• বুধবার, ২৭ মে ২০২০, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫
ads

পণ্যবাজার

উদ্বৃত্ত চাল নিয়ে বিপাকে সরকার

গুদামে নষ্ট হচ্ছে পুরনো দুই লাখ টন

  • নাজমুল হুসাইন
  • প্রকাশিত ২৩ অক্টোবর ২০১৯

খাদ্য নিরাপত্তায় ওএমএস, অন্যান্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, দরিদ্রবান্ধব কর্মসূচি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলাসহ বিভিন্ন সংস্থার রেশনের জোগানের জন্য সরকারের বছরে ন্যূনতম প্রয়োজন ছয় লাখ টন চাল। ফলে সরকারি গুদামে ওই পরিমাণ চালের মজুতকে বলা হয় ‘স্বাভাবিক মজুত’। সেখানে এখন সরকারের চালের মজুত দ্বিগুণেরও বেশি, যা এ যাবতকালেরও সর্বোচ্চ। এ বাড়তি চালের মজুত নিয়ে বেশ বিপাকেই রয়েছে সরকার। 

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, সারা দেশের সরকারি গুদামে এখন খাদ্যশস্যের (চাল ও গম) মোট মজুত ১৬ লাখ ৮৭ হাজার টন। এর মধ্যে চাল ১৩ লাখ ১৫ হাজার টন। চলতি বছরের মজুত আগের সব রেকর্ড ভেঙেছে। এর আগে ২০১৫ সালে প্রায় ১২ লাখ টন চাল মজুত ছিল।

এমন পরিস্থিতিতে গুদামে মজুত পুরনো চাল নষ্ট হচ্ছে বলে জানা গেছে। নষ্ট হওয়া প্রায় ২ লাখ টন চালের অর্থিক মূল্য ৮ হাজার কোটি টাকারও বেশি, যা গত বছর আমনের মৌসুমে সংগ্রহ করা হয়েছিল। এসব চাল বছর খানেক ধরে বিভিন্ন সিএসডি-এলএসডি গুদামে পড়ে রয়েছে। সেগুলো খোলাবাজারে বিক্রির কার্যক্রম নেওয়া হলেও তাতে আগ্রহ নেই ক্রেতাদের। এদিকে বাড়তি মজুত থাকায় আসন্ন আমন মৌসুমে চাল সংগ্রহ নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। নতুন করে চাল সংগ্রহের পর সেগুলো কোথায় রাখা হবে তা নিয়ে রয়েছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মাধাব্যথা। যদিও গতকাল খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মোছাম্মৎ নাজমানারা খানুম বাংলাদেশের খবরকে বলেছেন, চালের বাড়তি মজুত রয়েছে এটা সত্য। তবে এ জন্য আমন সংগ্রহ ব্যাহত হবে না। আমরা আগামী মাসে ৭ লাখ টন আমন কেনার কার্যক্রম শুরু করছি।

তিনি বলেন, সংগ্রহ বৃদ্ধির কারণে সরকারি বিতরণ কার্যক্রমগুলো জোরদার করা হয়েছে। নতুন নতুন ক্ষেত্রে রেশন বাড়ানো হচ্ছে। পাশাপাশি ওএমএসের দাম কমিয়ে বিক্রি বাড়ানোর প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে রয়েছে। সবমিলে সমস্যা হবে না।

এদিকে সূত্র জানিয়েছে, সারা দেশের খাদ্য বিভাগ থেকে আসা মজুতসংক্রান্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, মজুত চালের মধ্যে প্রায় ২ লাখ টন চাল এখন নষ্ট হচ্ছে। চালের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে সরকার যখন বিব্রত, তখন বাজার স্থিতিশীল রাখতে কেন এ চাল ব্যবহার করা হয়নি, সে প্রশ্ন এখন ঘুরেফিরে আসছে। আবার আসন্ন মৌসুমেও আমন সংগ্রহ কার্যক্রম সফল না হলে কৃষকদের ন্যায্যমূল্য পাওয়া আবারো অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়বে।

অন্যদিকে বর্তমানে সরকারি গুদামগুলোতে মোট খাদ্য মজুতের সক্ষমতা ২০ লাখ টন। পাশাপাশি কিছু গুদাম নির্মাণ করা হচ্ছে। এগুলোর নির্মাণকাজ সমাপ্ত হলে সক্ষমতা আরো এক লাখ টন বাড়বে। এমন পরিস্থিতিতে সরকার চাইলেও আমনের পড়ে বাড়তি চাল কিনতে পারবে না।

এদিকে জানা গেছে, ওএমএস বা ওপেন মার্কেট সেল কর্মসূচির আওতায় বাজারে এখন প্রতি কেজি চাল ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু বাজারে চালের দাম তুলনামূলক কম থাকায় ওই চালে আগ্রহ নেই সাধারণ মানুষের। আর বাড়তি মজুত চালের ভার কমাতে খাদ্য অধিদপ্তর এখন দাম কমানোর পরিকল্পনা করছে। এ জন্য ওএমএসের চালের দাম কমিয়ে নির্ধারণের জন্য একটি প্রস্তাব খাদ্য মন্ত্রণালয়ে দেওয়া হয়েছে। সেখানে প্রতি কেজি চালের দাম ভোক্তা পর্যায়ে ২২ টাকা নির্ধারণ করতে বলা হয়েছে। আর খাদ্য অধিদপ্তর ওইসব চাল ডিলারদের কাছে ২০ টাকা দরে সরবরাহ করবে।

এ বিষয়ে মোছাম্মৎ নাজমানারা খানুম বলেন, আসলে দাম নির্ধারণের বিষয়টি অর্থ মন্ত্রণালয় যাচাই-বাছাই করে দেখে। আমরা খাদ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রস্তাব দিয়েছি। আশা করছি, শিগগিরই সেটা কার্যকর হবে।

এদিকে উদ্বৃত্ত চালের চাপ কমাতে সীমিত পরিসরে চাল রপ্তানির সিদ্ধান্ত নিয়েও তার সুফল পাচ্ছে না সরকার। কোন কোন দেশে চাল রপ্তানি করা যায়, সেই বাজার খোঁজার জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে উল্লেখযোগ্য কোনো পরিমাণ চাল এখনো রপ্তানি সম্ভব হয়নি। ভুটান ও ফিলিপাইন বাংলাদেশ থেকে চাল কেনার আগ্রহের কথা জানালেও বাস্তবে এখনো তা ফলশূন্য।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads