• রবিবার, ২১ অক্টোবর ২০১৮, ৬ কার্তিক ১৪২৫
ads
বন্যার পানি কমছে ভাঙছে নদীর তীর

পদ্মার ভাঙনে কুষ্টিয়ার শিলাইদহ কুঠিবাড়ী রক্ষা বাঁধে অব্যাহত ধস

ছবি : বাংলাদেশের খবর

সারা দেশ

বন্যার পানি কমছে ভাঙছে নদীর তীর

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮

ভারত থেকে নেমে আসা পানিতে দেশের কয়েকটি নদীতীরবর্তী এলাকায় দেখা দেওয়া বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে শুরু করেছে। তবে যমুনাসহ অন্যান্য নদীতে পানি কমলেও পদ্মায় পানি বাড়া অব্যাহত আছে। বগুড়া, কুড়িগ্রাম ও জামালপুরে পানি কমেছে। নদীভাঙনের কবলে পড়েছে কুষ্টিয়া ও বগুড়ার কিছু এলাকা। এছাড়া জামালপুর ও বগুড়ার অর্ধশতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বাংলাদেশের খবরের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

ঈশ্বরদী (পাবনা) : ঈশ্বরদীতে পদ্মা নদীর পানি বাড়ছে। পাকশী হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পদ্মার পানি গতকাল বৃহস্পতিবার বিকাল পর্যন্ত বিপদসীমার সন্নিকটে ছিল। পানি পৌঁছে গেছে নদীশাসন বাঁধ (গাইড ব্যাংক) পর্যন্ত। পানি বাড়ায় পদ্মার চরে জেগে ওঠা সাঁড়া ইউনিয়নের সাহেবনগর ও মোল্লারচর গ্রামের বসতি সরিয়ে ফেলা হয়েছে। হার্ডিঞ্জ ব্রিজের নিচের অস্থায়ী দোকানপাটও সরিয়ে ফেলা হয়েছে। স্রোতের তীব্রতায় চরের অধিকাংশ ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এছাড়া সাঁড়া, পাকশী ও লক্ষ্মীকুণ্ডা ইউনিয়নের পদ্মা নদীর তীরবর্তী ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী এসএম আহসান হাবীব বলেন, পদ্মার পানি প্রতিদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

জামালপুর : জামালপুরে যমুনার পানি কমতে শুরু করেছে। তবে পানি চারপাশে ছড়িয়ে ইসলামপুর, দেওয়ানগঞ্জ, মেলান্দহ, মাদারগঞ্জ ও বকশীগঞ্জের নিম্নাঞ্চলের ৬০টি গ্রাম নতুন করে প্লাবিত হয়েছে। কমেনি নিম্নাঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ।

এদিকে পানি প্রবেশ করায় ৪৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করেছে স্থানীয় শিক্ষা বিভাগ। কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, রোপা আমন, মরিচ, অন্যান্য সবজি ও শসার ক্ষেত তলিয়ে গেছে।

কুষ্টিয়া : পদ্মার কড়াল গ্রাসে কুষ্টিয়ার শিলাইদহ কুঠিবাড়ি রক্ষাবাঁধে অব্যাহত ভাঙনে হুমকির মুখে পড়েছে নদীতীরবর্তী এলাকার হাজারো মানুষ। পদ্মার শাখা গড়াই নদীর তীরে সদ্য নির্মিত শেখ রাসেল সেতুও হুমকির মুখে পড়েছে।

পদ্মার তীর ও শিলাইদহ রবীন্দ্র কুঠিবাড়ি সংরক্ষণ বাঁধের ভাঙন পরিদর্শন করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব কবির বিন আনোয়ার। পরিদর্শনকালে সচিব বলেন, যেকোনো মূল্যে ভাঙন থেকে কুঠিবাড়িকে রক্ষা করা হবে। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) মহাপরিচালক প্রকৌশলী মো. মাহফুজুর রহমান।

পানি সচিব বলেন, পদ্মায় পানি অব্যাহতভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় তীব্র স্রোতে পদ্মার তীর ও কুঠিবাড়ি সংরক্ষণ বাঁধের প্রায় ১৫০ মিটার ব্লক বাঁধ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এতে গ্রামের দিকে পানি ধেয়ে গেছে প্রায় ৩০ মিটার। কয়েকটি বাড়িও তলিয়ে গেছে। কুমারখালী উপজেলার কালোয়া খাঁপাড়া এলাকায় সদ্য নির্মিত পদ্মা নদীর ব্লক বাঁধে ভাঙন দেখা দেওয়ার পাশাপাশি প্রায় ৫০ মিটার তলিয়ে যায়। গত শনিবার রাত ২টার দিকে আবারো ভাঙন শুরু হয়। এতে প্রায় ১০০ মিটার জুড়ে ব্লক বাঁধ ভেঙে তলিয়ে যায়।

মাত্র দুই মাস আগে প্রায় ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত শিলাইদহ কুঠিবাড়ি রক্ষাবাঁধ দু’দফা ভাঙনের কবলে পড়ায় ডান তীরের শতাধিক পরিবার ভাঙন আতঙ্কে রয়েছে। তারা সরিয়ে নিচ্ছে বসতবাড়ি ও অন্যান্য স্থাপনা। গড়াই নদীতে সদ্য নির্মিত শেখ রাসেল সেতু ও সেতুর আশপাশ এলাকা ভাঙনের মুখে জানিয়ে এলাকাবাসী প্রশাসনের কাছে দ্রুত ভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুজ্জামান খান জানান, ভাঙন রোধে এরই মধ্যে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

বগুড়া : বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে যমুনার পানি কমতে শুরু করেছে। এদিকে বন্যা ও ভাঙনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে চরের চালুয়াবাড়ি ইউনিয়নে। এখানে যমুনার ভাঙনে ২৫০ পরিবার গৃহহীন পড়েছে। বিভিন্ন চর এলাকার ২১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পানি প্রবেশ করায় পাঠদান বন্ধ রয়েছে। এছাড়া তিনটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পানি প্রবেশ করেছে।

উপজেলা কৃষি অফিস জানিয়েছে, চালুয়াবাড়ি, কাজলা, বোহাইল, হাটশেরপুর, কুতুবপুর ও সদর ইউনিয়নে বন্যায় বীজতলা, রোপা আমন, মাসকলাই, মরিচসহ অন্যান্য ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সারিয়কান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবিহা সুলতানা জানিয়েছেন, উপজেলার বোহাইল, হাটশেরপুর, কাজলা, কর্নিবাড়ি, চালুয়াবাড়ি ও চন্দনবাইশা ইউনিয়নের নিচু এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় আড়াই হাজার পরিবারকে ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। যমুনার পানি আরো কমতে পারে বলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জানিয়েছেন।

কুড়িগ্রাম : কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্র, ধরলা ও তিস্তাসহ সব নদনদীর পানি দ্রুত কমছে। টানা দুই সপ্তাহ ধরে নদনদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় দ্বিতীয় দফা বন্যার সৃষ্টি হয়। ফলে জেলার নদনদীতীরের নিচু এলাকার চরাঞ্চলের ফসল নিমজ্জিত হয়। এখন শুরু হয়েছে কবলিত এলাকায় গবাদিপশুর খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সঙ্কট। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক ড. মোস্তাফিজার রহমান জানান, পানি যেভাবে দ্রুত সরে যাচ্ছে তাতে তেমন বড় ধরনের ক্ষতি হবে না। তাছাড়া কৃষকদের ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে সহায়তা দেওয়া হবে।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, ব্রহ্মপূত্রের পানি চিলমারী পয়েন্টে, ধরলা নদীর পানি ব্রিজ সংলগ্ন স্থানে এবং তিস্তার পানি কাউনিয়া পয়েন্টে অনেক কমে এসেছে।

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads