• শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
পেঁয়াজের দাম কী কারণে কেজি প্রতি দু’শ টাকা ছাড়াল?

সংগৃহীত ছবি

পণ্যবাজার

পেঁয়াজের দাম কী কারণে কেজি প্রতি দু’শ টাকা ছাড়াল?

  • অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশিত ১৫ নভেম্বর ২০১৯

ঢাকায় বাজারে বৃহস্পতিবার সকালের দিকে পেঁয়াজের দাম ছিল কেজি প্রতি ১৯০ টাকার মতো। গতকাল যা ছিল ১৪৫ টাকা। পারদ গরম দিলে যেমন এর তাপ বাড়ে সে রকমভাবেই দিনভর একটু একটু করে পেঁয়াজের দাম বেড়ে দিন শেষে ২২০ টাকায় গিয়ে ঠেকেছে।

বিক্রেতারা সরাসরি বলছেন, কাল এই দাম আরও বাড়বে। ঢাকার সুপারশপগুলোতেও ইতিমধ্যেই দু'শর উপরে দাম নেওয়া হচ্ছে।

সেপ্টেম্বর থেকে ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ রাখার পর থেকে সরকার বেশ কিছু উদ্যোগের কথা বললেও এর দাম কিছুতেই পড়ছে না।

আমদানি থেকে শুরু করে বেচা-কেনার কয়েক ধাপে কথা বলে বোঝার চেষ্টা করা হয়েছে কী বিষয় দাম না কমার পেছনে কাজ করছে।

ভারত থেকে আমদানি বন্ধই কী একমাত্র কারণ?

পেঁয়াজের ব্যবসায়ীদের একটি সমিতি জানিয়েছে, পেঁয়াজের চাহিদার ৬০% মেটানো হয় দেশে উৎপাদিত পেঁয়াজ থেকে। বাকি ৪০% আমদানি করা হয়। আর ভারত থেকেই সিংহভাগ আমদানি করা হয়।

মো. রফিকুল ইসলাম রয়েল বেনাপোলের একজন পেঁয়াজ আমদানিকারক। তিনি বলছেন, "বাংলাদেশে পেঁয়াজের বাজার অনেকটাই ভারতের ওপর নির্ভরশীল। এই মুহূর্তে ভারত আমাদের পেঁয়াজ দেবে না। সেটার কারণে এই অবস্থা। সহসা দাম কমার কোনো সম্ভাবনা নেই।"

ভারত-কেন্দ্রিক আমদানি যারা করেন তারা অন্য কোন জায়গা থেকে পেঁয়াজ আনার ঝুঁকি নিতে চাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন আমদানিকারক।

সম্প্রতি মিশর, পাকিস্তান, চীন, মিয়ানমার, তুরস্কসহ বেশ কটি দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যেই কয়েকটি দেশ থেকে কিছু পেঁয়াজ এসেছেও।

পেঁয়াজ সংকট কাটাতে সরকার কি দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছে?

মো. রফিকুল ইসলাম রয়েল ইসলাম বলছেন, "ভারত থেকে পেঁয়াজ আনতে যত কম খরচ অন্য জায়গা থেকে আনতে গেলে জাহাজে অনেক বেশি খরচ। যেমন ধরেন মিশর বা পাকিস্তান থেকে আনলে দামে কুলাচ্ছে না।"

তিনি এর একটা হিসেব দিয়ে বললেন, "ভারতে দাম দেয়ার পর বাংলাদেশের ভেতর পর্যন্ত সেটি আনতে খরচ কেজি প্রতি সর্বোচ্চ আড়াই টাকা। কিন্তু মিশর থেকে আনতে ধরুন পরবে বিশ থেকে পঁচিশ টাকা।"

রপ্তানি প্রক্রিয়ায় সময় লাগছে

ঢাকায় মশলা জাতীয় পণ্যের প্রধান আড়ত সদরঘাটের কাছে শ্যামবাজারে। আমাদানিকারকদের কাছ থেকে আনা পেঁয়াজ এখান থেকে ঢাকার বিভিন্ন বড় বাজারে যায়। সেখানে কমিশনিং এজেন্ট হিসেবে কাজ করছেন, মাহবুবুর রহমান বিদ্যুৎ।

তিনি বলছেন, "আমরা একটা গ্যাপে পড়ে গেছি। বিভিন্ন বড় আমদানিকারক ভারত ছাড়া অন্য জায়গা থেকে পেঁয়াজ আমদানি করার জন্য এলসি খুলেছে। এলসি খোলা, ওসব দেশে ব্যবসায়ীদের সাথে যোগাযোগ করা, তারপর জাহাজে করে আনা এসবতো সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। আরও দিন পনেরো সময় লাগবে আসতে। এখন আমাদের কাছে পেঁয়াজ কম।"

তিনি বলছেন, চার পাঁচদিন ধরে কোন পেঁয়াজ তিনি পাননি। ভারত ছাড়া অন্য দেশগুলো থেকে যতটুকু এসেছে তা যথেষ্ট নয়।

তিনি অভিযোগ করছেন, "কিছু ব্যক্তি বিশেষে পেঁয়াজ আমদানি করতে দেয়া হয়েছে। ওনারা লাভ না করা পর্যন্ত পেঁয়াজ ছাড়বে না। একধরনের সিন্ডিকেট-বাজি হচ্ছে।"

তিনি আরও বলছেন, "সেপ্টেম্বর মাস থেকে এখন নভেম্বরের মাঝামাঝি। আমদানিকারক ছাড়াও সরকার যদি নিজের উদ্যোগে এতদিন ব্যবস্থা নিতো আর সাথে বেসরকারিভাবে একসাথে কাজ হতো তাহলে এই অবস্থা হতো না।"

তিনি বলছেন, মিয়ানমার ও চীন থেকে আনা কিছু পেঁয়াজ তারা পাচ্ছেন কিন্তু তা চাহিদার তুলনায় অনেক কম।

এছাড়া নতুন মৌসুমের দেশি পেঁয়াজ এখনো বাজারে আসতে শুরু করেনি। গত বছরের যে উৎপাদন সেটিই এই মৌসুমে বিক্রি হয়।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads