• শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮, ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৪
ads
ভাসমান হাটে প্রতারিত হচ্ছে ক্রেতা!

লঞ্চ ঘাটে এভাবেই মেঘনা নদীতে ভাসমান ইলিশের হাট বসিয়ে ইলিশ বিক্রি করছে এক শ্রেণীর প্রতারক

ছবি । বাংলাদেশের খবর

সারা দেশ

ক্ষুন্ন হচ্ছে চাঁদপুরের ইলিশের সুনাম

ভাসমান হাটে প্রতারিত হচ্ছে ক্রেতা!

  • মো. মহিউদ্দিন আল আজাদ
  • প্রকাশিত ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮

চাঁদপুরে নৌ-টার্মিনাল এলাকায় মেঘনা নদীতে ভাসমান ইলিশের হাটে প্রতারিত হচ্ছেন ক্রেতা। এক শ্রেনীর ভ্রাম্যমান মাছ বিক্রেতা ইলিশের হাট বসিয়ে ক্রেতাদের পকেট কাটছেন। তারা চাঁদপুরের ইলিশের নামে সাগরের ইলিশ বিক্রি এবং তাজা ইলিশের সাথে পঁচা মাছ মিশিয়ে ক্রেতাদের প্রতারিত করে আসছেন।

প্রতিদিন ৮/১০টি নৌকা মেঘনা নদীতে একসাথে জড়ো করে ভাসমান ইলিশের হাট বসায় তারা। ঢাকা থেকে চাঁদপুর এবং বরিশালগামী লঞ্চের যাত্রীরা এ হাটের ক্রেতা। তাজা এবং চাঁদপুরের মনে করে চড়া দামে ইলিশ ক্রয় করে প্রতিনিয়ত প্রতারিত হচ্ছেন ক্রেতা সাধারণ।

একদিকে চাঁদপুরের ইলিশ বলে দাম নিচ্ছে চড়া, অন্যদিকে তাজা মাছের সাথে পঁচা মাছ মিশিয়ে ক্রেতাদের প্রতারিত করা হচ্ছে। এ নিয়ে প্রায় সময় ক্রেতাদের সাথে বাক-বিতণ্ডা হতে দেখা যায়। কেউ জোরালো প্রতিবাদ করলে তার সাথে খারাপ ও মারমূখী আচরন করে থাকে ভাসমান এই বিক্রেতারা।

এ ব্যাপারে স্থানীয় নৌ-টার্মিনালের দায়িত্বে থাকা বন্দর কর্তৃপক্ষ ও নৌ-পুলিশ কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না। এতে চাঁদপুরের সুনাম যেমনি ক্ষুন্ন হচ্ছে, তেমনি করে প্রতিদিন শত শত ক্রেতারা প্রতারণার শিকার হচ্ছে। এ প্রতারণার হাত থেকে ক্রেতাদের রক্ষা করে চাঁদপুরের সুনাম রক্ষা করা সময়ের দাবী বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখা যায়, নৌ-টার্মিনাল এলাকায় যাত্রীবাহী লঞ্চের পাশে মেঘনা নদীতে প্রতিদিন বসছে ভাসমান ইলিশের হাট। হাটে অসাধু মাছ ব্যবসায়ীরা পদ্মা-মেঘনার তাঁজা এবং ভাল ইলিশ বলে ক্রেতাদের কাছ থেকে দাম বেশী নিচ্ছে। এমনকি ইলিশ ক্রয় করার পর প্যাকেজিং করার সময় দেখ যায়, ভাল ইলিশের সাথে পচাঁ ইলিশ ঢুকিয়ে দিয়ে দিচ্ছে।

৭-৮শ’ গ্রামের ৪টি ইলিশের দাম হাঁকায় ২-৪ হাজার টাকা। ক্রেতা সাধারণ বুঝে না বুঝে কেউ অর্ধেক, কেউ বা দামের তিন ভাগ বলে আবার কেউ দাম কষাকষি। এক পর্যায়ে লঞ্চের যাত্রীরা মাছ ক্রয় করে থাকে। তারপর ব্যাগ ভর্তি করে বরফ দিয়ে মুখ বেধে ক্রেতার হাতে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

বাড়িতে নিয়ে দেখে ৪টি ইলিশের মধ্যে ১টি বা ২টি পঁচা বা নরম হয়ে গেছে। অনেকে বলেছে ৪টি ইলিশের মধ্যে ৪টিই পঁচা। এ ভাবে তারা প্রতিদিন ভাসমান হাট থেকে ইলিশ ক্রয় করে প্রতারিত হচ্ছে। প্রতিদিন চাঁদপুর লঞ্চঘাটে শত শত যাত্রী নদী পারাপার হয়ে থাকে। এ সব যাত্রীদের নিকট সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত এভাবে ভাসমান ইলিশের হাট বসিয়ে শত-শত ক্রেতাদের কাছে হাজার হাজার টাকায় মাছ বিক্রি করে যাচ্ছে।

খবর নিয়ে জানা যায়, ইলিশের রাজধানী চাঁদপুর বড় স্টেশন আড়ৎ থেকে দক্ষিণাঞ্চলের (সাগরের) মাছ কম দামে ক্রয় করে বরফ দিয়ে রাখে। তারপর মাছগুলো শক্ত হলে, সে মাছগুলো তারা পদ্মা-মেঘনা নদীর মাছ বলে বেশী দামে বিক্রি করে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নেয়।

 

মাছ বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, তাদের অধিকাংশ বেদে পরিবারের। পুরুষেরা নদীতে মাছ ধরে, কেউ সাপের খেলা দেখায়, তাদের স্ত্রী ও কন্যারা ফেরী করে সাজ-গোজের পন্য বিক্রী, কেউ আবার সিংগা দিয়ে অর্থ উপার্জন করে করে। যারা নদীতে মাছ ধরে বা আড়ৎ থেকে মাছ কিনে বিক্রি করে, তাদের অধিকাংশ নদীতে ভাসমান হাটে, রেল স্টেশন, বাস স্টেশনে লঞ্চঘাটে মাছ বিক্রি করে থাকে। এতে দাম ভালো পাওয়া যায়।

এ ব্যাপারে চাঁদপুর নৌ-বন্দরের দায়িত্বে থাকা টিআই মো. জহিরুল ইসলাম জানান, এখানে সাধারন মানুষ মাছ বিক্রি করে বলে আমরা কিছু বলিনা। যেহেতু যাত্রীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ উঠেছে, সেহেতু আমরা ব্যবস্থা গ্রহন করবো। এ ছাড়া নৌ-টার্মিনাল থানার ওসিকেও এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহনে অনুরোধ করবো।

লঞ্চ ঘাটে এভাবেই মেঘনা নদীতে ভাসমান ইলিশের হাট বসিয়ে ইলিশ বিক্রি করছে একশ্রেনির প্রতারক । ছবি : বাংলাদেশের খবর

 

চাঁদপুর নৌ-বন্দরের আইন-শৃঙ্খলার দায়িত্বে থাকা নৌ-থানার অফিসার ইনচার্জ মো. রেজাউল করিম জানান, নৌ-এলাকায় ভাসমান নৌকায় ইলিশ বিক্রি হচ্ছে, সে ইলিশ যদি পঁচা বা খাওয়ার অনুপযোগীা হলে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে তাৎক্ষনিক তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। ইতি পূর্বে এ ধরনের অভিযোগ পেয়েছি।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads