• সোমবার, ২২ অক্টোবর ২০১৮, ৭ কার্তিক ১৪২৫
ads
পাবনায় খেলার মাঠ দখল করে সার ও কয়লা বাণিজ্য

খেলার মাঠ দখল করে গড়ে উঠেছে সার ও কয়লার বাণিজ্যকেন্দ্র

ছবি -বাংলাদেশের খবর

সারা দেশ

পাবনায় খেলার মাঠ দখল করে সার ও কয়লা বাণিজ্য

  • কানু সান্যাল, পাবনা  
  • প্রকাশিত ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮

পাবনায় খেলার মাঠ দখল করে সার ও কয়লা বাণিজ্য কেন্দ্র গড়ে তুলেছেন প্রভাবশালী ব্যবসায়ীরা। ফলে খেলার সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এলাকার শিশু-কিশোররা। এ ঘটনা ঘটেছে জেলার ঐতিহ্যবাহী নগরবাড়ী নৌবন্দর সংলগ্ন যমুনা নদীপাড়ের রঘুনাথপুর গ্রামে।

জানা গেছে, দেড় দশক আগে এলাকার শিশু-কিশোরদের খেলার জন্য পুরানভারেঙ্গা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান এএম রফিকুল্লাহ মিয়ার উদ্যোগে প্রায় দুই একর জায়গার ব্যবস্থা করে সেখানে একটি খেলার মাঠ নির্মাণ করা হয়। মাঠটির জায়গা স্থানীয় ইউনাইটেড ক্লাবের নামে রেজিস্ট্রিও করে দেওয়া হয়। বিভিন্ন সময় অনুদানের বরাদ্দ দিয়ে মাঠটি সংস্কারও করা হয়। ২০১২ সালে নগরবাড়ী ঘাট এলাকায় তীব্র ভাঙন দেখা দেওয়ার পর পদ্মা-যমুনা নদীভাঙন রোধ প্রকল্পের আওতায় ঘাট রক্ষার জন্য সিসি ব্লক ও বালির বস্তা ফেলার কাজ শুরু হয়। সে সময় নগরবাড়ী ঘাট এলাকার বিভিন্ন স্থানে ঠিকাদাররা তাদের মালপত্র রেখে কাজ শুরু করে। জরুরি কাজের অংশ হিসেবে এ খেলার মাঠটিও ঠিকাদারদের দখলে চলে যায়। ভাঙন রোধের কাজ যথাসময়ে শেষ না হয়ে বিলম্বিত হয়। এতে মাঠটি দীর্ঘদিন ঠিকাদারদের দখলে থাকে। এ সময় এলাকার শিশু-কিশোররা খেলাধুলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হলেও তারা এলাকার ভাঙন রোধের কথা ভেবে কোনো প্রতিবাদ করেনি। এরই মধ্যে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যবসায়ীরা জায়গাটি দখল করে নেওয়ার পাঁয়তারা করতে থাকেন। একপর্যায়ে ভাঙন রোধের কাজে নিয়োজিত ঠিকাদাররা চলে গেলে মাঠটি প্রভাবশালীরা দখলে নিয়ে সার ও কয়লার ডিপো হিসেবে ব্যবহার করতে থাকেন। তারা নগরবাড়ী ঘাটে জাহাজে আসা সার, কয়লা সেখানে স্তূপ করে রেখে জমজমাট ব্যবসা শুরু করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রঘুনাথপুর গ্রামের কয়েকজন প্রবীণ ব্যক্তি বলেন, সবুজে ঘেরা তাদের এই সুন্দর গ্রামটি আজ কিছু প্রভাবশালী ব্যবসায়ীর জন্য বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়ছে। তারা আক্ষেপ করে বলেন, প্রভাবশালীদের ব্যক্তিগত ব্যবসার জন্য এলাকার পরিবেশ হুমকির মুখে। এ ব্যাপারে পুরানভারেঙ্গা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কেএম মনজেল হোসেন বলেন, খেলার মাঠটি কারো ব্যক্তিগত জায়গায় ছিল কি না; বা সে জায়গা মাঠের নামে রেজিস্ট্রি করে দেওয়া হয়েছিল কি না তা তার জানা নেই। তবে আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে একটা সমাধান করা উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।

 

 

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads