবেশ অনুকুলে থাকায় মরিচের আবাদ বেশি হয়েছে। মৌসুমের মাঝামাঝি দাম কম পেলেও তুলানামুলকভাবে এ বছর কৃষকরা মরিচ চাষে লাভবান হয়েছে।  

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads