• মঙ্গলবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৮, ১ কার্তিক ১৪২৫
ads
মেদিনীমণ্ডল গার্লস কলেজে শতভাগ পাশ!

মুন্সীগঞ্জ জেলার মেদিনীমণ্ডল গার্লস কলেজ

ছবি : বাংলাদেশের খবর

সারা দেশ

মেদিনীমণ্ডল গার্লস কলেজে শতভাগ পাশ!

  • লৌহজং (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮

লৌহজং উপজেলার একমাত্র মহিলা কলেজ মেদিনীমন্ডল গার্লস কলেজ। নির্মাণাধীন পদ্মা বহুমুখী সেতুর মাওয়া প্রান্তে এর অবস্থান। এ বছর মুন্সীগঞ্জ জেলার শতভাগ পাশ করা একমাত্র কলেজ এটি। কিন্তু প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে নানা ঘটনা, উত্থান-পতন আর টানা পড়েনের মধ্য দিয়ে কলেজটির অভিযাত্রা।

১৯৯৩ সালে স্থাপিত মেদিনীমন্ডল গার্লস কলেজের অমিত সম্ভাবনা সত্ত্বেও বর্তমানে সুরম্য অট্টালিকা ছাড়া এর গৌরব করার মতো কিছু নেই। প্রথমত, এটি এমপিওভুক্ত নয়। এতে নেই কোনো নিয়মিত বেতনভুক্ত শিক্ষক। শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রীর সংখ্যাও হাতেগুণা। এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে বন্ধ হয়ে যেতে পারে এই নারী বিদ্যাপীঠটি।

বাংলাদেশের খবর তথ্যানুসন্ধানে জানতে পারে, ১৯৯৩ সালে মেদিনীমন্ডল গ্রামে নারী সমাবেশে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এলে এখানে মেয়েদের জন্য একটি কলেজ প্রতিষ্ঠার দাবি তোলা হয়। তিনি তৎক্ষণাৎ এক লাখ টাকা অনুদান দেন। স্থানীয় সংসদ সদস্য প্রয়াত ইউং কমান্ডার (অব.) এম হামিদুল্লাহ খান বীর প্রতীকের উদ্যোগে এক একর জায়গার ওপর মেদিনীমন্ডল গার্লস কলেজ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন। স্থানীয় জলিল হাওলাদারের দখলে থাকা মনিন্দ্র ঠাকুর নামে এক হিন্দু লোকের পরিত্যক্ত বাড়ি-জমি-ডোবার ওপর এই কলেজ স্থাপিত হয়। এরপর ১৯৯৪-'৯৫ শিক্ষাবর্ষে ১২জন শিক্ষক ও ১৩২জন ছাত্রী নিয়ে শুরু হয় কলেজের যাত্রা। এবং কলেজের কার্যক্রম ধীরগতিতে চলতে থাকে। এ অবস্থায় ১৯৯৭ সালে সরকারি আইনে সে সময়ের জেলা প্রশাসক নিকুঞ্জ বিহারীকে কলেজের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি করা হয়। মেদিনী মন্ডল গ্রামের খ্যাতনামা খান পরিবারের সদস্য ও দৈনিক জনকন্ঠের সম্পাদক আতিকউল্লাহ খান মাসুদ কলেজের উন্নয়ন ও অস্থিত্ব রক্ষায় বিশেষ ভূমিকা রাখেন। কিন্তু এতেও কলেজটি গতিশীল হয়নি।

কলেজটিকে টিকিয়ে রাখার লক্ষ্যে বর্তমান অধ্যক্ষ রোজিনা আক্তার মুন্সীগঞ্জে জন্ম নেওয়া তৎকালীন দুই রাষ্ট্রপতি বি. চৌধুরী ও ড. ইয়াজউদ্দিন আহমেদের সাথে দেখা করেন। কিন্তু কার্যকরী পদক্ষেপ না নেওয়ায় কলেজের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের সংখ্যা কমতে থাকে। বর্তমানে কর্মচারীসহ ৬ জন শিক্ষক ও নিয়মিত-অনিয়মিত ৪০ জন ছাত্রী আছে বলে জানান রোজিনা আক্তার। তিনি আরোও জানান এখানে শুধু মানবিক শাখার শিক্ষার্থীরাই ভর্তি হতে পারে।

২০১৭ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় শতভাগ শিক্ষার্থী ফেল করে। এমতাবস্থায় কলেজের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি বর্তমান জেলা প্রশাসক সায়লা ফারজানা চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি তার সভাকক্ষে সভা ডাকেন। সভায় কলেজের প্রভাষক রোজিনা আক্তারকে অধ্যক্ষ পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। তিনি বিধি মোতাবেক অধ্যক্ষ নিয়োগপ্রাপ্ত নন এবং তার জন্য কলেজটির উন্নতি হচ্ছে না বলে জানানো হয়। কলেজের ফলাফল ভালো করার লক্ষ্যে জেলা প্রশাসক লৌহজং উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনির হোসেনকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব দিয়ে কলেজটির কার্যক্রম সচল করতে উদ্যোগ নিতে বলা হয়। এরপর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তার বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তাদের কলেজে পাঠিয়ে শিক্ষকদের পাশাপাশি ক্লাস নিয়েছেন। যার ফলশ্রুতিতে চলতি বছর এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৪জন শিক্ষার্থীই পাশ করে। এ বছর ঈদ-উল ফিতরের আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মনির হোসেন রোজিনা আক্তারকে অধ্যক্ষ পদবি ব্যবহার এবং কলেজের ব্যবস্থাপনা বিষয়ে কোনো তৎপরতা না চালানোর নোটিশ পাঠান। এ ব্যাপারে কথা হয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে। তিনি রোজিনা আক্তারের অদক্ষতা, খামখেয়ালি ও একগুঁয়েমি কলেজটি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে বলে দায়ী করেন। আমরা সেটাকে টেনে তোলার চেষ্টা করছি। তার কর্মকান্ডের জন্য এলাকায় অনেক শিক্ষানুরাগী ও দানবীর কলেজের উন্নয়নের ব্যাপারে এগিয়ে আসছে না।

এদিকে প্রতিষ্ঠাকাল থেকে এ কলেজের শিক্ষিকা রোজিনা আক্তার বর্তমানে বিগত ১৮ বছর ধরে নিজেকে অধ্যক্ষ হিসেবে দাবি করে আসছেন। তিনি বলেন, আমি এ কলেজের বৈধ অধ্যক্ষ। আমি অধ্যক্ষ হিসেবে কলেজের সকল দাফতরিক কাজ করে এসেছি। কলেজটিকে এ পর্যন্ত নিয়ে এসেছি। ২০০০ সালের মে মাসে আমাকে অস্থায়ী অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়া হয় সে সময়ের রাষ্ট্রপতির বঙ্গভবন কার্যালয়ের জন বিভাগ থেকে। এ সংক্রান্ত চিঠি আমার কাছে আছে। ১৯৯৩ সাল থেকে আমি কলেজটিকে সকল বিপদ-আপদ থেকে আগলে রেখেছি। নইলে এতদিনে কলেজের জায়গা, ভবন কিছুই থাকতো না। এমনকি আমার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ২০১৬ সালে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে ১ কোটি ২১ লাখ ৫৫ হাজার টাকায় ৪ তলা ভবন নির্মাণ করা হয়।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads