• বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২০, ১৮ চৈত্র ১৪২৬
ads
নিত্যপণ্যের মজুত পর্যাপ্ত

প্রতীকী ছবি

পণ্যবাজার

নিত্যপণ্যের মজুত পর্যাপ্ত

অভয় দিচ্ছে সরকার

  • নাজমুল হুসাইন
  • প্রকাশিত ১৯ মার্চ ২০২০

করোনা ভাইরাসের কারণে অথবা আসন্ন রমজানে দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের কোনো সংকট হবে না বলে আশ্বস্ত করেছে সরকারের বিভিন্ন মহল। সংস্থাগুলোর দেওয়া তথ্যও বলছে সে কথাই, যদি না পরিস্থিতি মাত্রাতিরিক্ত খারাপের দিকে যায়। এ কারণে এখন উদ্বিগ্ন হয়ে অতিরিক্ত পণ্য মজুত থেকে বিরত থাকতে বলা হচ্ছে জনগণকে।

গত ৭ মার্চ দেশে করোনার সংক্রমণ শুরুর পর থেকেই রাজধানীতে বেশি বেশি নিত্যপণ্য কেনা শুরু করেছে অনেকেই। দিন দিন সংক্রমণ মাত্রা যতটা বাড়ছে, ওই ধারাও বাড়ছে ততটাই। বিশেষ করে গত সোমবার থেকে বাজারে এমন ক্রেতাদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। অনেককেই প্রয়োজনের বেশি পণ্য কিনতে দেখা গেছে ওইদিন। গতকাল বুধবারও ছিল একই অবস্থা।

এমন পরিস্থিতি নজরে এসেছে সরকারেরও। এমন অবস্থায় জনগণকে বাজারে গিয়ে অতিরিক্ত কেনাকাটা না করার অনুরোধ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। তিনি বলেন, বাজারে নিত্যপণ্যের যে জোগান আছে, তাতে আমাদের কোনো অবস্থান থেকেই কোনো সমস্যা হওয়ার কথা না। তাই কেউ যেন স্বাভাবিক কেনাকাটার চেয়ে অতিরিক্ত কেনাকাটা না করে।

অন্যদিকে করোনা আতঙ্কে বেশি বেশি চাল কেনায় গত কয়েকদিনে চালের দাম বেড়ে গেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল করোনা ভাইরাস আতঙ্কে বাজারে চালের দাম বৃদ্ধির খবরের মধ্যেই ‘যথেষ্ট মজুদ’ থাকার কথা জানিয়ে অভয় দিলেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার।

বাজার মনিটরিং নিয়ে বুধবার সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী বলেন, সারা বিশ্বে করোনা ভাইরাস মহামারী আকারে দেখা দিয়েছে, বাংলাদেশসহ পুরো বিশ্বই আক্রান্ত হয়েছে। তবে সরকারি গুদামে বর্তমানে সোয়া ১৪ লাখ টন চাল মজুদ আছে। সুতরাং চাল-গম নিয়ে ভোক্তাদের ‘আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই’। পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে ব্যবসায়ীরা চালের দাম বাড়িয়ে দিলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ার করেছেন তিনি।

খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে সরকারি গুদামে ১৭ লাখ ৩৯ হাজার ৪৯৫ টন খাদ্যশস্য মজুদ আছে। এর মধ্যে তিন লাখ ১৯ হাজার টন গম, বাকিটা চাল। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ ইউনিট দাবি করছে, বর্তমান মজুদ পরিস্থিতি সন্তোষজনক। এছাড়া এ মুহূর্তে খাদ্যশস্যের কোনো ঘাটতি নেই, ঘাটতির কোনো আশঙ্কাও নেই।

সংশ্লিষ্টরা বলছে, খাদ্য ঘাটতি না থাকলেও আতঙ্কের কারণে একশ্রেণির মানুষ অতিরিক্ত মজুদের জন্য বাজারে হুমড়ি খেয়ে পড়েছে। ব্যবসায়ীরাও সে সুযোগে দাম বাড়াচ্ছে, তারাও মজুদ করছে। এ কারণে গত কয়েকদিন সমস্যা হচ্ছে, স্বাভাবিক সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।

এদিকে দেশে চাল, ভোজ্যতেল, চিনি, পেঁয়াজসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্যের সরবরাহ ভালো আছে। যথেষ্ট মজুদও রয়েছে বলে দাবি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের। শুধু করোনা নয়, আসন্ন রমজানের খাদ্য ঘাটতির কোনো আশঙ্কা নেই। রমজানকে সামনে রেখেই স্বভাবিকভাবে এসব পণ্য মজুদ করেছিল ব্যবসায়ীরা। এখনো সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহন অব্যাহত থাকায় আমদানি ব্যাহত হচ্ছে না। দেশে মজুদের অপেক্ষায় রয়েছে আরো কয়েক লাখ টন পণ্য।

চট্টগ্রাম কাস্টমসের তথ্যমতে, চলতি অর্থবছরের আট মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে পাম অয়েল আমদানি হয়েছে ৯ লাখ ৯১ হাজার ৪৫২ টন, যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৮ লাখ ৪৯ হাজার ৮৬৮ টন। এছাড়া চলতি অর্থবছরের আট মাসে অপরিশোধিত সয়াবিন আমদানি হয়েছে ৩ লাখ ৯৫ হাজার ৩ টন এবং অপরিশোধিত চিনি আমদানি হয়েছে ৬৭ হাজার ৬৯৬ টন, যা চাহিদার তুলনায় বেশি।

অন্যদিকে এ সময় দেড় লাখ টন চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে ছোলা আমদানি হয়েছে ১ লাখ ৯৯ হাজার ৪৭১ টন। অস্ট্রেলিয়া ও কানাডা থেকে মসুর আমদানি হয়েছে ২ লাখ ৫৪ হাজার ২৪২ টন, যদিও আগের বছরের একই সময়ে থেকে বেশি। এছাড়া এবার গত বছরের চেয়ে ৪০ হাজার ৬৪ টন মসুর বেশি আমদানি হয়েছে। এছাড়া অর্থবছরের আট মাসে সাদা মটর আমদানি হয়েছে ১ লাখ ৯৯ হাজার ৪৭১ টন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এক-দেড় মাস চীনা পণ্য আমদানি বন্ধ থাকার পরও গতবারের চেয়ে এবার বেশি এসেছে কাঁচা মসলাপণ্য রসুন। চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে রসুন আমদানি হয়েছে ৬৪ হাজার ৮১ টন, ২০১৮-১৯ অর্থবছরের একই সময়ে আমদানি হয় ৪৫ হাজার ৫০৯ টন। এছাড়া দেশে দেশি মৌসুমে পর্যাপ্ত পেঁয়াজ উঠেছে। এছাড়া ভারত থেকে পেঁয়াজ আসছে।

দেশের সবচেয়ে বড় পণ্যবাজার খাতুনগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেও পর্যাপ্ত পণ্য মজুদ থাকার কথা জানা গেছে। তারা বলছে, আসন্ন রমজানকে ঘিরে ভোগ্যপণ্যের পর্যাপ্ত আমদানি হয়েছে। বাড়তি সরবরাহের কারণে এরই মধ্যে বেশির ভাগ পণ্যের দাম নিম্নমুখী। বর্তমানে পণ্যের দাম বেড়েছে শুধু খুচরা পর্যায়ে; যার কারণ ভোক্তা পর্যায়ে অতিরিক্ত মজুদ।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads