• সোমবার, ২২ অক্টোবর ২০১৮, ৭ কার্তিক ১৪২৫
ads
জেলা-উপজেলা পর্যায়ে ডুবুরি না থাকায়, উদ্ধার কাজ ব্যহত

সারিয়াকান্দি ফায়ার স্টেশন

ছবি : বাংলাদেশের খবর

সারা দেশ

জেলা-উপজেলা পর্যায়ে ডুবুরি না থাকায়, উদ্ধার কাজ ব্যহত

  • তাজুল ইসলাম, সারিয়াকান্দি (বগুড়া) প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮

জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সে ডুবুরি না থাকায় উদ্ধার কাজ ব্যহত হয়ে আসছে। এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা বিভাগীয় স্টেশনের ন্যায় জেলা-উপজেলা পর্যায়ে ডুবুরি নিয়োগের মাধ্যমে সমস্যার আশু সমাধান সম্ভব। বাড়বে ফায়ার সার্ভিস সেবার গুরুত্ব। বিশেষ করে নদীর তীরবর্তী এলাকার ফায়ার স্টেশনগুলোতে এর গুরুত্ব অপরিসীম। সমস্যাটির স্থায়ী সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট দফতর স্থানীয় সাংসদ নেতার আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছেন সুশীল সমাজ।

সরেজমিনে জানা গেছে, বগুড়ার সর্বাধিক পরিচিত ও আলোচিত যমুনা নদীর কূল ঘেষে গড়ে উঠেছে সারিয়াকান্দি উপজেলাটি। এ উপজেলার ফুলবাড়ি ইউনিয়নের অভ্যন্তরের রয়েছে সারিয়াকান্দি ফায়ার স্টেশন। জানা গেছে, এ উপজেলাকে যমুনা ছাড়াও মাকড়োসার জালের মতো ঘিরে রেখেছে ছোট-বড় বাঙ্গালী নদী। রয়েছে ছোট-বড় হাজারো খাল ও ডোবা। নদী বিধৌত এলাকা হওয়ায় মাঝে মধ্যেই কোন না কোন স্থানে পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনা সহ ঘটছে অসংখ্য অনাকাঙ্খিত ঘটনা। কিন্তু স্থানীয় ফায়ার স্টেশনে কিংবা জেলা শহরের ফায়ার স্টেশনে ডুবুরি না থাকায় উদ্ধার কাজ চালাতে গিয়ে বিপাকে পরেছেন ফায়ার কর্মীরা। আরও জানা যায় এখানে জেলা-উপজেলা শহরে ডুবুরি না থাকায় রাজশাহী বিভাগীয় শহর থেকে ডুবুরির সহযোগিতা নিতে হচ্ছে স্থানীয় স্টেশনদের।

কালিতলা ও প্রেম যমুনার ঘাট এলাকার লোকজনের সঙ্গে কথা হলে তারা বলেন, উপজেলাটি যমুনার তীরবর্তী হওয়ায় এখানে গড়ে উঠেছে কালিতলা ও প্রেম যমুনার ঘাট ও দিঘলকান্দি ফিসপাস (সুইচ গেইট) সহ একাধিক বিনোদন কেন্দ্র। দুই ঈদ, পহেলা বৈশাখ সহ সাপ্তাহিক ছুটির দিনে দুুর দুরান্ত থেকে ঘুরতে আসে হাজারো দর্শনার্থী। নেমে আসে মানুষের ঢল। যমুনার পারে বসে প্রাকৃতিক সৌন্দর্র্য উপভোগ করে সকলে। অনেকেই যমুনার পানি নিজ হাতে পরখ করার জন্য নদীতে গোসল করতে নামে। এদের মধ্যে সাঁতার না জানার কারণে অনেকেই পানিতে ডুবে যায়। কিন্তু স্থানীয়ভাবে দ্রুত উদ্ধার কাজ করতে না পারায় পানিতে ডুবা ব্যক্তিদের জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়না। জোড়গাছা গ্রামের কলেজ পড়–য়া রাজু আহমেদ রঙ্গন বলেন, ঈদুল ফিতরের ঈদের দ্বিতীয় দিন এ গ্রামের জোড়গাছা পশ্চিমপাড়া বাঙ্গালী নদীতে গোসল করতে নেমে সুমনা (৭) নামের শিশুর মৃত্যু হয়। স্থানীয় সাংবাদিক তাজুল ইসলামের সহযোগিতায় রাজশাহী থেকে ডুবুরি নিয়ে এসে ডুবে যাওয়ার ৫ঘন্টার মাথায় তাকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। যদি স্থানীয় ফায়ার স্টেশনে ডুবুরি থাকত তাহলে নিখোঁজ পরিবারের আহাজারি একটু হলেও কম হতো।

এদিকে সারিয়াকান্দির প্রধান দর্শনার্থী স্থান কালিতলা ও প্রেম যমুনার ঘাটে ঘুরতে আসা, আতিক, শ্যামল, আরাফাত, আবির, আশরাফুল, ফজলুল করিম, তাজউদ্দিন আহমেদ, আরজিনা, রোকেয়া ও শম্পা সহ নাম না জানা কয়েকজনের সঙ্গে কথা হলে প্রত্যেকেই জানান, উপজেলাটি একটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আবাসভূমি হিসাবে খ্যাতি লাভ করছে। যার কারণে আমরা প্রাকৃতিক দৃশ্য সূর্য ডোবা, পাল তোলা নৌকা, ফিসপাস দিয়ে পানিপারাপারের দৃশ্য উপভোগ করতে আসি। এছাড়াও এখানে যমুনার চরে কাঁশবণ, যমুনার স্বচ্ছ পানি আমাদের জেলে ও বর্শিয়ালদের মাঝ ধরার দৃশ্য আমাদে মুগ্ধ ও অভিভূত করে। সুযোগ পেলেই পরিবার পরিজন নিয়ে বিনোদন উপভোগ করার জন্য ঘুরতে আসি। এখানে এসে নদীর পারের সংগ্রামী জীবন দেখে আমাদের ভিতরে সংগ্রামী চেতনায় উদবুদ্ধ হই। আমাদের মাঝে অনেকেই যমুনার স্বচ্ছ পানিতে গোসল করতে নেমে সাঁতার না জানার কারণে পানিতে ডুবে যায়। কিন্তু স্থানীয় ফাঁয়ার স্টেশনে ডুবুরি না থাকায় আমরা কোন সহায়তা পাইনা। যার ফলে দ্রুত পানিতে ডুবা ব্যক্তিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়না। এ উপজেলায় যদি অগ্নিনির্বাপক কর্মীর পাশাপাশি ডুবুরি থাকতো তাহলে অনাঙ্খিত ঘটনা থেকে অনেকটা রেহায় পাওয়া যেত। সুশীলসমাজের দাবি দেশে মেঘা প্রকল্পের নামে কোটিকোটি টাকা অন্যত্র না ছিটিয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সে ডুবুরি নিয়োগের উদ্যোগ নিলে দেশে একদিকে যেমন বেরারত্ব হ্রাস পাবে কমবে অনাকাঙ্খীত ঘটনা।

সারিয়াকান্দি ফায়ার স্টেশন কমান্ডারের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, আমাদের এখানে ডুবুরি না থাকায় এ এলাকায় কেউ পানিতে ডুবে নিখোঁজ হলে রাজশাহী থেকে ডুবুরি নিয়ে উদ্ধার কাজ পরিচালনা করতে হয়। বিষয়টির স্থায়ী সমাধানের জন্য উপজেলা মাসিক সমন্বয় সভায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে।

উপজেলা চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মাছুদুর রহমান (হিরু মন্ডল) বলেন, এ উপজেলাটি নদী মাতৃক হওয়ায় মাঝে মধ্যেই উপজেলার কোন না কোন যায়গায় পানিতে ডুবে লোক নিখোঁজের ঘটনার খবর পাওয়া যায়। কিন্তু স্থানীয় স্টেশনগুলোতে ডুবুরি না থাকায় দ্রুত উদ্ধার করা যায় না। যদি জেলা-উপজেলাতে ডুবুরি নিয়োগের ব্যবস্থা করা হতো তাহলে অনেকটা সুবিধা হতো।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইওএনও) সাবিহা সুলতানা, বাংলাদেশের খবরকে জানান, উপাজেলাটি নদী বিধৌত এলাকা হওয়ায় এখানে ডুবুরি নিয়োগের দাবিটি অত্যন্ত গুরত্বপূর্ণ। ইতোমধ্যে এ উপজেলায় ডুবুরি চেয়ে জেলা প্রসাশক বরাবর চাহিদা পাঠানো হয়েছে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads