• মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর ২০২০, ৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭
আলুর নতুন দাম বেঁধে দিল সরকার

ফাইল ছবি

পণ্যবাজার

আলুর নতুন দাম বেঁধে দিল সরকার

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ২১ অক্টোবর ২০২০

মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যে আবারো বাড়ল আলুর দাম। খুচরা পর্যায়ে আলুর প্রতি কেজি ৩০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ মূল্য ৩৫ টাকা নির্ধারণ হয়েছে। আজ বুধবার থেকে এই মূল্য কার্যকর হবে।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে তৃণমূল পর্যায়ের আলু চাষি, পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতা, হিমাগার প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে এক জরুরি বৈঠক করে কৃষি সম্প্রসারণ ও কৃষি বিপণন অধিদপ্তর। বৈঠকে প্রথমে আলুর কেজিপ্রতি মূল্য খুচরা পর্যায়ে ৩৩ টাকা এবং পাইকারি পর্যায়ে ২৬ টাকা প্রস্তাব করেন কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ ইউসুফ। বাজার কমিটি এতে ভেটো দিলে প্রস্তাবটি নাকচ হয়। পরবর্তীতে খুচরা পর্যায়ে কেজিপ্রতি ৩৫ টাকা, পাইকারি পর্যায়ে ৩০ টাকা এবং হিমাগারে ২৭ টাকা দাম প্রস্তাবিত হলে সেটি গৃহীত হয়।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে মোহাম্মদ ইউসুফ বলেন, এই দাম আগামীকাল থেকে কার্যকর হবে। তবে অনেকেই যেহেতু আগে থেকে বেশি মূল্যে আলু কিনে রেখেছেন তাই কোথাও কোথাও মূল্যে তারতম্য হতে পারে। ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসবে।

বৈঠকে ধানের মতো কৃষকদের কাছ থেকে সরকারকে আলু কিনে নেওয়ার আহ্বান জানান চাষিরা। সভায় কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ ইউসুফ, কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আলী আকবর, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মাসুম আরেফিনসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক বলেন, আমাদের লক্ষ্য ছিল কৃষক যাতে এ বছর ভালো দাম পায়। কিন্তু দাম বাড়াতে গিয়ে এমন পরিস্থিতি হয়ে যাবে ভাবতে পারিনি। এ বছর আলুর ব্যবহার অনেক হয়েছে। বিদেশ থেকেও আলু আমদানি করার চেষ্টা চলছে। ইরানের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। 

মন্ত্রী বলেন, পুলিশ-র্যাব দিয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। বাজার নির্ভর করে চাহিদা ও সরবরাহের ওপর। এ জন্য আমরা পুনর্বিবেচনা করছি।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, আমাদের আলু চাষের এলাকা কমেছে, উৎপাদনও কিছু কম হয়েছে। এর মধ্যে কোভিড মহামারী এলো। আমাদের এবার লক্ষ্য ছিল আলুর দাম বাড়ানোর। দাম বাড়াতে গিয়ে এমন একটা বিপর্যয়কর অবস্থা হবে ভাবিনি। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষ, রিকশাওয়ালা-ভ্যানওয়ালা, শ্রমিক তাদের অনেক কষ্ট হয়েছে। এত দাম চিন্তাই করা যায় না। ৫০ টাকা কিংবা এরও বেশিতে বিক্রি হচ্ছে।

তিনি বলেন, এবার ত্রাণের মধ্যে আলু দেওয়া হয়েছে। রোহিঙ্গাদেরও আলু দিতে বলেছিলাম। এ জন্য আলুর ব্যবহারটা বেশি হয়েছে। এ ছাড়া গত ৫ মাস ধরে টানা বৃষ্টিতে শাকসবজি অনেক পচে গেছে, মানুষ আলুর ওপর নির্ভরশীল হয়েছে। তা না হলে কোনোক্রমেই আলুর দাম এত বেশি হওয়ার কথা নয়।

আবদুর রাজ্জাক বলেন, আশা করি নতুন আলু এলে আলুর দাম কমে যাবে। এবার আলু অনেক হবে। আলুতে আমাদের ঘাটতি থাকার কোনো কারণ নেই। আমাদের পর্যাপ্ত আলু হয়। আশা করি ভবিষ্যতে এই সমস্যা হবে না। আমরা এখনো চিন্তা করছি আলু কীভাবে রপ্তানি করা যায়। এই বিপর্যয়ের জন্য আমরা খুবই দুঃখিত। স্বল্প আয়ের মানুষ কষ্ট করছে।

প্রসঙ্গত, এর আগে গত ৭ অক্টোবর প্রতি কেজি আলুর দাম কোল্ডস্টোরেজ পর্যায়ে ২৩ টাকা, পাইকারি পর্যায়ে ২৫ টাকা এবং ভোক্তা পর্যায়ে ৩০ টাকা বেধে দেয় কৃষি বিপণন অধিদপ্তর। এই দাম নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসকদের কাছে চিঠিও পাঠানো হয়। কিন্তু এ দামের বিষয়ে আপত্তি জানান ব্যবসায়ীরা।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads