• শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২১ কার্তিক ১৪২৪
ads

পণ্যবাজার

মাশুল ষোলোআনা, ক্রেতার প্রাপ্তি শূন্য

  • নাজমুল হুসাইন
  • প্রকাশিত ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯

গত দেড় মাসে ছয় দফা বেড়েছে স্বর্ণের দাম। কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবান এ ধাতুর দাম ঊর্ধ্বমুখী আর সেটাই সমন্বয় করা হচ্ছে দেশের বাজারে। আর ব্যবসায়ীদের এ দাম সমন্বয় পদ্ধতি এতটাই হালনাগাদ যে, আন্তর্জাতিক বাজারে সকালে যে দামে সোনা বিক্রি হচ্ছে, দেশের বাজারে বিকালেই সে দাম কার্যকর হয়ে যাচ্ছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে কোনো পণ্যের দাম বাড়লে দেশের বাজারে এভাবেই তড়িঘড়ি করে পণ্যের দাম সমন্বয় করা হয়। কিন্তু যখন পণ্যের দাম কমে, তখন কী ঘটছে? তার কতটা সুফল পাচ্ছে ভোক্তারা? এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে দেখা যায়, দরবৃদ্ধির শতভাগ মাশুল ভোক্তাকে গুনতে হলেও সুফল পাওয়ার ক্ষেত্রে সেটা অধিকাংশ সময় শূন্যের কোঠায়। ক্ষেত্রবিশেষে চারআনা অথবা সর্বোচ্চ আটআনা পর্যন্ত। দাম সমন্বয়ের এ খেলায় সর্বক্ষেত্রেই লাভবান ব্যবসায়ীরা, আর ঠকে যাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

এখন আন্তর্জাতিক বাজারের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সেখানে বেশ কিছু পণ্যের দামই এখন নিম্নমুখী, যেগুলো দেশের বাজারে চড়া। সোনার মতো এসব পণ্যর দামও আন্তর্জাতিক বাজারের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু দীর্ঘদিন এসব পণ্যের দাম সমন্বয় হয়নি, যার প্রধান কারণই অতিরিক্ত মুনাফা অর্জন। উল্টো বাড়তির সময়ে সমন্বয় করা চড়া দামেই এসব বিক্রি হচ্ছে, যা দ্বিগুণ মুনাফারও একটি বড় উপায়।

বিশ্ববাজরে এখন নিম্নমুখী একটি পণ্য ভোজ্যতেল। কিন্তু দীর্ঘ সময় তেলের দামে এ নিম্নমুখিতার কোনো সুফল পায়নি দেশের মানুষ। উল্টো চলতি অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার পর থেকে আমদানিতে আগাম কর আরোপকে কারণ দেখিয়ে ভোজ্যতেলের দাম দুই দফা বাড়ানো হয়েছে।

যেখানে আন্তর্জাতিক বাজারের তথ্য বলছে, গত এক বছর টানা নিম্নমুখী সয়াবিন ও পাম তেলের দাম। গত বছরের সেপ্টেম্বরে প্রতি টন সয়াবিন তেলের দাম ছিল ৮৯০ ডলার, যা এখন ৭৪৮ ডলারে নেমেছে। অন্যদিকে পাম তেলের দাম কমছে দেড় বছর থেকে। গত বছরের শুরুতে (জানুয়ারি-২০১৮) প্রতি টন পাম তেলের দাম ছিল ৮২৫ ডলার। এরপর ওই দাম কমে সেপ্টেম্বর-২০১৮-তে ৭৫৫ ডলারে নেমে আসে। আর এখন সে দর আরো কমে টনপ্রতি মাত্র ৫৪৪ ডলারে নেমেছে। এ দুই পদের ভোজ্যতেলের দামই ২০১১ সালের পরে সর্বনিম্ন।

এমন পরিস্থিতিতে তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এ হারে দেশের বাজারে তেলের দাম সমন্বয় করা হলে বছর ব্যবধানে কেজিপ্রতি সয়াবিনের দাম কমপক্ষে ১২ টাকা ও পাম তেলের দাম ১৪ টাকা কমার কথা।

তেল নয়, চিনির ক্ষেত্রেও রয়েছে অসামঞ্জস্যতা। বিশ্ববাজারে গত বছরের আগস্টের পর থেকে

 

 

 

মাশুল ষোলোআনা

ক্রেতার প্রাপ্তি শূন্য

 

 

চিনির দাম প্রায় অর্ধেকে নেমেছে। ওই সময় প্রতি কেজি চিনির দাম ছিল দশমিক ৪৯ ডলার, যা এখন দশমিক ২৮ ডলার। অন্যদিকে দেশের বাজার তদারকি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশনের (টিসিবি) তথ্যানুসারে, বছর ব্যবধানে দেশের বাজারে চিনির দাম বেড়েছে সাড়ে ১২ শতাংশ।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে দেশের বাজারে অন্যতম তেল ও চিনি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান সিটি গ্রুপের পরিচালক বিশ্বজিৎ সাহা বাংলাদেশের খবরকে বলেন, আমরা বাজারে তেল-চিনির দাম ট্যারিফ কমিশনে আবেদন-পরবর্তী পর্যালোচনা সাপেক্ষে নির্ধারণ করি। সর্বদা সরকারের এ নিয়ন্ত্রক সংস্থার সিদ্ধান্ত অনুযায়ীই নতুন দাম কার্যকর হয়।

তবে এ বিষয়ে ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি ও সাবেক বাণিজ্য সচিব গোলাম রহমান বলেন, বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়লেই কোম্পানিগুলো সে অজুহাতে ইচ্ছেমতো দাম নির্ধারণ করছে। আর এমন অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তিনি বলেন, ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারের চরম প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা রয়েছে। এখনো এমন পরিস্থিতিতে কোনো সুব্যবস্থার নজির নেই। আর এসব দেখার জন্য একটি ‘প্রতিযোগিতা কমিশন’ গঠন করা হলেও বছরের পর বছর তারা বেকার বসে রয়েছে। এতে কোম্পানিগুলো দিন দিন আরো বেপরোয়া হচ্ছে।

বাজারে তেল-চিনি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের আরো কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, পণ্যের দাম হ্রাস-বৃদ্ধির বিষয়টি বেশি অংশে আন্তর্জাতিক বাজারের ওপরে নির্ভরশীল হলেও কিছু ক্ষেত্রে ডলারের দাম, পরিবহন খরচ বৃদ্ধি ও ব্যাংক লোনের সুদের হারের ওপরও নির্ভরশীল। এ ছাড়া কিছু সময় বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে সরবরাহের চুক্তি দীর্ঘমেয়াদি হয়, তখন অল্প সময়ের জন্য দাম কমলে সেটা সমন্বয় সম্ভব হয় না।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads