• শনিবার, ৬ জুন ২০২০, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫
ads
আদায় ডাবল ঝাঁজ, চালে এসে নেমেছে

সংগৃহীত ছবি

পণ্যবাজার

আদায় ডাবল ঝাঁজ, চালে এসে নেমেছে

  • অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশিত ১২ মে ২০২০

আদায় ডাবল ঝাঁজ, চালে এসে নেমেছে

প্রতিবছর রমজান আসলেই লাগামহীন হয়ে পড়ে নিত্যপণ্যের বাজার। আর এবার করোনার আঘাতের কারণে তার আগেই দফায় দফায় বাড়তে থাকে সহজলভ্য পণ্যগুলোর দাম।

গত মার্চে করোনা শুরুর প্রাককালে প্রাণঘাতি ভাইরাসটি প্রতিরোধে আলোচনায় আসে আদার ব্যবহার। এতে করে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীর হাত ধরে আদায় দেখা দেয় ডাবল ঝাঁজ। প্রতিদিনই অভিযান চালিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়াধীন ভোক্তা অধিদফতর। তারপরও বিভিন্ন উপায়ে নৈরাজ্য চলছে নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্যটিতে।

এখনও প্রতিদিনই সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বাজার তদারকি চালাচ্ছে। এমন সময়ে এবার ভিন্ন কৌশল বেছে নিয়েছে সিন্ডিকেটধারীরা। করোনার প্রাদুর্ভাবকালে আমদানিকৃত যে আদা বিক্রি হতো ৩০০ থেকে ৩৬০ টাকা কেজিতে, অভিযানের ফলে তা নেমে আসে ১৩০-১৭০ টাকায়। ফলে, এবার আমদানি নয়, কারসাজি করে দাম বাড়ানো হয়েছে দেশিয় আদায়। যেখানে কেজি প্রতি বেড়েছে ৪০ থেকে ৭০ টাকা।

যদিও বাড়তি দামের এ চিত্র স্বয়ং সরকারি সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) বাজার মূল্য তালিকায়ও লক্ষ্য করা গেছে। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, ‘সপ্তাহের ব্যবধানে আমদানি করা আদার দাম ১৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ কমলেও দেশি আদার দাম বেড়েছে ১৫ দশমিক ১৫ শতাংশ।’

ভোক্ত অধিকারসহ বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চলমান করোনা দুর্যোগে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় মূলত কিছুটা অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়েছে। অধিক লাভের আশায় একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী এ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। আমদানিতে না বাড়িয়ে ব্যবহারের ওপর ভিত্তি করে দেশিয় আদায় বাড়ানো হয়েছে দাম। কেননা, আদদানিকৃত পণ্যে ক্রয়কৃত রশিদ থাকে। ফলে অভিযানে চালালে তা দেখতে চাওয়া হয়। এতেই হিতে বিপরীত হয় এসব মুনাখোরদের। যা দেশিয় আদায় থাকে না। তবে, অভিযান অব্যহত থাকলে তা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে বলে জানান তারা।

রাজধানীর কারওয়ান বাজার, নয়াবাজার ও জিনজিরা কাঁচাবাজার ও রায় সাহেব বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতিকেজি দেশি আদা বিক্রি হয়েছে ১৮০ থেকে সর্বোচ্চ ২২০ টাকা কেজি, যা এক সপ্তাহ আগে বিক্রি হয় ১৪০-১৫০ টাকায়। যদিও রোজার শুরুতে বিক্রি হয়েছে ৩০০-৩১০ টাকায়।

খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, বাজারে আমদানি করা আদার সরবরাহ বেড়েছে। কিন্তু দেশি আদার সরবরাহ কম। যে কারণে দাম বাড়তি। পাইকাররা আবার টালবাহানা শুরু করেছে। তারা দাম বাড়িয়ে বিক্রি করছে। যে কারণে বেশি দাম দিয়ে এনে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

এছাড়াও, দেশে করোনা পরিস্থিতিতে পরিবহনে পণ্য আনা-নেয়ায় ঝামেলাতো আছেই। পরিবহন পাওয়া গেলেও বেশি টাকা ভাড়া গুনতে হচ্ছে। এ কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আদা আনতে বেশি টাকা ভাড়া লাগছে। যে কারণে দেশি আদার দাম বেশি। তবে তারা জানান, সপ্তাহের ব্যবধানে আমদানি করা আদার মজুদ বাড়ায় দাম কমেছে।
অপরদিকে, করোনার প্রকোপে দফায় দফায় অস্বাভাবিক দাম বাড়ার পর কমছে চালের দাম। মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে রাজধানীর বাজারে দুই দফায় কমেছে চালের দাম। এর মাধ্যমে মহামারির পূর্বের অবস্থায় ফিরেছে বেশিরভাগ চালের বাজার। একদিকে চাহিদা কম অন্যদিকে বাজারে নতুন ধানের চাল আসায় মূলত নামতে শুরু করে বলে বলছেন ব্যবসায়ীরা।

খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, ১০ দিনের ব্যবধানে দুই দফায় চালের দাম কেজিতে কমেছে ১০ টাকা পর্যন্ত। এর মধ্যে গত দুই দিনে কেজিতে চালের দাম কমেছে তিন টাকা। তবে কিছু কিছু পুরাতন চাল এখনও এক সপ্তাহ আগের দামে বিক্রি হচ্ছে। করোনা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ার শুরুতেই চাল বিক্রি বেড়ে যায়, এতে দামও বাড়ে। এরপর বিক্রি কমলে মাঝে দাম কিছুটা কমে। তবে রোজার আগে আবার চালের চাহিদা বাড়ায় দাম বেড়ে যায়। এখন বাজারে নতুন চাল আসছে, কিন্তু বিক্রি অনেক কমে গেছে।

রাজধানীর বিভিন্ন বাজারের খুচরা ব্যবসায়ীদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে মিনিকেট ও নাজিরশাইল চাল বিক্রি হচ্ছে ৫২ থেকে ৫৫ টাকা কেজি, যা দুদিন আগে ছিল ৫৫ থেকে ৫৮ টাকা এবং রোজা শুরু হওয়ার আগে ছিল ৬২ থেকে ৬৮ টাকা কেজি। করোনার শুরুতে ছিল ৫৬ থেকে ৬০ টাকা এবং করোনার আগে ছিল ৫২ থেকে ৫৫ টাকা কেজি। অর্থাৎ রোজায় দুই দফায় কেজিতে ১০ টাকা কমে চিকন চাল এখন করোনার আগের দামে ফিরে গেছে।

দাম কমার তালিকায় রয়েছে মাঝারি মানের পাইজাম ও লতা। বর্তমানে মাঝারি মানের চালের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪২ থেকে ৪৪ টাকা, যা দুদিন আগে ছিল ৪৪ থেকে ৪৮ টাকা এং রোজার আগে ছিল ৪৮ থেকে ৫৬ টাকা। আর করোনার আগে ছিল ৪২ থেকে ৪৫ টাকা। অর্থাৎ দুই দফায় দাম কমে মাঝারি মানের চালও করোনার আগের দামে ফিরে গেছে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads