• সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪
ads
এক সপ্তাহে ৩৫০ স্থাপনা পদ্মায় বিলীন

নড়িয়ায় সর্বগ্রাসী পদ্মার ভাঙন চেয়ে দেখছেন ঘরবাড়ি হারানো অসহায় মানুষ

ছবি -বাংলাদেশের খবর

সারা দেশ

এক সপ্তাহে ৩৫০ স্থাপনা পদ্মায় বিলীন

নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিত্যক্ত ঘোষণা

  • আবুল হোসেন সরদার, শরীয়তপুর
  • প্রকাশিত ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৮

পদ্মার অব্যাহত ভাঙনে শরীয়তপুরের তিন উপজেলায় গত এক সপ্তাহে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, দোকানপাট, ঘরবাড়িসহ প্রায় ৩৫০টি ছোট-বড় স্থাপনা হারিয়ে গেছে। বিলীনের শঙ্কায় রয়েছে বিভিন্ন এলাকার বহু সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা। নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সও হারিয়ে যাচ্ছে পদ্মার করালগ্রাসে। ইতোমধ্যে দুটি ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে।

ভাঙনকবলিত চরজুজিরা, মুলফৎগঞ্জ ও নড়িয়া ঘুরে দেখা গেছে, গত এক সপ্তাহে প্রায় ৩৫০টি ছোট-বড় স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। টানা দুই মাসের ভাঙনে নড়িয়া উপজেলার কমপক্ষে ৪ হাজার পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে। মুলফৎগঞ্জ বাজারের বিশাল অংশ হারিয়ে গেছে নদীতে। বিলীন হয়েছে রাস্তা, ব্রিজ, কালভার্টসহ নানা স্থাপনা। এখনো ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে ৮ শতাধিক স্থাপনা। মুলফৎগঞ্জ আলিয়া মাদরাসাসহ সরকারি প্রতিষ্ঠান, আধাপাকা ঘরবাড়ি, দোকানপাট এই তালিকায় রয়েছে।

নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি গ্রাস করে নিয়ে যাচ্ছে পদ্মা নদী। হাসপাতালের সামনের রাস্তা ইতোমধ্যে হারিয়ে গেছে নদীগর্ভে। গত শনিবার রাতে হাসপাতাল মসজিদের একাংশ গ্রাস করে নিয়েছে পদ্মা। হাসপাতালের নতুন কমপ্লেক্স ভবনে ফাটল ধরেছে। ইতোমধ্যে দুটি ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণা করে মালামাল সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। হাসপাতালের ডা. মো. গোলাম ফারুক বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে নড়িয়া উপজেলার মানুষ। স্টাফ নার্স রোজিনা আকতার জানান, আপাতত আবাসিক ভবনে হাসাপতালের কার্যক্রম চালু রয়েছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, নড়িয়া উপজেলার নদীপাড়ের লোকজন তাদের বসতবাড়ি ও দোকানপাট থেকে মালামাল সরিয়ে নিচ্ছে। নদীগর্ভে বিলীন হওয়া বাড়ির বাসিন্দাদের অনেকেই খোলা আকাশের নিচে জীবন-যাপন করছেন। পানি উন্নয়ন বোর্ড আপদকালীন বরাদ্দ দিয়ে ৫ কোটি টাকার জিওব্যাগ ফেলেও ভাঙন রোধ করতে পারছে না। এলাকাবাসীর অভিযোগ, এখন পর্যন্ত কোনো জনপ্রতিনিধি বা সরকারের কোনো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাদের দেখতে যাননি। সরকারের ত্রাণ তহবিল থেকে কিছু শুকনো খাবার, সাড়ে ৩ হাজার পরিবারকে জিআর চাল, ৩০০ পরিবারকে ঢেউটিন দেওয়া হয়েছে।

কেদারপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ইমাম হোসেন দেওয়ান বলেন, গত কয়েক দিনে ৩০০ বছরের পুরনো মুলফৎগঞ্জ বাজারের কয়েকটি ক্লিনিক, শপিংমলসহ ২০০ থেকে ২৫০টি দোকানপাট নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। আমরা এ এলাকাকে দুর্যোগপ্রবণ এলাকা ঘোষণা ও ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের দাবি জানাচ্ছি।

নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা ইয়াসমিন বলেন, পদ্মার ভাঙনে আমাদের উপজেলায় প্রায় ৪ হাজার পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে। সাধুর বাজার ও ওয়াপদা বাজারের দুই শতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও মুলফৎগঞ্জ বাজারের দুই শতাধিক দোকানপাট নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ইতোমধ্যে ভাঙনকবলিতদের মাঝে জিআর চাল, ঢেউটিন ও শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। সাধুর বাজার এলাকায় ভূমিধসে আহত ২০টি পরিবারের মাঝে ১০ হাজার টাকা করে চেক বিতরণ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads