• মঙ্গলবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ৩ আশ্বিন ১৪২৫
ads
শিল্পবর্জ্যের আগ্রাসন থেকে হালদা নদী রক্ষায় মানববন্ধন

শিল্পবর্জ্যের আগ্রাসন থেকে রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন করেছে হালদাপাড়ের মানুষ ও পরিবেশবাদীরা

ছবি : বাংলাদেশের খবর

সারা দেশ

শিল্পবর্জ্যের আগ্রাসন থেকে হালদা নদী রক্ষায় মানববন্ধন

  • চট্টগ্রাম ব্যুরো
  • প্রকাশিত ২৪ জুন ২০১৮

দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন কেন্দ্র হালদাকে শিল্পবর্জ্যের আগ্রাসন থেকে রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন করেছে হালদাপারের মানুষ ও পরিবেশবাদীরা। চট্টগ্রাম-কাপ্তাই মহাসড়কের মদুনা ঘাট এলাকায় হালদা নদীর পাড়ে গতকাল শনিবার বিকালে এই মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।

এ সময় বক্তব্য রাখেন হালদা রিসার্চ ল্যাবরেটরির সমন্বয়ক ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক ড. মনজুরুল কিবরিয়া, চ্যানেল আই চট্টগ্রামের ব্যুরোপ্রধান চৌধুরী ফরিদ, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘হালদা’র সাধারণ সম্পাদক এসএম মুজিব, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ রাশেদ প্রমুখ।

স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘হালদা’র সাধারণ সম্পাদক এসএম মুজিব এ সময় বলেন, সমপ্রতি হালদাপাড়ের কিছু কিছু এলাকায় দূষিত বর্জ্যের কারণে পানি বিষাক্ত হয়ে পড়েছে। সরকারকে এখনই এ ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। তা না হলে এই নদী তার ঐতিহ্য হারিয়ে বুড়িগঙ্গার মতো বর্জ্যাগারে পরিণত হবে।

ড. মনজুরুল কিবরিয়া আরো বলেন, হালদা প্রকৃতির নিয়মেই এদেশকে কোটি কোটি টাকার মৎস্য সম্পদের জোগান দিচ্ছে। কিন্তু আমরা সচেতন নাগরিকরাই এই হালদাকে দূষণে ভূমিকা রাখছি। চট্টগ্রাম ওয়াসার প্রকল্প, এশিয়ান পেপার মিল, ইটভাঁটা, তামাক চাষসহ নদীকে ঘিরে গড়ে ওঠা শিল্প কারখানার বর্জ্য ও রাসায়নিক উপাদান সরাসরি পানিতে মিশে এ নদীকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাচ্ছে। অনতিবিলম্বে এ পরিস্থিতি থেকে কর্ণফুলী নদীকে বাঁচাতে হবে। গত কয়েকদিনে যেভাবে মাছ মারা যাচ্ছে সেভাবে হালদার ইতিহাসে মাছ মারা যাওয়ার কোনো নজির নেই।

এদিকে হালদা নদী, হাটহাজারী ও রাউজান উপজেলাকে ভয়াবহ দূষণ থেকে রক্ষার দাবি জানিয়ে শনিবার গণমাধ্যমে বিবৃতি দিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এমএ সালাম। বিবৃতিতে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন যাবৎ শিল্পবর্জ্যের কারণে হালদা নদী ও হাটহাজারী উপজেলার শিকারপুর, বুড়িশ্চর, উত্তর ও দক্ষিণ মাদার্শা, চিকনদণ্ডী, ফতেপুর, মেখল ও গড়দুয়ারা ইউনিয়নের ফসলের মাঠ, খাল, পুকুর ও অন্যান্য জলাশয় ব্যাপক দূষণের শিকার হয়ে আসছে। সামপ্রতিক ভয়াবহ বন্যায় এ দূষণের মাত্রা আরো বেড়ে গেছে। হালদার পানি বিষাক্ত হয়ে যাওয়ায় মাছ মরে ভেসে উঠছে এবং দূষিত পানি এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। কৃষিকাজের জন্য মানুষ জমিতে নামতে পারছে না। বিবৃতিতে তিনি এ ব্যাপারে বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়, পরিবেশ অধিদফতর, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।

উল্লেখ্য, শিল্পকারখানার বর্জ্যের কারণে হালদার পানিতে অ্যামোনিয়ার পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় মরতে শুরু করেছে মা মাছ। গত চার দিনে শত শত মা মাছ মরে ভেসে উঠেছে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads