• মঙ্গলবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৮, ১ কার্তিক ১৪২৫
ads
ঝাঁকে ঝাঁকে ধরা পড়ছে ইলিশ সর্বত্রই উৎসবের আমেজ

ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়ছে পুলিশের জালে

ছবি : তানভীর আহেমেদ সিদ্দিকী

সারা দেশ

ঝাঁকে ঝাঁকে ধরা পড়ছে ইলিশ সর্বত্রই উৎসবের আমেজ

# চলতি মৌসুমে গত ৬ মাস নদীতে ইলিশের দেখা মেলেনি # দু’সপ্তাহ ধরে জেলেদের জালে ইলিশ ধরা পড়ছে # ৭ থেকে ২৮ অক্টোবর ইলিশ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা

  • প্রকাশিত ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮

মৌসুমের একেবারে শেষ সময় এখন। এই সময়ে ভোলার মেঘনা-তেঁতুলিয়া নদীতে জেলেদের জালে ঝাঁকে ঝাঁকে ধরা পড়ছে ইলিশ। মৌসুমের শুরুতে নদীতে ইলিশের দেখা না পেয়ে জেলেরা যখন দিশাহারা ঠিক সে মুহূর্তে ধরা পড়ছে কাঙ্ক্ষিত ইলিশ। এতে জেলে ও মৎস্য আড়তদারদের মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। সকাল থেকে গভীর রাত অবধি ইলিশে কর্মব্যস্ত সময় কাটছে জেলার প্রতিটি মাছঘাটের ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের। এর প্রভাব পড়ছে সর্বত্রই।

সরেজমিন ভোলার বিভিন্ন মাছঘাট ঘুরে জেলে ও মাছ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ভরা মৌসুমেও উপকূলীয় দ্বীপ জেলা ভোলার নদ-নদীতে ইলিশের দেখা পায়নি জেলেরা। গত এক সপ্তাহ ধরে জেলেদের জালে কাঙ্ক্ষিত ইলিশ ধরা পড়ছে। ক’দিন আগেও যে মাছঘাটগুলোতে ছিল শুনশান নীরবতা, এখন সেখানে আড়তদার আর পাইকারের হাঁকডাকে মুখর হয়ে উঠেছে। একটু পর পরই মাছ ধরার ট্রলার বোঝাই ইলিশ নিয়ে সাগর ও নদী থেকে মাছঘাটে ফিরছে জেলেরা। ঘাটে নৌকা অথবা ট্রলার ভেড়ানোর সঙ্গে সঙ্গেই হাঁকডাক দিতে থাকেন বেপারিরা। জেলেরা ঝুড়িতে করে বিভিন্ন সাইজের ইলিশ নির্দিষ্ট গোলায় রাখে। মুহূর্তের মধ্যেই সেই ইলিশ কিনতে নিলামে ডাক উঠে যায়। স্থানীয় বেপারিদের মধ্যে সর্বোচ্চ মূল্যদাতাই সেই মাছ কিনে নিচ্ছেন। প্রতিদিন এভাবেই জেলা সদরের বঙ্গেরচর থেকে চরফ্যাশন উপজেলার সামরাজ ও মনপুরা পর্যন্ত শতাধিক মাছঘাট থেকে প্রতিদিন ৪-৫ কোটি টাকার ইলিশ মাছ ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন মোকামে যাচ্ছে।

তবে ইলিশ ধরা পড়লেও স্বস্তি নেই জেলেদের। কারণ ভরা মৌসুমে বেশি মাছ ধরার আশায় ধার-দেনা করে মাছ ধরতে নেমেছে তারা। অথচ আগামী ৭ অক্টোবর থেকে ২২ দিনের জন্য মা ইলিশ রক্ষায় নদীতে সব ধরনের মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে মৎস্য বিভাগ। এতে জেলে এবং মাছ ব্যবসায়ীদের মধ্যে হতাশা নেমে এসেছে। তাই জেলে এবং মাছ ব্যবসায়ীদের কথা চিন্তা করে নিষেধাজ্ঞার সময়সীমা পরিবর্তনের দাবি তাদের।

সদর উপজেলার তুলাতলী মাছঘাটে জেলে খোরশেদ আলম ও ইউসুফ জানান, চলতি মৌসুমে গত ৬ মাস নদীতে ইলিশের দেখা মেলেনি। গত দু’সপ্তাহ ধরে জেলেদের জালে ইলিশ ধরা পড়ছে। এক মাস আগেও ভোলার নদ-নদী ছিল ইলিশশূন্য। এখন জেলেদের জালে কাঙ্ক্ষিত ইলিশ ধরা পড়ছে। এতে করে জেলেদের মধ্যে আনন্দ বিরাজ করলেও মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা নিয়ে তিনি শঙ্কা প্রকাশ করেন। মাছ ধরায় অবরোধ পিছিয়ে না দিলে সমিতির কিস্তি শোধ করা কষ্টসাধ্য হবে বলেও জানান তারা।

তুলাতলী মাছঘাটের আড়তদার বজলু বেপারি ও মো. হেলাল উদ্দিন জানান, ১০ দিন আগেও একজন জেলে প্রতিদিন মাত্র ২-৩ হাজার টাকার মাছ পেত। আর এখন একজন জেলে প্রতিদিন প্রায় ২০ হাজার টাকার মাছ পাচ্ছে। দামও আগের চেয়ে কম। তারা আরো বলেন, ৫০০ গ্রাম ওজনের প্রতি হালি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৮০০-৯০০ টাকায়। এক কেজি ওজনের প্রতি হালি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে প্রায় ২২০০ টাকায়। আর জাটকার হালি বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ২০০ টাকায়।     

ভোলা জেলা মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি মো. এরশাদ বলেন, প্রতিদিন জেলার চরফ্যাশন উপজেলার সামরাজ থেকে বঙ্গেরচর পর্যন্ত শতাধিক মাছঘাটের প্রায় ৫ কোটি টাকার ইলিশ মাছ ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন মোকামে যাচ্ছে।

ভোলা সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান জানান, এ বছর ইলিশের প্রাপ্তিটা একটু শেষ দিকে হয়েছে। দেরিতে হলেও কাঙ্ক্ষিত ইলিশ ধরা পড়ায় জেলেরাও খুশি, আমরাও খুশি। তিনি আরো বলেন, গত অর্থবছরে ভোলায় ইলিশের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ২৫ হাজার টন। আর সে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে উৎপাদন হয়েছে ১ লাখ ২৯ হাজার টন। এ বছর উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ১ লাখ ২৫ হাজার টন ধরা হলেও যে হারে ইলিশ আহরণ হচ্ছে তাতে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে কি না তা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। আগামী ৭ অক্টোবর থেকে মা ইলিশ রক্ষায় যে কার্যক্রম শুরু হচ্ছে সেটা গবেষণার বিষয়। এ সময়টাতেই ইলিশ মাছ ডিম ছাড়ে। সুতরাং জেলেদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে মাছ ধরার অবরোধ পেছানোর কোনো সুযোগ নেই বলেও জানান এই কর্মকর্তা।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads