• শুক্রবার, ২২ নভেম্বর ২০১৯, ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
ads

পণ্যবাজার

পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধি

প্রতিদিন ৫০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে সিন্ডিকেট

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ০৪ নভেম্বর ২০১৯

কনসাস কনজ্যুমার সোসাইটি অভিযোগ করেছে, পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধির সুযোগ নিয়ে ক্রেতাদের কাছ থেকে সিন্ডিকেট প্রতিদিন প্রায় ৫০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। গত চার মাসে পেঁয়াজের সিন্ডিকেট যে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে, তা দিয়ে দ্বিতীয় বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করা সম্ভব বলেও সংগঠনটি দাবি করেছে। গতকাল রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক পলাশ মাহমুদ।

তিনি বলেন, ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) মূল্য তালিকা, গণমাধ্যমের সরেজমিন প্রতিবেদনে প্রকাশিত মূল্য তালিকা ও নিজস্ব উৎস থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২ জুলাই থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত সিন্ডিকেট করে পেঁয়াজের দাম বাড়ানোয় ভোক্তার ক্ষতি হয়েছে ৩ হাজার ১৭৯ কোটি ৩৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

সিন্ডিকেট জুলাইয়ে হাতিয়ে নিয়েছে ৩৯৭ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। আগস্টে ৪৯১ কোটি ৪৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা, সেপ্টেম্বরে ৮২৫ কোটি ২৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং অক্টোবরে এক হাজার ৪৬৪ কোটি ৯৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। গড় হিসাবে সেটি প্রতিদিন প্রায় ৫০ কোটি টাকা হয়। 

বাজার স্থিতিশীল রাখতে সময় নির্দিষ্ট করে পেঁয়াজের মূল্য নির্ধারণের দাবি জানিয়ে বলেন তিনি, সম্প্রতি খুচরা বাজারে পেঁয়াজের দাম প্রতি কেজি ১২০-১৫০ টাকা। এর আগে কখনো এত দাম হয়েছে বলে আমাদের জানা নেই। কোথাও কোথাও পেঁয়াজ হালি হিসাবে বিক্রি হচ্ছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যটি এখন মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে।’

পেঁয়াজের দাম বাড়ার পেছনে ব্যবসায়ীরা মূলত দুটি যুক্তি উত্থাপন করছেন। একটি- সরবরাহ কম, অন্যটি হলো আমদানি খরচ বৃদ্ধি। কিন্তু মূল্যবৃদ্ধির সময় বিবেচনা করলে দেখা যায়, এ যুক্তি-অজুহাত  ভোক্তার সঙ্গে প্রতারণার কৌশলমাত্র। ভারত পেঁয়াজের দাম বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে দেশের বাজারে দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানো হয়। এক দিনের মধ্যেই বর্ধিত দামের পেঁয়াজ বাংলাদেশে আসা সম্ভব নয়। এমনকি বর্ধিত দামে কোনো এলসিও খোলা হয়নি। তাহলে সঙ্গে সঙ্গে এর দাম বাড়ে কীভাবে? ব্যবসায়ীদের এ পেঁয়াজ কম দামে আগেই কেনা ছিল এবং যথেষ্ট সরবরাহ ছিল।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী দেশে বছরে পেঁয়াজের চাহিদা ২৪ লাখ টন। এর মধ্যে দেশি পেঁয়াজে পূরণ হয় ১৬ লাখ টনের চাহিদা। কোনো দেশ রপ্তানি বন্ধ করলে দেশি পেঁয়াজ সরবরাহ বন্ধ হওয়া বা কমে যাওয়ার কারণ নেই। আমদানি খরচ বৃদ্ধির অজুহাতও প্রযোজ্য নয়।

সিন্ডিকেটের হাত থেকে ভোক্তাকে মুক্ত করতে এ সময় চার দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। এগুলো হলো-দ্রুত একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত পেঁয়াজের সর্বোচ্চ মূল্য নির্ধারণ করা, যেকোনো পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি হলে সরকার থেকে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সর্বোচ্চ মূল্য ঘোষণা করা, পণ্য বা সেবার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে অংশীজনদের নিয়ে ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর একটি সেল গঠন ও সার্বক্ষণিক তদারকি করা এবং ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের মতো মূল্য সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads