• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২০, ১৩ কার্তিক ১৪২৭
দেশি মাছে ক্রেতাদের স্বস্তি

প্রতিনিধির পাঠানো ছবি

পণ্যবাজার

দেশি মাছে ক্রেতাদের স্বস্তি

  • আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে মিলছে বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় মাছ। ওই সব সুস্বাদু ও পুষ্টি গুণে ভরা দেশীয় মাছের মধ্যে কৈ, মাগুর, শিং, টেংরা, পুঁটি, মলা, শৌল, বোয়াল, ভ্যাদা, বাইম, চিংড়ি, টাকি, চাপিলা, আইড়, পাবদা, চান্দা, বাইমসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ রয়েছে। খাল বিল নদী ও জলাশয়ে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ওইসব মাছ এখন পাওয়া যাচ্ছে।

জেলেসহ বিভিন্ন লোকজন জাল, বেড়জাল, চাই, খরাসহ অন্যান্য উপকরণ দিয়ে মাছ শিকার করে তারা বাজারে বিক্রি করছেন। এদিকে বাজারে দেশীয় মাছ সরবরাহ বৃদ্ধিতে দাম কম হওয়ায় সাধারণ ক্রেতাদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে । অন্যদিকে প্রচুর দেশি মাছ পাওয়ায় জেলেরাও বেজায় খুশি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এ মৌসুমে উপজেলায় প্রচুর বৃষ্টিপাতের ফলে খাল বিল, নদী জলাশয়ে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বিভিন্ন প্রজাতির মাছ পাওয়া যাচ্ছে। জেলেসহ অন্যান্য লোকজন মাছ শিকারে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। ওইসমস্ত লোকজন টেঁটা, জাল, বেড়জাল, চাই, খরাসহ মাছ ধরার বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে মাছ ধরে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করছেন। তবে হাটবাজার গুলোতে নানা ধরনের দেশি মাছ বৃদ্ধি পাওয়ায় দাম ও রয়েছে নাগালের মধ্যে। ফলে সব শ্রেণির লোকজনের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

সুজন চন্দ্র দাস বলেন, বর্ষা মৌসুম থাকায় নদী, খাল বিল ও জলাশয়ে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় জাল দিয়ে মাছ ধরছেন। সকাল বিকাল তারা জাল দিয়ে মাছ ধরছেন। জালে ও প্রচুর মাছ উঠছে। নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে ভালো টাকা আয় হচ্ছে। দৈনিক ১৫শ থেকে ২ হাজার টাকার উপর মাছ বিক্রি করেন বলে জানায়।

পৌর শহরের দেবগ্রাম এলাকার ক্রেতা মো. মহসিন মিয়া বলেন, বেশ কয়েক দিন ধরে দেশীয় প্রজাতির কৈ,শিং, টেংরা, পুঁটি, বোয়াল, ভ্যাদা, বাইম,আইড়, বাইমসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ বাজারে দেখা যাচ্ছে। তুলনামূলক অন্যন্যা সময়ের থেকে অনেক কম দামে বিক্রি হচ্ছে।

মসজিদ পাড়ার তাজু মিয়া বলেন, স্থানীয় বাজারে সবজির চেয়ে এখন মাছ অনেক সস্তা। সকাল সন্ধ্যায় দেশীয় প্রজাতির মাছ উঠায় দাম ও অনেক কমে পাওয়া যাচ্ছে। তাই প্রতিদিন সকাল বেলা বাজার থেকে মাছ কেনা হয় বলে জানায়।

রিকসা চালক মো. কামাল বলেন, বাজারে দেশীয় প্রজাতির মাছ খুবই কম উঠতো । তবে দাম ছিল নাগালের বাইরে থাকায় কেনা হতো না। এখন বাজারে প্রচুর পরিমাণ মাছ উঠায় আমাদের মতো লোকজন ক্রয় করতে পারছে। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মিলন মিয়া বলেন, সীমিত আয় থাকায় বেশীভাগ সময় মাছ ছাড়া খেতে হয়েছে। এখন বাজারে দেশীয় মাছ উঠায় দৈনিক কেনা হয় বলে জানায়।
নীল মোহর দাস বলেন, দীর্ঘ বছর ধরে খাল বিল নদী ও জলাশয় থেকে জাল দিয়ে মাছ মাছ ধরেই জীবিকা নির্বাহ করছেন তিনি । প্রতিদিন নৌকার মাধ্যমে জাল দিয় মাছ ধরে ১৫শ থেকে ২ হাজার টাকার উপর মাছ বিক্রি হয় । তবে বর্ষা কালে জীবিকা ভালো ভাবে চললেও শুষ্ক মৌসুমে চলা খুবই কষ্ট হয় । ওই সময় জীবন বাঁচাতে কৃষিকাজসহ এলাকায় যখন যে কাজ পাই করা হয়।
আখাউড়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আব্দুস সালাম বলেন,অতিরিক্ত বৃষ্টি পাতের ফলে খাল বিল নদী ও জলাশয়ে পানি বেশ বৃদ্ধি পেয়েছে। পানি দীর্ঘস্থায়ী হওয়ায় মাছের প্রজনন স্বাভাবিক ছিল। পাশাপাশি দেশি মাছ সংরক্ষণ ও প্রজননের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেয়ায় দেশি মাছের সরবরাহ বৃদ্ধি পেয়েছে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads